নারী পেলো প্রাণ, নবজাতক পিতৃপরিচয়

আপডেট: নভেম্বর ৩০, ২০১৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



হাসপাতালের বেডে জন্মগ্রহণের সময় নবজাতকটি কেঁদে উঠেছিল। ফুটফুটে এক শিশু। দেখলেই দু’হাত বাড়িয়ে আদর করতে মন চাই। অথচ এই শিশুটিই তার জন্মদাত্রী মায়ের এতটুকু সহানুভূতি কুড়াতে পারলো না। মায়ের বুক, অথচ কী অবাক কা-! কারণ, প্রেমের দুর্বলতায় বিয়ের আগেই মা হয়েছেন তিনি। আর এটাই তার গলায় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই, মা হয়েও তিনি শিশুটির প্রতি সহানুভূতি দেখাতে পারছেন না। অধিকন্তু শিশুটিকে হাসপাতালে ফেলেই চলে যাচ্ছিলেন তিনি। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাকে আবার হাসপাতালে থেকে যেতে হয়।
খবর পেয়ে নারীদের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেন এমন একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় ওই প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। এতে পিতৃপরিচয় পায় নবজাতক। ফলে কয়েক ঘণ্টা আগে যে শিশুটি তার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেই সন্তানই হয়ে ওঠে তার পরম আদরের ধন। এইজন্য কাজী অফিসে বিয়ের কাজ শেষ করে যখন হাসপাতালে ফিরে যখন সন্তানকে কাছে পেলেন, তখন প্রথমেই বলে উঠলেন, ‘আমার কলিজার টুকরা’। এরপর আর কিছু না বলেই অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগলেন।
গতকাল মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটে এক নারীর জীবনে। অনিশ্চিত দুঃখ থেকে ফিরে পায় নতুন প্রাণ। শিশুটিও পায় পিতৃপরিচয়। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন ওই নারী(২৫)। নারীর বাড়ি নগরীর রায়পাড়া এলাকায়। অথচ সকালে বাচ্চা রেখেই মায়ের সঙ্গে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ওই তিনি। খবর পেয়ে হাসপাতাল পুলিশ বক্সের সদস্যরা তাদের আটক করেন। রেখে আসেন ওই ওয়ার্ডে।
খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান নবদিগন্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রাজিয়া সুলতানা। তার সহযোগিতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর মিঠুর মোড় এলাকার একটি কাজী অফিসে প্রেমিকের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দেয়া হয়। দেনমোহর রাখা হয় ৫০ হাজার টাকা।
বিয়ের পর ওই নারীর মা (৫০) জানালেন, তার মেয়ে রাজশাহী কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেছেন। অথচ মাস্টার্সে ভর্তি হননি। এখন তিনি একটি কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা করেন। দু’বছর আগে তাদের বাড়ির সামনের এক লেদ মালিকের (২৮) সঙ্গে তার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই লেদ মালিকের বাড়ি পবা উপজেলার বালিয়া এলাকায়। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই যুবক তার মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু বিষয়টি কারও কাছে কোনোদিন প্রকাশ করেননি তার মেয়ে। এমনকি গর্ভধারণের পরও না।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে সন্তানের জন্ম দেয়ার পর মেয়ে সবকিছু খুলে বলেন। তার মেয়ে তাকে জানিয়েছেন, তার প্রেমিক বিবাহিত এবং তার একটি সন্তানও আছে। গর্ভধারণের পর ওই যুবক তার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। সন্তান জন্ম দেয়ার পর যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাকে বিয়ে করতে চাননি। এ কারণে তারা লোকলজ্জার ভয়ে সন্তান রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ তাদের ধরে ওয়ার্ডে রেখে আসেন।
নবদিগন্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রাজিয়া সুলতানা জানান, বিষয়টি জেনে তিনি ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাকে অভয় দিলে তিনি হাসপাতালে আসেন। এরপর তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। পুলিশও তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। তখন তিনি বিয়ে করতে রাজি হন। এরপরই তাদের কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে দেয়া হয়। পরে ওই নারীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘নবজাতক তার পিতৃপরিচয় পেল, এটিই বড় কথা। এখন তাদের সংসার সুখের হোক, এই কামনায় করি।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ