নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ।। সুষ্ঠু নির্বাচনের এই সংস্কৃতি অব্যাহত থাকুক

আপডেট: ডিসেম্বর ২৪, ২০১৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শাখাওয়াত হোসেনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এই নিয়ে তিনি পর পর দু’বার নারায়ণগঞ্জের মেয়র নির্বাচিত হলেন।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বেসরকারি ফলাফল ঘোষিত হয়। ১৭৪টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে আইভী পেয়েছেন মোট ১,৭৫,৬১১ ভোট। অন্যদিকে শাখাওয়াত হোসেন পেয়েছেন ৯৬,০৪৪ ভোট।
সবকিছু মিলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত ভোট নিয়ে কোনো অভিযোগও কেউ করেনি। অর্থাৎ বর্তমান নির্বাচন কমিশন একেবারে মেয়াদের শেষ প্রান্তে এতে সবার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করে দৃষ্টান্তও স্থাপন করলেন। বিএনপির সেনা মোতায়েনের দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার সদস্য মোতায়েন ছিল পৌনে ৫ লাখ ভোটারের নগরী নারায়ণগঞ্জে, এর মধ্যে বিজিবিও ছিল।
নির্বাচনের আগে দু’জন মূল প্রতিদ্বন্দ্বীই বলেছিলেন যে, ফলাফল যাই হোক তারা জনরায় মেনে নেবেন। মেনেও নিয়েছেন তাঁরা। যদিও বিএনপির মুখপাত্র দাবি করেছেন ‘ ভোট সুষ্ঠু হয়েছে কিন্তু গণনায় কারচুপি হয়েছে’। অবশ্য বিএনপির এই দাবির বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব পাবে বলে মনে হয় না, কেননা কোন পক্ষই বিশেষ করে গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষক যারা ছিলেন তাদের কাছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলেই তারা উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবারের ভোটচিত্র দেখে নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমান ইসির সময়ে অনুষ্ঠিত সব খারাপ দৃষ্টান্ত থেকে ভালোর পথে একটা রূপান্তর এই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন।
ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে সহিংসতা আর গোলযোগের পর নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন ঘিরেও ছিল অনেকের শঙ্কা; সাত খুনের ঘটনাসহ নানা কারণে আলোচিত এই নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কেন্দ্র। কিন্তু শঙ্কা মুছে দিয়েই ভোট হয়েছে নারায়ণগঞ্জে, যাতে ভোটারদের মধ্যে কোনো অস্বস্তি দেখা যায়নি; প্রার্থীদের কণ্ঠেও শোনা যায়নি অন্য সব ভোটের মতো অভিযোগের সুর।
সহিংসতা-বর্জনের ধারাবাহিকতার বিপরীতে অনুষ্ঠিত হওয়া নারায়ণগঞ্জের চিত্র আগামীতে ভোটের পরিবেশ বদলাতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা পর্যবেক্ষকদের।
আপাতভাবে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হলেও নাসিক নির্বাচন তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও এবং আগামীতে রাজনৈতিক আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই নির্বাচন বেশ সহায়ক হবে বলেই মনে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মধ্যে নানা ধরনের দোদুল্যমানতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে সাংগঠনিকভাবে সংগঠিত হওয়ার পথ তৈরি করে দিয়েছে এই নির্বাচন। বিএনপির প্রাপ্ত ভোট সংখ্যায় বলে দেয় যে, নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে তাদের জনবিচ্ছিন্নই হতে হয়েছে শুধু তাই নয়- তাদের সমর্থকদের মধ্যেই হতাশা ও গ্লানিবোধের সৃষ্টি করেছিল।  বিএনপির সাংগঠনিক ক্ষমতা বা সক্ষমতা যে আছে এবং সুষ্ঠু রাজনৈতিক ধারার মধ্যে যে কর্মী-সমর্থকরা উজ্জীবিত হয় সেটাও নাসিক নির্বাচন প্রমাণ করেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সংগঠনের ভিত্তি দাঁড় করান যাবে না এই সত্যটি সামনে এসেছে। আমরা আশা করি বিএনপি তাদের অতীতের জ্বালাও পোড়াও ও ধ্বংসের রাজনীতি থেকে নিজেদের গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনবে। নিশ্চয় রাজনীতিতে সফল হওয়ার এটিই একমাত্র পথ যে, জনগণকে সম্পৃক্ত করেই এগুতে হবে।
নাসিক নির্বাচন যাতে দৃষ্টান্তই হয়ে না থাকে, আগামী নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রেও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ