নারী কাউন্সিলরের কাণ্ড || তানোরে ২ মাসে আদিবাসীসহ ৪০জনের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা

আপডেট: জুলাই ২, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি  


রাজশাহীর তানোর মুন্ডুমালা পৌর সভার সাবেক এক নারী কাউন্সিলর তার বিক্রিত জমি দখলের জন্য গ্রামের মৃত ব্যক্তি প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও আদিবাসিসহ ৪০ কৃষকের বিরুদ্ধে দুই মাসের মধ্যে ৮টি মামলাসহ অসংখ্য জিডি দায়ের করেছেন। অপর দিকে কাউন্সিলরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ৩টি পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। গ্রামবাসী তাদের উপর দায়ের করা মামলার বিষয়ে সঠিক তদন্তের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মামলার বিবরন ও  ভুক্তভোগী গ্রামাবাসী সুত্রে জানা গেছে, মুন্ডুমালা পৌর এলাকার জোতগরীব গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মুন্ডুমালা পৌর সভার সংরক্ষিত ৩নম্বর আসনের সাবেক নারী কাউন্সিলর সখিনা বেগমের স্বামী এমদাদুল হক ও তার ২ ভাই গত প্রায় ৩০বছর আগে তাদের জমি এলাকার বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছে পর্যায়ক্রমে বিক্রি করে দেন। ওই জমি গুলো জোতগরীব গ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ কিনে খাজনা খারিজ করে ভোগ দখল করে চাষাবাদ করে আসছিলেন।
এ অবস্থায় কোন কাগজ পত্র না থাকলেও গত ২মাস আগে থেকে ওই জমিগুলো দখল করার জন্য রাজশাহীর কোর্টে একের পর এক মামলা দায়ের করে হয়রানি শুরু করেছেন সাবেক ওই নারী কাউন্সিলর সখিনা বেগমের স্বামী এমদাদুল হক । তার দায়ের করা এসব মামলায় মৃত ব্যাক্তি, প্রবাসী যুবক, আদিবাসী, ব্যবসায়ী ও এলাকার কৃষকরাও রয়েছেন। মামলায় এমদাদুল হক উল্লেখ্য করেছেন যে তার দখলীয় জমি বিভিন্ন সময়ে এলাকার লোকজন জবর দখল করে জমিতে তার লাগানো ফসল জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে জোতগরীব গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে শরিফুল ইসলাম বলেন, ৩০বছর আগে এমদাদুলসহ তার আরো ২ভাই তাদের জমি এলাকার বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করেছেন, ক্রয়কারীরা খাজনা খারিজ করে চাষাবাদ করে আসছেন। এমদাদুলের ওই ২ভাই কোন ঝামেলা না করলেও গত পৌর নির্বাচনে এমদাদুলের স্ত্রী ফেল করার পর থেকেই গ্রামবাসীর সাথে বিভিন্ন সময়ে কারণে অকারণে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভিতী ও মামলা হামলার হুমকি দিয়ে আসছিল। হঠাৎ কোন কারণ ছাড়াই গত ২মাস আগে থেকে গ্রামের লোকজনের উপর একে একে মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করেছে এমদাদ ও স্ত্রী সখিনা।  এই ভাবে গত ২মাসে ৮টি মামলাসহ বেশ কিছূ জিডি করেছে তারা। ওই পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ৩টি পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মুন্ডুমালা পৌর সভার সাবেক নারী কাউন্সিলর সখিনা বেগম ও তার স্বামী এমদাদুল হক এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি না হয়ে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ