নারদ নদ রক্ষার আন্দোলন || রাজনৈতিক সদিচ্ছা চাই

আপডেট: জুলাই ২৯, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

নারদ নদ, নাটোরের অববাহিকা। মধ্য শহর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এখন অবশ্য নারদকে নদ বা নদী বলা যায় ন। বরং এটি এখন সংকীর্ণ খাল, মশা উৎপাদনের ক্ষেত্র। অর্থাৎ ময়লা- আবর্জনায় পূর্ণ, সেই অর্থে ময়লা ও দুষিত পানির ক্ষীণ প্রবাহ আছে মাত্র। নাটোর চিনিকলের বর্জ পানি মিশে স্বাস্থ্যঝুঁকির মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
নাটোরবাসী বেশ সোচ্চার এখন। তাদের দাবি ‘নারদ নদকে অবৈধ দখলমুক্ত কর, প্রবাহ ফিরিয়ে আনো’। দাবি শতভাগ সঙ্গত কিন্তু নদকে দখলমুক্ত করবে টা কে?  এখানেই সমস্যা যত। যারা দখল করে তারা তো আর যে সে মানুষ নয়Ñ অনেক প্রভাবশালী হয় তারা। কেউ কেই দখলীয় সম্পত্তির বৈধ (!) কাগজও হয়ত বানিয়ে নিয়েছে। নদকে দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা আছে। এর সাথে রাজনীতি আছে, ভোটের বোঝাপড়া আছেÑ এসব উপেক্ষা করা মোটেও সহজ কাজ নয়। নাটোরবাসী তো দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে, কই কিছুই তো হয় না! ছোট ছোট উদ্যোগ সাড়া জাগায়, প্রত্যাশা জাগায়Ñ অনেক অনেক প্রতিশ্রুতি আসে রাজনীতিকদের কাছ থেকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিন্তু সবকিছু এক সময় থেমে যায়।
নদী বাঁচাও আন্দোলন দেশ জুড়েই হচ্ছে। কারণ সমস্যাটি শুধু নাটোরের নয়, এটি একটি জাতীয় সমস্যা। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে রক্ত শিরার মত বয়ে যাওয়া অনেক নদীই তার অস্তিত্ব হারিয়েছে। আবার অনেকগুলো হারাতে বসেছে।  নদী ভরাট হয়ে যাওয়া, অবৈধ দখল এবং অপরিকল্পিত বাঁধ দেয়ার ফলে অসংখ্য নদী মৃতপ্রায়। নদী পরিবেশ সুরক্ষার সাথে, মানুষ ও প্রাণীর বেঁচে থাকার স্বার্থেই খুব বেশি প্রয়োজন। এটা নদী ও মাটির সাথে নিবিড় মানুষমাত্রই বোঝেন কিন্তু যারা স্বার্থান্বেষী লোভি মানুষ তাদের লোভকে কোনোভাবেই নিবৃত করা যাচ্ছে না। তাদের থাকে রাজনৈতিক প্রভাব, আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকে, একইভাবে প্রশাসনের সহায়তা। অবশ্য প্রশাসনের উদাসীনতা আবার অসহায়ত্বও আছে। অনেক সময় প্রশাসনের উদ্যোগ থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে তাদের হার মানতে হয়। পাবনার জেলা প্রশাসন ইছামতি নদীর জন্য, নাটোরের জেলা প্রশাসন নারদ নদের প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে জনগণের সাথেই আছে। তাতে যে কাজের কাজ হচ্ছে এখনো সে কথা বলার সময় আসেনি। তবে প্রশাসনের এই সম্পৃক্তি মানুষের আন্দোলনে প্রাণ সঞ্চার করেছে।
নারদ নদের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, শিল্প কলকারখানার বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা, পরিকল্পিত খনন ও সংস্কার এবং রাজশাহীর চারঘাটের স্লুইজ গেট অপসারণ করে নদে পানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার কার্যক্রম শুরু না করলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে নাটোরবাসী। ২৩ জুলাই টিআইবি’র সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) উদ্যোগে নাটোর প্রেসক্লাবের সামনে মানবন্ধন কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়।
নাটোরবাসীর ‘নারদ বাঁচাও আন্দোলন’ সময়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এই দাবি একটি রাজনৈতিক, সামজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশ সুরক্ষার দাবি বটে। ইস্যুটিকে সেভাবেই বিবেচনা করতে হবে। এরজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা যেমন দরকার তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সদিচ্ছায় বাধ্য করাটাও লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। এলাকার স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশ রক্ষায় যে বা যারা কাজ করবে না তারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য হতে পারে না। জনগণের অবস্থান ও ঐক্য সেখানেই মজবুত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ