নারদ নদ দুষণ : প্রাণ এগ্রো ও যমুনা ডিস্টিলারিকে সতর্ক

আপডেট: জুন ১৬, ২০১৭, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


নারদ নদ দুষন না করতে প্রাণ এগ্রো লিমিটেড এবং যমুনা ডিস্টিলারিকে সতর্ক করলেন নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন। শাহিনা খাতুন বলেন, প্রাণ এগ্রো, যমুনা ডিস্টিলারি, কিষোয়ান এগ্রো এবং নাটোর সুগার মিল নারোদ নদকে বছরের পর পর দুষণ করে আসছে। নদে বিষাক্ত রাসিয়নিক মিশ্রিত পানি ফেলে নারদকে মেরে ফেলেছে। পাশাপাশি প্রভাবশালী অবৈধ দখলদার, অপরিকল্পিত ব্রিজ এবং রাস্তার কারণে নারোদ নদ মরে গেছে। যে কোন কিছুর বিনিময়ে নারদকে সচল করতে বদ্ধ পরিকর জেলা প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নারদ নদের অবৈধ দখল উচ্ছেদ , দুষণ মুক্ত , নাব্যতা রক্ষাসহ নদের পানি প্রবাহ অব্যাহত রাখার বিষয়ে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন। এসময় প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের উপ মহাব্যবস্থাপক হযরত আলী বলেন, প্রাণ তাদের বর্জ পরিশোধন করেই নদীতে ফেলছে। কিন্তু জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন প্রাণের এমন বক্তব্যকে অসত্য বলে তিনি বলেন, তিনি নিজে পরিদর্শন করে দেখেছেন যে প্রাণ এগ্রো তাদের ইটিপি সার্বক্ষনিক চালু রাখে না। যদি ইটিপি চালু থাকতো তাহলে এমন সমস্যা হতো না দাবি করে জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ‘এই মুহুর্ত থেকে আর কোন বর্জ নারদ নদে ফেলবেন না।’
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহনিা খাতুন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন নাটোর পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জলি , পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার , প্রাণ এগ্রো লিমিটিডের ডিজিএম হযরত আলী, টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটি নাটোর শাখার সভাপতি রেজাউল করিম রেজা, নদী গবেষক যশোধন প্রামাণিক, বেলার রাজশাহী অঞ্চলের সমন্বয়ক তন্ময় কুমার স্যার্ন্যাল, এনজিও এসাসিয়েশন নাটোরের সভাপতি শিবলী সাদী প্রমুখ। সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পাওয়ার প্রেজেন্টটেশনের মাধ্যমে নারদ নদে পানি প্রবাহে ৩৭ টি প্রতিবন্ধক সচিত্র ভাবে উপস্থাপন করে বলেন, নদী দখল করে এলজিইডি ও স্থানীয় সরকার বিভাগ রিং কালাভার্ট, ব্রিজ এবং রাস্তা নির্মাণ করেছেন । অন্যদিকে কোথাও কোথাও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ নদ দখল করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। এসকল বাধা ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা গেলে নদে পানি প্রবাহ রাখা সম্ভব। অপরদিকে জেলা প্রশাসক দৃঢ়তার সাথে এসকল প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে নদে পানি প্রবাহ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, যে কোন মূল্যে নারদ নদে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি ঘোষণা করেন ঈদের পরে যে সমস্ত স্থানে মাটি ফেলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয়েছে সেগুলো অপসারন করা হবে। একই সাথে নাটোরের শিল্প কারখানা গুলোকে হুশিয়ারী দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এখন থেকে শুরু হলো নারদ নদের সংস্কার কাজ। কেউ আর নদে দুষিত বর্জ্য ফেলবেন না। যদি ফেলেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নারদ নদ পরিচ্ছন্ন ও সংস্কার কাজে সকলের সহযোগিতা কামনা করে জেলা প্রশাসক বলেন , নদী রক্ষায় ঈদের পরে আরো একটি সভা আহবান করা হবে। ওই সভায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের সকলের উপস্থিতিতে একটি সমন্বিত কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। উল্লেখ্য নারদ নদ সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে সচেতন নাগরিক কমিটির ব্যানারে নাটোরের সাধারণ মানুষ। তারা নাটোরের লাইফ লাইন নারদ নদ অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নদ খনন , চারঘাট স্লুইস গেট অপসারণ এবং নারদ নদে ভারী শ্ল্পি কারখানার দুষিত বর্জ্য নিক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। সচেতন নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন ,ঈদের পরে নারদ নদ সংস্কারের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।