নাশকতার পরিকল্পনাকালে ছাত্রশিবিরের ২০ নেতাকর্মী গ্রেফতার ।। ফেসবুকে সরকারবিরোধী প্রচারণা ।। বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই ও ফিলেট জব্দ

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০১৭, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নাশকতার পরিকল্পনাকালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাত থেকে গতকাল বুধবার ভোর পর্যন্ত নগরীর নওদাপাড়া এলাকার ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই, ছাত্রশিবিরের লিফলেট, ব্যানার ও চাঁদা আদায়ের রশিদ জব্দ করেছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। আরএমপি’র মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম গতকাল রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষ্যে বেশ কিছুদিন থেকেই এ হোস্টেলের বেশ কয়েকটি কক্ষ ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতারা ব্যবহার করছিলেন। সেখানে নিয়মিত সাংগঠনিক বৈঠক হচ্ছিলো। স্থানটিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা গোপন ও নিরাপদ আস্তানা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। গত মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগর গোয়েন্দা ও বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের শতাধিক সদস্য সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে হোস্টেলের একটি বড় কক্ষ থেকে ২৯ জনকে আটক করা হয়। এসময় বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই, ব্যানার, লিফলেট ও চাঁদা আদায়ের রশিদ জব্দ করা হয়।
তিনি জানান, এরপর আটককৃতদের গতকাল দুপুর সাড়ে তিনটা পর্যন্ত নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন আরএমপি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেখানে ছাত্রশিবিরের সক্রিয় নেতাকর্মী হিসেবে ২০ জনকে শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ছাত্রশিবির ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাজু রয়েছেন। তবে পুলিশি অভিযানের খবর পেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগর ছাত্রশিবিরের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে আটককৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এছাড়া জব্দকৃত জিহাদি বইয়ের লেখকদের মধ্যে রয়েছে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবু আলা মওদুদী, জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম, যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আরেক সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। এছাড়া জব্দ তালিকায় ছিলো, বিভিন্ন সময়ের ব্যানার, শিবিরের চাঁদা আদায়ের রশিদ এবং লিফলেট।
জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্তদের মধ্যে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানোর বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে কী ধরনের প্রচারণা ফেসবুকে চালানো হয়েছে এ ব্যাপারে তদন্তের স্বার্থে তথ্য প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেছেন ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড নেয়া হয়েছে। সেগুলো যাঁচাই করে দেখা হচ্ছে। তবে ওই হোস্টেলে শিবিরের শীর্ষ নেতারা আসতো- এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া নগরীতে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছিলো তারা এ ব্যাপরটি স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃতরা।
এদিকে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ডিউটি অফিসার অফিসার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফেরদৌসি বেগম জানান, যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে আটক ২৯ জনের মধ্যে ২০ জন শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। এই ২০ জনকে আগের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর বাকি ৯ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ