নিখোঁজ ছাত্রকে পরিবারের কাছে তুলে দিলো গোমস্তাপুর ইউএনও

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২, ২:১৯ অপরাহ্ণ


গোমস্তাপুর প্রতিনিধি :


রাজশাহীর নিখোঁজ শিশু শিক্ষার্থী কারিমকে পরিবারের কাছে তুলে দিলেন গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা খাতুন। রোববার রাতে নিজ কার্যালয়ে শিশুটির মামার কাছে তুলে দেন তিনি ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বতীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, শিশুটির মামা বাহাদুর আলী, ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আব্দুর রশিদ ও মুশফিকুর রহমানসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।

জানা গেছে, গত শনিবার রাতে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের আড্ডা মোড় এলাকায় শিশু কারিমের সন্ধান পান স্থানীয়রা। তাঁর বয়স তের বছর। সে রাজশাহীর মাদ্রাসা – ই – দারুল আরকাম (রাঃ) মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। গত ২৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সকাল থেকে সে নিখোঁজ ছিলেন।

কারিম রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার আদারিয়াপাড়ার শাহ আলমের ছেলে। এ ঘটনায় রোববার কাশিয়াডাঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থীর নানী।

থানার সাধারণ ডায়েরী ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে কারিম কাউকে না জানিয়ে মাদ্রাসা থেকে বেড়িয়ে যান। পরে সহপাঠীরা কারিমকে দেখতে না পেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকদের জানান। শিক্ষক ও সহপাঠীরা প্রতিষ্ঠানে খুঁজে না পেয়ে তাঁর পরিবারকে জানায়। পরিবারের সদস্যরাও তাঁর সন্ধানে আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খবর নেন। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন ওই শিক্ষার্থীর নানী আলেয়া বেগম।

পার্বতীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, শনিবার রাতে আড্ডা মোড় এলাকায় শিশুটি এলেমেলো ভাবে চলাফেরা করছিলেন। ওই সময় এলাকার লোকজন সন্দেহ হলে শিশুটিকে জিজ্ঞেসাবাদ করেন।

তিনি রাজশাহী থেকে বাসে করে চলে এসেছেন বলে স্বীকার করেন। পরে ঘটনাটি ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন তাঁরা। সকালে ওই শিশুটিকে নিজ হেফাজতে নেন তিনি। তাঁর পরিচয় জেনে ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে ফোন দিয়ে বলেন আপনার এলাকার এক শিশুর সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই সময় ওসি জানান, ওই ছেলেটি নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডি রয়েছে ।

পরে তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাদের ডেকে পাঠান। রবিবার রাতে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইউএনও আসমা খাতুন তাঁর মামা বাহাদুর আলীর কাছে তুলে দেন তাঁকে। কারিমের মামা

বাহদুর আলী বলেন, কারিমের জন্মের বছরখানেক পর তাঁর বোন মারা যান। ছোট থেকেই নানির কাছে থাকতেন। কারিম বড় হলে মাদ্রাসা-ই-দারুল আরাকাম (রাঃ)মাদ্রাসায় তাঁকে ভর্তি করা হয়।

এখন সে ওই মাদ্রায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশুনা করে। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট, বড় ভাই তাঁর বাবার কাছে থাকেন। কারিমকে খুঁজে পাওয়ায় ইউএনও, চেয়ারম্যান সহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা খাতুন বলেন, শিশু শিক্ষার্থী কারিমের তথ্য যাচাই করে তাঁর পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।