নারী দিবস ও সমাধিকার

আপডেট: মার্চ ৮, ২০১৭, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

শাহ মো. জিয়াউদ্দিন
আজ ৮ মার্চ আর্ন্তজাতিক নারী দিবস। দিবসটি এক রকম উৎসবে পরিণত হয়ে গেছে, তার মুল তাৎপর্য থেকেও দিবসটি দিন দিন সরে আসছে। নারী দিবস এবং মে দিবসের অন্তর্নিহিত উদেশ্য একই সূত্রের গাথা। নারী দিবসের মূল তাৎপর্য পালনকারীরা কতটুকু জানে তা নিয়ে রয়েছে নানা রকমের প্রশ্ন। সারা দেশ আজ উৎসবের আমেজে মেতে উঠবে। পালনকারীদেরকে প্রশ্ন করলে হয়তো আজকের দিনের প্রতিপাদ্যটি বলবেন মুখস্থ কিন্তু দিবসটির সূচনা বা তার অর্ন্তনিহিত উদ্দেশ্যটার প্রতিফলন তাদের অনেকের মাঝে দেখা যাবে না।
এই দিবসটি পালনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে আমেরিকার নিউইর্য়কে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট, কর্মক্ষেত্রের মানবিক পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সংঘবদ্ধভাবে মিছিল করে নারী শ্রমিকেরা সেদিন অধিকার আদায়ের স্লোগানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথ কাপিয়ে তুলে। নারী শ্রমিকদের এই আন্দোলন দমনে পীড়ন চালায় শাসক গোষ্ঠির লাঠিয়াল বাহিনী। নারী শ্রমিকদের সেদিনকার মিছিলটা সরকারের পেটুয়া বাহিনী প- করে দিয়েছিল কিন্তু অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে তারা স্তব্ধ করতে পারেনি। তাদের এই আন্দোলন আমেরিকা থেকে ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে। জার্মানির কমিউনিস্ট নেত্রী ক্লারা জেটকিন দুনিয়ার শ্রমজীবী নারীদের অধিকার আদায়ের ডাক দেন। তিনি সম্মিলিতভাবে  বিশ্ব নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটান। ক্লারা জেটকিন ছিলেন জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। ১৯০৮ সালে আমেরিকার নিউইউর্য়কে ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষে বিশ্বের প্রথম নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে দ্বিতীয়বার বিশ্বের নারীরা সম্মেলনে মিলিত হন। দ্বিতীয় নারী সম্মেলনে ১৭ টি দেশের ১০০ জন নারী প্রতিনিধি যোগ দেন। এই সম্মেলনে ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আর্ন্তজাতিক নারী দিবস হিসাবে পালনের প্রস্তাব দেন। সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয় যে, ১৯১১ সাল থেকে নারীদের সমাধিকার দিবস হিসাবে ৮ মার্চ দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসেন পৃথিবীর কমিউনিস্ট নেতৃত্ব। ১৯১৪ সাল থেকে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে নারী দিবস পালিত হতে থাকে। পাকিস্তানি শাসনাধীন বাংলায় এদেশের প্রগতিশীল সংগঠনগুলি ৮ মার্চ দিনটি নারী দিবস হিসাবে পালন করে আসছিল। দিবসটি ঘোষণার দীর্ঘদিন পর ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চ আর্ন্তজাতিক নারী দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পায়। ৮ মার্চকে আর্ন্তজাতিক নারী দিবস হিসাবে  পালনের জন্য জাতিসংঘ বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহবান জানায়। তারপর থেকে নারীদের সমাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে দিনটি পৃথিবীর দেশে দেশে পালিত হয়ে আসছে। তবে নারী আন্দোলনের সূত্রপাত বহু আগে থেকেই হয়েছিল। একটি সাপ্তাহিক প্রিন্ট মিডিয়ার এক নিবন্ধ থেকে  জানা যায়, “১৭৯১ সালে ফরাসি নাট্যকার ও বিপ¬বী ওলিম্পে দ্য গগস, নারী অধিকার এবং নারী নাগরিক ঘোষণা করেন। এতে তিনি বলেছিলেন, নারী জেগে উঠো, গোটা বিশ্বে যুক্তির সংকেত ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে। তোমার অধিকারকে আবিস্কার কর। প্রকৃতির শক্তিশালী সা¤্রাজ্য এবং পক্ষপাত, গোড়ামি, কুসংস্কার ও মিথ্যা দিয়ে অবরুদ্ধ নয়। সত্যের শিখা পাপ ও অন্যায় দখলের মেঘকে দূর করে দিয়েছে।” ১৭৯৩ সালে এ নারীকে ফাঁসি দেয়া হয়। সেই সাথে নারীদের রাজনৈতিক কর্মকা- নিষিদ্ধ করা হয়। তবে ফাঁসি কাষ্ঠে যাওয়ার পূর্বে এই নারী অসীম সাহসিকতায় নিয়ে বলে গেছেন যে, নারীর যদি ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলার অধিকার থাকে তবে পার্লামেন্টে যাওয়ার অধিকার থাকবে না কেন। এতে প্রতীয়মান হয় নারী তার অবদমন করা শিকল ভাঙ্গতে বার বার চেষ্ঠা করেছিল। নারীর এই আন্দোলন নানাভাবে দমন করে আসছে পিতৃতান্ত্রিক শাসক শ্রেণি।
আজকের দিনে যখন নারী দিবসটি সাড়াম্ভরপূর্ণ পালন করা হয় তখন কি ক্লারা জেটক্লিনের নারীর শ্রমাধিকার বা নিউইউর্য়কের নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কর্মক্ষেত্রের মানবিক পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি  বা বিপ¬বী ওলিম্পে দ্য গগস আদর্শের কথাটি মনে পড়ে। ওই বিপ্লবী নারীদের রচিত আর্দশিক প্লাটফরম বেয়ে আজকের নারী দিবস। পৃথিবীর দেশে দেশে নারীদের কর্মক্ষেত্রটি নারীবান্ধব হয়ে উঠেনি। তাছাড়া রাজনৈতিক বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটায় নারীকে করে রাখা হয়েছে সংরক্ষিত করে। এই সংরক্ষিত ব্যবস্থাটা আঙ্গুল নির্দেশ করে বলে দেয় তারা নারী। তবে এটা ঠিক নারীরা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পুরুষের ন্যায় আদিকাল থেকে অনুশীলন করতে পারেনি- তাই নারীরা পশ্চাদপদ আর এই  পশ্চাদপদতা ঘুঁচানোর জন্য সংরক্ষিত ব্যবস্থার প্রয়োজন। কিন্তু সংরক্ষণের নামে নারীকে একটি ফ্রেমআপে বন্দি করা হয় তাতে কি নারীর রাজনৈতিক অনুশীলনের ক্ষেত্রটি প্রসারিত হবে।  আমাদের দেশে জাতীয় সংসদে নারীরদের জন্য ৫০ টি আসন সংরক্ষিত আছে। তাছাড়া জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌর সংস্থা এবং সভাগুলোতে নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে। এই সংরক্ষণ প্রক্রিয়াটা নারীকে নারী বানিয়ে রাখছে। বর্তমানে এই ৫০টি নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন জাতীয় সংসদের বিভিন্ন দল এর নির্বাচিত সংসদ সদস্যের অনুপাতে নির্বাচন করা হযে থাকে। তবে এ ধরনের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নারীর যথাযথ অধিকার নিশ্চিত করে না। নারীরা  জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা উচিত। বর্তমানেও নারী সংসদ সদস্যের আসন সীমানা চিহ্নিত রয়েছে। আর সংরক্ষিত নারীর আসনের চিহ্নিত এলাকা  সাধারণ সদস্যদের এলাকারই অন্তর্ভুক্ত। তাই সংরক্ষিত নারী সদস্যদের সাথে চিহ্নিত এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা সাধারণ সংসদ সদস্যের দ্বন্দ্ব থেকে যায়। এ ক্ষেত্রে নারী সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। তাই নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও  আইন প্রণয়ন করা দরকার।  সাধারণ সদস্যদের ন্যায় নারী সদস্যরাও যেন চিহ্নিত নির্বাচনী এলাকা থেকে  নির্বাচিত হয়ে আসতে পারে এই ব্যবস্থা করা উচিত সেই সাথে লক্ষ রাখতে হবে যে এলাকা সংক্রান্ত জটিলতা যেন সৃষ্টি না হয়। এই নির্বাচন পদ্ধতিতে নারীরা সংরক্ষিত আসন থেকেই নির্বাচিত হবেন তবে এখানে নির্বাচন পদ্ধতির পরির্বতন করতে হবে। বাংলাদেশ একটি অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া রাষ্ট্র- তাই জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করে ব্যয় বাড়ানো উচিত নয়। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় নারীদের জন্য ১০০ আসন সংরক্ষণ করা আর বাকি ২০০ আসন সাধারণ হিসাবে চিহ্নিত করে বিধান করা। আর এই সংরক্ষিত ১০০টি আসন নির্ধারণ করা হবে ঘুর্ণায়নমান পদ্ধতিতে। ১০০ টি আসন নারীর জন্য সংরক্ষিত করতে হলে প্রতি ৩টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ১টি করে আসন হবে নারীর জন্য সংরক্ষিত বাকি ২টি সাধারণ। উদাহরণ স্বরূপ, যেমন ১,২,৩টি আসন রয়েছে এই তিনটি আসনের মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ নং আসন হবে নারীর জন্য সংরক্ষিত। এখানে শুধু নারী প্রার্থীরা বিভিন্ন দলের টিকেট নিয়ে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর বাকি ২টি আসন হবে সাধারণ। এভাবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২নং আসন নারীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে আর বাকি ১ ও ৩ থাকবে সাধারণ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩ নং আসন থাকবে নারীর জন্য সংরক্ষিত ১ ও ২ হবে সাধারণ। ঠিক অনুরূপভাবে ৪,৫,৬ এবং ৭,৮,৯ এভাবে প্রতি তিনটি আসনের একটি করে আসন নারীর জন্য ঘুর্ণায়মান পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হবে। স্থানীয় সরকারে নির্বাচনেও এরকম ব্যবস্থা অনুসরণ করা। তাহলে জাতীয় রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। বর্তমানে এলাকা নিয়ে সাংসদের ( নারী এবং সাধারণ আসনের সংসদ) মাঝে সৃষ্ট দ্বন্দ্বিক অবস্থারও পরিসমাপ্তি ঘটবে।  শ্রমের ক্ষেত্র নারীর জন্য তার কর্মক্ষেত্র কতটা শ্রমবান্ধব? নারীর মজুরির বিষয়টি কতটা বৈষম্যপূর্ণ তা দেখা প্রয়োজন। দেশের অন্যতম শিল্প খাত হলো পোশাক শিল্প। এই শিল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ শ্রমিক নারী। যে কোন শিল্পের সাথে এর তুলনা করলে দেখা যাবে, এখানকার মজুরি সবচেয়ে কম। কৃষিতে নারীর শ্রমিকের পারিশ্রমিক পুরুষ শ্রমিকের প্রায় অর্ধেকের একটু বেশি। শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর অনেক দেশেই নারীর কর্মক্ষেত্রটি মানবিক হয়নি। যেমন একটি পোশাক কারখানাসহ অন্য কারখানা এবং অফিসে  কর্মরত নারী শ্রমিকদের জন্য দু থেকে তিনটি শৌচাগার থাকে। অপরদিকে আধিকারিক যিনি তার একার জন্যই একটি এটাচ বার্থরুম রাখা হয়েছে। রেচন নিসরণ প্রক্রিয়া কিন্তু সবার জন্য একই প্রাকৃতিক নিয়মে ঘটে। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই নারীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে নানা রকমের হয়রানির শিকার হন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নারী আন্দোলনের নামে নারীদেরকে এক ধরনের উগ্রবাদী করে তুলছে তা নারী ও পুরুষের সমাজিক সহঅবস্থানের পরিবর্তে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে তুলার একটি প্রয়াস। কিছু নারীবাদী লেখক বিষয়টি নারীর বৈষম্য নিরসনকল্পে বিষয়গুলি এমনভাবে উপস্থাপন করনে যে, তার কারণে  নারী পুরুষের মাঝে ঈর্ষা বা ক্রোধের জন্ম দেয়। আবার কেউ কেউ নারীর সমাধিকারের বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করেন যা কিনা নারীকে ভোগ্যপণ্যে রূপান্তরিত করে। সেনেটারি ন্যাপকিন ও রং ফর্সা করার ক্রিমের বিজ্ঞাপন দেখলে তা বুঝা যায়।
পৃথিবীর নানা দেশে নারীরা বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছে। শিক্ষাসহ নানা বিষয়ে নারীরা এগিয়ে আসলেও সমাজের মানসিকতা কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। জাপান, সুইজারল্যা-, বলকান রাষ্ট্র সমুহ পৃথিবীর উন্নত দেশ। এই দেশগুলোতে নারী নির্যাতন বা নিপীড়ন পৃথিবীর অনেক দেশের চাইতে একটু কম। এখানকার নারীরা অবাধে রাস্তায় চলাচলসহ সকল কাজে পুরুষের সমসমায়িক। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিকতার বিষয়টি দেশগুলোর সংস্কৃতিতে বিদ্যমান। এই দেশগুলোর মানুষের বছরের একটি নিদির্ষ্ট দিনে বৃহৎকারের পুরুষ লিঙ্গ তৈরি করে উৎসবে মেতে উঠেন। তারা এখনো মনে করেন এই লিঙ্গটি উর্বরতার প্রতীক। কিন্তু ঐতিহাসিকদের ধারণা অনুযায়ী জানা যায়, অনেকদিন পর্যন্ত পুরুষরা সন্তান উৎপাদনের কারণ সর্ম্পকে জানত না। ফলে পুরুষদের পক্ষে সন্তানের কর্তৃত্ব নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ ছিল না। তখন সন্তান মায়ের পরিচয়ে বড় হতো। তাছাড়া সেই যুগে নারীরা পুরুষদের সাথে শিকারে যেতো। সন্তান জন্ম দেয়া ও লালন পালনের সময় নারীরা আর শারীরিক কারণে শিকারে যেতো পারতো না। আর ওই সময় নারীর সময় অবসরে কাটতো। এই অবসর সময়ে সে কৃষির আবিস্কার করে। সেই সময় নারীরা আহরিত ফল ও শস্যের বীজ আবাস্থলের চারিপাশে ছিটিয়ে দিতেন। পরে দেখা যায় যে, এগুলো থেকে গাছ জন্ম নিয়েছে। আর সেই গাছ থেকে আহারযোগ্য শস্য বা ফল উৎপাদন হতে শুরু হয়। এভাবেই পৃথিবীতে নারীরা কৃষির আবিস্কার করেন। এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন কৃষি নারীর নিয়ন্ত্রণে থাকে।
জার্মান ওফবড়ষড়মু তে মার্কস এঙ্গেল বলেছেন, মানুষের ইতিহাসে নারী এবং পুরুষের কাজের পরিধি নিয়ে প্রথম শ্রম বিভাজনের সূত্রপাত। পাশাপাশি প্রথম যে শ্রেণি নিপীড়িত সেটাও নারী ও পুরুষের মধ্যে। একে আখ্যায়িত করা হয়েছে ঋরৎংঃ মৎবধঃ ফরারংরড়হ ড়ভ ষধনড়ৎ হিসাবে। এই শ্রম বিভাজনে দেখা যায়, উৎপাদন এবং পুরুৎপাদনে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে নারী-পুরুষের কাজ পৃথক হয়ে যায়। খাওয়া-দাওয়া, সম্পদ এবং ্অশ্রয়ের জন্য মানুষ উৎপাদনের সাথে যুক্ত হয়। বুঝা যায় যে, বেচে থাকার অন্যতম শর্ত হলো উৎপাদন আর উৎপাদানের অন্যতম উপাদান হলো শ্রম এবং একমাত্র মানুষেই শ্রম বিনিয়োগ করতে পারে তাই উৎপাদন বাড়াতে হলে প্রয়োজন হয় শ্রম শক্তির। ওই সময়টায় দেখা যায়, এই উৎপাদন প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পুরুষের হাতে চলে যায়। অন্যদিকে পুনরুৎপাদনের জন্য নারীরা গৃহে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।  পুনরুৎপাদন বলতে সন্তান জন্ম দেয়াকে বুঝানো হয়েছে। সন্তান লালন পালনও এর সাথে যুক্ত। এভাবেই উৎপাদন চক্রে দায়িত্ব দীর্ঘ এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুরুষের হস্তগত হয় আর নারীর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কর্তৃত্ব হারায়।
দীর্ঘ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নারীর সমাজের বিভিন্ন সম্পদের উপর কর্তৃক নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুরুষের হস্তগত হয়েছে। এটা কখনো জ্ঞানত, কখনো অজ্ঞান প্রসুতায়, নারীর শারীরিক শক্তির অপ্রতুলতার বা প্রকৃতিগত কারণে। সম্পদের কর্তৃত্ববিহীন মানুষ সমাজে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। সারা বিশ্বে বিভিন্ন ধর্ম বর্ণ অনুসারে নারীর উত্তরাধিকার হিসাবে সম্পত্তি প্রাপ্তির যে নিয়মটি রয়েছে তা নারীর সমাধিকারে প্রধান অন্তরায়। রাষ্ট্র বা সমাজের প্রাথমিক ইউনিট হলো পরিবার। আর নারী পরিবারে সমাধিকার পায় না। পরিবারের এই প্রথাটি রাষ্ট্র তথা সমাজে নিবিড়ভাবে লালন করায়। ফলে  সর্ব ক্ষেত্রে নারীরা নিজেদের অধিকার হারাচ্ছে।
তাই নারীকে নারী না ভেবে প্রকৃত মানুষ হিসাবে মূল্যায়ন করা উচিত। সম্পত্তিসহ সকল কিছুর অধিকার সকলের সমান হওয়া দরকার। সম্পত্তিসহ সকল বিষয়ে পুরুষের ন্যায় নারীর সমাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে নারীর অধিকার কোন দিন প্রতিষ্ঠিত হবে না।
লেখক:- কলামিস্ট