নিজের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন বিতর্কিত নেতা কুদ্দুস !

আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২০, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


সাংবাদিকদের হুমকি দেয়ার ঘটনায় থানায় জিডি করাকে কেন্দ্র করে নিজের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন একাধিকবার দল পরিবর্তন করা বাঘার সেই আলোচিত নেতা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি (ঠিকাদার) আবদুল কুদ্দুস সরকার। সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টায় গতকাল রোববার সকালে তিনি মানববন্ধন শেষে মিছিল করেন। তবে তার সঙ্গে সরকার দলীয় কোন নেতা-কর্মী ছিলনা।
জানা গেছে, গত ১৯ জানুয়ারি উপজেলার মনিগ্রাম এলাকায় নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে বারণ করায় ঠিকাদার আবদুল কুদ্দুস সরকারের বড় ছেলে সেলিম আহম্মেদ সরকার উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ আহাম্মেদকে মারপিট করেন। এর আগে সেলিম বাঘা পৌরসভার হিসাব রক্ষক হাসান আলীকে বিল প্রদানের চেক ও ব্যবসায়ী মাজেদুল ইসলাম মোটরপার্স বাঁকি না দেয়ায় তাদেরকেও মারপিট করেন। আর এ খবর বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়।
এর আগে বাঘা পৌর মেয়র আবদুর রাজ্জাক এর নিষেধ উপেক্ষা করে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করে বাঘা লাকি সিনেমা হলের সামনে একটি রাস্তা নির্মাণ এবং বাউসা মাঝপাড়া এলাকায় অপর একটি রাস্তার দুই পাশের দেড় শতাধিক সরকারি গাছ খনন যন্ত্র (ভেকু) দিয়ে উপড়ে ফেলান ঠিকাদার আবদুল কুদ্দুস সরকার। এ নিয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে থানায় তার নামে লিখিত অভিযোগ করা হয়। আর এ খবরটি প্রকাশ করেন ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাক ও রাজশাহী থেকে প্রকাশিত সানশাইন পত্রিকার সাংবাদিক নুরজ্জামান এবং দৈনিক কালের কণ্ঠ ও সোনালী সংবাদ পত্রিকার বাঘা প্রতিনিধি সাংবাদিক লালন উদ্দিন। এদিকে পুর্বের দু’টি সংবাদ সকল দৈনিকে ছাপা না হলেও তার ছেলে কর্তৃক সরকারি কর্মকর্তাকে মারপিট অতঃপর থানায় মামলা এ খবরটি প্রকাশ করেন বাঘার সকল সাংবাদিক। এ ঘটনায় পূর্বের সংবাদের রেশ ধরে ঠিকাদার আবদুল কুদ্দুস সরকার গত ২০ জানুয়ারি দুপুরে সাংবাদিক নুরজ্জামান ও লালন উদ্দিনকে প্রথমে মোবাইলে হুমকি এরপর ২৪ তারিখ চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযমের ছেলের বৌ-ভাতে দলীয় লোকজনের সামনে প্রকাশ্যে দেখে নেয়ার হুমকিসহ গালমন্দ করেন।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতে বাঘা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আবদুল কুদ্দুস সরকারের নামে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাঘা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরজ্জামান। এর ঘটনার জের ধরে গতকাল রোববার সকালে ভাড়াটিয়া লোক এনে উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন শেষে দুই সাংবাদিকের কালো হাত-ভেঙে দাও-গুড়িয়ে দাও স্লোগান দিয়ে একটি মিছিল করেন কুদ্দুস সরকার।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, বাঘা পৌর আ’লীগের সভাপতি একটি মানববন্ধন ও মিছিল করেছে। তবে ঘটনাটি জানার পরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। তার আগেই মানববন্ধন ও মিছিল শেষ হয়ে গেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আবদুল কুদ্দুস সরকার প্রথমে জাতীয় পাটির্, এরপর বিএনপি, পরে আওয়ামী লীগে এসে ক্ষমতার দাপটে অস্থির করে তুলেছেন এলাকাবাসীকে। তার নানা কর্মকাণ্ডে বিব্রত উপজেলা আওয়ামী লীগ। কুদ্দুসের নামে নারি ধর্ষণ ও বিবস্ত্র মামলা থেকে শুরু করে সাংবাদিক ও পুলিশকে হুমকি এবং তার ছেলে কর্তৃক সরকারি দুই কর্মকর্তাকে মারপিটসহ এলাকায় ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার ঘটনায় বাঘা থানায় একাধিক জিডি ও মামলা রয়েছে ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ