নারীরা সবক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে ।। আর্ন্তজাতিক নারী দিবসে রেণী

আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৭, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘নারী-পুরুষ সমতায় উন্নয়নের যাত্রা, বদলে যাবে বিশ্ব, কর্মে নতুন মাত্রা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মনববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এ মনববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সমাজসেবী শাহীন আক্তার রেণী ও জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাহানাজ বেগমসহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তারা।
বক্তব্যে শাহীন আক্তার রেনী বলেন, দেশের সবক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী উন্নয়নের অগ্রদ্রুত। নারীদের সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষা ও চাকরিসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, এডিডি ইন্টারন্যাশনালের জেলা সমন্বয়কারী নাহিদা সুলতানা, রজনীগন্ধা প্রতিবন্ধী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আসাদুজ্জামান চৌধুরী রাসেল, সংস্থার সভাপতি শারমিন বেগম, বিজয় প্রতিবন্ধী সংস্থার সভাপতি শেক আবু তারেক মুকুল, এডিডি ইন্টারন্যাশনালের কমিউনিটি মোবেলাইজার মাহবুব আলম মুকুল।
এদিকে ‘নারী পুরুষ সমতা উন্নয়নের যাত্রা : বদলে যাবে বিশ্ব, কর্মে নতুন মাত্রা’ প্রতিপাদ্যে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে এ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকতার কার্যালয় ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসিডি : এদিবস উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্টের (এসিডি)’ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১ টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসিডির নির্বাহী পরিচালক সালীমা সারোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রাজশাহী জেলা মহিলা পরিষদ সভাপতি কল্পনা রায় ও লফস, সচেতনসহ অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, এসিডির প্রোগ্রাম অফিসার বিলকিস আরা চৌধুরী।
সভায় বক্তারা বলেন, রাজশাহীতে প্রতিনিয়ত নারীর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীরা বর্তমানে ঘরে-বাইরে সর্বত্রই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পরিবার, যানবাহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বক্ষেত্রে এরুপ ভীতিকর অবস্থা তৈরি হয়েছে। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, অসচেতনতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, নারীর ক্ষমতায়নহীনতা, আইনের অকার্যকারীতা, জড়িতদের শাস্তি না হওয়া এবং সমাজ ব্যবস্থার নানা ক্রটি ইত্যাদি কারণে এ অঞ্চলে এসব ঘটনা বাড়ছে। তাই এসব প্রতিরোধে নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরী। তাই সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য মূল ৩০০ আসনের মধ্যে কমপক্ষে ১০০ আসনে নারীদের সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ দেয়া দরকার ।
লিখিত বক্তব্যে বিলকিস আরা চৌধুরী বলেন, জেলায় গত এক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। এতে দেখা যায় রাজশাহী জেলার মহানগর ও বাইরের নয়টি থানায় গত এক বছরে (মার্চ ২০১৬-ফেব্রুয়ারি ২০১৭) মোট ৪৮৭টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ২৬৩টি ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ২২৪টি। আর্ন্তজাতিক নারী দিবস-২০১৭ উদযাপনের জন্য এসিডি পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচী গ্রহন করেছে। এরমধ্যে ৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নগরীর আলুপট্টি থেকে ভূবন মোহন পার্কে মোমবাহি প্রজ্জ্বলন, ৮ মার্চ সকাল ৯টায় আলুপট্টি থেকে সাহেববাজার র‌্যালি ও বিকেল ৪টায় পদ্মার পাড়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
জাতীয় মহিলা সংস্থা : আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘নারী-পুরুষ সমতায় উন্নয়নের যাত্রা, বদলে যাবে বিশ্ব, কর্মে নতুন মাত্রা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মনববন্ধন ও পথসভার অনুষ্ঠিত করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সংস্থার চেয়ারম্যান মর্জিনা পারভীন প্রমুখ।
এসবিএমএসএস : আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘নারী-পুরুষ সমতায় উন্নয়নের যাত্রা, বদলে যাবে বিশ্ব, কর্মে নতুন মাত্রা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মনববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় স্বচ্ছাসেবী বহুমুখি মহিলা সমাজ কল্যাণ সমিতি এসবিএমএসএস এর কর্মী ও যুব নারী ফোরাম সদস্যসহ এ মানববন্ধন ও পথসভা প্রায় ২৫জন অংশগ্রহণ করেন।
নারী দিবস উদযাপনের মাধ্যমে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং নারী পুরুষের কর্ম ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে সকলে একত্রিত হয়ে একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির অঙ্গীকারে র‌্যালি শেষে আলুপট্টির মোড়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভার ও আয়োজন করা হবে। উল্লেখ্য যে, একশনএইড বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশ ফায়ারস্টার্টার ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পটি রাজশাহী বিভাগে ১৫ টি সংগঠন নিয়ে ২০১৭ সালে কাজ করছে, যার মূল লক্ষ্য সুবিধা বঞ্চিত যুবদের দক্ষতা বৃদ্বির মাধ্যমে নেতৃত্বের অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যেন তারা তাদের চাহিদা নিরুপনে সক্ষম হয় এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগের ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়।