নায়করাজের মহাপ্রস্থান || এ শুন্যতা পূরণ হবার নয়

আপডেট: আগস্ট ২৩, ২০১৭, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী চলচ্চিত্র অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে সারা দেশেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি বিশাল মহীরূহের মত ছিলেন। রাজ্জাকের বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে নানা রোগে ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যু দেশের সব সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ শিরোনামে প্রকাশিত ও প্যচারিত হয়েছে।
অভিনেতা রাজ্জাকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ মন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
পাঁচশর বেশি চলচ্চিত্রের অভিনেতা আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশের মানুষের কাছে নায়করাজ নামেই খ্যাত ছিলেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সাদা কালো যুগ থেকে শুরু করে রঙিন যুগ পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেন রাজ্জাক। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে প্রায় ২৫ বছর প্রায় একাই টেনে রেখেছিলেন এই চিত্রনায়ক।
শেষ দিকে অন্য চরিত্রে অভিনয় করলেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন তাকে চিরসবুজ নায়ক হিসেবেই দেখত।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষভাবে বাঙালির অস্তিত্বের সর্বত্রই প্রভাবিত হয়েছিল। বাংলা চলচ্চিত্রও এ থেকে আলাদা কিছু নয়। এক অসাধারণ দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে বাংলা চলচ্চিত্র বাঙালির সামাজিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বকীয়তাকে সংঘবদ্ধ করেছেÑ জাগরণ সৃষ্টি করেছে। নায়করাজ রাজ্জাক চলচ্চিত্রের সেই তারুণ্যের উদ্ভাস তৈরি করেছিলেন, যা বাংলা চলচ্চিত্রকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেছে। উর্দু চলচ্চিত্রের প্রভাবকে দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক। পাকিস্তানের ২৩ বছরে চলচ্চিত্রে উর্দুর আগ্রাসন মোটেও বাংলা চলচ্চিত্রের অগ্রসরমান ধারা কে স্থবির করতে পারে নি। এ ক্ষেত্রে নায়করাজ রাজ্জাকের চলচ্চিত্রে আগমন নিয়ামক ভূমিকা হিসেবে কাজ করেছে।
নায়ক রাজ্জাক যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী ছিলেন তা সকল বিতর্কের উর্ধে। তিনি মৃত্যুর আগমুহুর্ত পর্যন্ত চির সবুজে নায়ক-অভিনেতা হিসেবেই বিবেচিত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ের অভিনেতা- অভিনেত্রীদের কাছে তিনি শুধু অভিভাবক নন- আদর্শ হিসেবে ছিলেন। তিনি মৃত্যুর পরও অপ্রতিদ্বন্দ্বিই থেকে গেলেন।  বাংলাদেশের চলচ্চিত্র তার মত আর একটি রাজ্জাক তৈরি করতে পারেনি। তাঁর আশপাশ দিয়েই কেউ যায়নি।
নায়করাজ রাজ্জাক সময়ের বাঁকে বাঁকে বাংলা চলচ্চিত্রকে নতুন নতুন মাত্রা দিয়েছেন। এটি যেমন তাঁর অসাধারণ অভিনয় দিয়ে, আবার চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিচালনার মাধ্যমে। সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণে  তাঁর নিজের প্রচেষ্ঠায় একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। তার এই উদ্যোগ নিশ্চিতভাবেই সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করবে, সাহস যোগাবে।
সন্দেহ নেই, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র একজন যোগ্য অভিভাবককে হারালো। এর শুন্যতা পূরণ হবার নয়।  চলচ্চিত্রে তাঁর যে অবদান নিশ্চিভাবেই তার উত্তরসূরিরা স্মরণ করবে চিরকাল। তাঁকে বাদ দিয়ে যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অগ্রযাত্রার ইতিহাস কল্পনা করা যায় না। তাঁকে বাদ দিয়ে চলচ্চিত্রের কথাও বলা যায় না।
এই মহানায়কের প্রস্থানে আমরা শোকাহত। তাঁর প্রতি রইল শ্রদ্ধাঞ্জলি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ