নিউ ইয়র্ক সিটিতে ইঁদুর নিধনে বরাদ্দ ৩২ মিলিয়ন ডলার

আপডেট: জুলাই ২৬, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ইঁদুরের উৎপাত বন্ধে তিন কোটি ২০ লাখ ডলার বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো।
এ অর্থ সিটির জনবসতিপূর্ণ তিন এলাকা ম্যানহাটনসহ বঙ্কস ও ব্রুকলিনের ইঁদুর নিধনের লক্ষ্যে ব্যবহার করা হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।
ইঁদুরের উৎপাত নজরে আসে ম্যানহাটনের ব্যস্ততম সাবওয়েতেও। এমনকি আবর্জনার ক্যানের ভেতরেও স্বল্প সময়েই বাসা বাঁধছে, বাচ্চা দিচ্ছে ইদুর।
সিটির অধিকাংশ পুরনো ভবনেই ইঁদুরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সিটির স্বাস্থ্যকর্মীরাও বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ইঁদুর আবিষ্কার করছেন। কোনো কোনো স্থানে এদের আকৃতি বিড়ালের মতোই।
নিউ ইয়র্ক সিটিতে অসংখ্য রোগের বাহক এই ইদুরের সংখ্যা কত? সিটির ৮০ লাখ জনসংখ্যার প্রত্যেকের ভাগে একটি করে ইদুর সঙ্গী রয়েছে বলে নগরবাসীদের মাঝে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে। যার মানে দাঁড়ায় মানুষের সংখ্যার মত ইদুরের সংখ্যাও ৮০ লাখ।
তবে ২০১৪ সালে এক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে ইদুরের সংখ্যা ২০ লাখ বলে দেখান কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র।
নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র কার্যালয়ের বরাতে রয়টার্স বলছে, ২০১৭ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ ইদুর বিষয়ে ১০ হাজারের বেশি অভিযোগ পেয়েছে।
এছাড়া ম্যানহাটন, ব্রুকলিন ও বঙ্কসে ২৪ হাজারের বেশি বাড়ি পরিদর্শনে ১৫ শতাংশের বেশি বাড়িতে ‘ইদুরের অস্তিত্বের চিহ্ন’ পেয়েছে সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ।
২০১৩ সালের মেয়র পদে নির্বাচনে বিল ডি ব্লাসিয়োর কাছে পরাজিত যোসেফ জে লোহটা বলছেন, যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন সিটির পার্ক, সাবওয়ে এবং অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে ইদুরের উৎপাত বেশি।
এমন বিড়ম্বনার মধ্যে গত ১২ জুলাই ইদুর নিধনের জন্যে বিশেষ একটি প্রকল্পে তিন কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয়ের ঘোষণা দেন সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো।
এই প্রকল্পে ২০১৮ সালের মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশ ইদুর মেরে ফেলার লক্ষ্য স্থির করেছে সিটি প্রশাসন।
এক বিবৃতিতে মেয়র বলেন, “নিউ ইয়র্ক সিটিতে ইদুরকে আমরা জীবনযাপনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে মেনে নেব না।”
রয়টার্স বলছে, সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ইদুর নিধনের এই প্রকল্পে নিউ সিটির স্যানিটেশন, পার্ক ও স্বাস্থ্য বিভাগের মতো বিভিন্ন সংস্থাকে যুক্ত করা হচ্ছে।
বরাদ্দের বেশিরভাগ অর্থ বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলোর উন্নয়নে ব্যয় হবে; সেগুলোয় কনক্রিটের নোংরা বেসমেন্টে ইদুর ধরার ফাঁদ বসানো হবে।
এছাড়া আবর্জনার পরিমাণ কমিয়ে আনতে ব্যবহার করা ২০ বছরের পুরনো সব কম্পাকটর সরিয়ে নতুন সোলার কম্পাকটর বসানো হবে। সিটির রাস্তায় পুরনো সব ময়লার ঝুড়ি সরিয়ে বসানো হবে স্টিলের নতুন ঝুড়ি।
এর ফলে ঝুড়ি ও কম্পাকটরে ঢুকতে না পেরে খাবারের অভাবে ইদুর কমে আসবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ