নিজের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ালেন বুলবুল

আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০১৭, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


দায়িত্বে ফেরার পর পরই বরখাস্ত হন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গত রোববার নিজের চেয়ারে বসার তিন মিনিটের মাথায় আবার বরখাস্তের আদেশ শোনার পর বুলবুল ঘোষণা দিয়েছিলেন, এবার যে কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে আগেও একই কারণে বরখাস্ত হয়েছিলেন তিনি। বরখাস্তের গ্রাউন্ড (কারণ) একই। আইনি লড়াইয়ে জিতেই তিনি নগর ভবনে এসেছেন। তাই এই আদেশ তিনি আমলে নিচ্ছেন না এবং সোমবারও তিনি অফিস করবেন। এ ঘোষণা দিয়ে মেয়রের গাড়িতে করেই গত রোববার বাড়ি ফেরেন বুলবুল।
তবে ঘোষণা দিলেও আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বুলবুল। গতকাল সোমবার তিনি নগর ভবনে যাননি। দেখা যায়নি আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম-উল-আযীমকেও। সকালে নগর ভবনে গিয়ে দেখা যায়, মেয়রের অফিস কক্ষটি তালাবদ্ধ। দরজার দুই পাশে আগে দুটি নামফলকে যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়রের নাম লেখা থাকত, সে নামফলক দুটিও নেই। মেয়রের কক্ষের পাশে তার ব্যক্তিগত সহকারীর অফিস কক্ষটিও তালাবদ্ধ।
নগর ভবন ঘুরে দেখা গেছে, এখানে-সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চুপিসারে শুধু রোববারের ঘটনার প্রসঙ্গ নিয়ে আলাপচারিতায় ব্যস্ত। নগর ভবনে মেয়রের পদ ‘শূন্য’ হয়ে পড়ায় তারাও যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন। পুরো নগর ভবনে থমথমে অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। অন্যান্য দিনের মতো নগর ভবনে তেমন মানুষের কোলাহল দেখা গেল না। দুদিন আগেও নাগরিক ও জনপ্রতিনিধিদের পদচারণায় ভবনটি সরগরম থাকলেও এখন অনেকটাই নিষ্প্রাণ।
গতকাল তেমন কোনো কাউন্সিলরকেও নগর ভবনে দেখা যায়নি। মেয়র-কাউন্সিলররা থাকলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক লোক সমাগম ঘটে। বিশেষ করে লোকজনের ভিড়ে মেয়রের দফতরের সামনে দাঁড়ানোর মতো জায়গা থাকতো না। কাউন্সিলরদের কক্ষেও একই অবস্থা হতো। জমজমাট থাকতো ভবন। মেয়র না থাকায় এখন চিত্র ভিন্ন।
নগর ভবনে নতুন কাউকে মেয়রের দায়িত্ব দেয়া হলে আবার আগের অবস্থা ফিরে আসবে বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন। কিন্তু কাকে আবার মেয়রের পদে বসানো হচ্ছে তা নিয়েও জোর আলাচনা চলতে দেখা যায় নগর ভবনে। শুধু নগর ভবনেই নয়, পুরো শহরেই চলছে এমন আলোচনা।
এদিকে রোববার বিকেলে নগর ভবন ছাড়ার পরই মন্ত্রণালয়ের আদেশের কপিটি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বাড়িতে পৌঁছে দেন রাসিক কর্মকর্তারা। আগে ঘোষণা দিলেও নগর ভবনে আর যাবেন না বলে জানিয়েছেন রাসিকের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র বুলবুল। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আবারও আইনি লড়াইয়ে যাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
মেয়র হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করবেন, জানতে চাইলে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন বলেন, মন্ত্রণালয়ের আদেশে মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সাময়িক বরখাস্তের কথা বলা হয়েছে। তবে তার স্থলে কাউকে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলা হয়নি। এ জন্য রাসিকে এই মুহূর্তে কোনো মেয়র নেই।
ড. শরীফ বলেন, মেয়র হিসেবে যখন বুলবুলকে দায়িত্ব দিতে নির্দেশনা দেয়া হয় তখনই পদ হারান নিযাম। পরে বুলবুলও পদ হারালেন। তাই নতুন মেয়রের জন্য তারা মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী আদেশের অপেক্ষা করবেন। আদেশ না পেলে প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হবে। তবে দ্রুতই নির্দেশনা আসবে বলে মনে করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে ৭ মে সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ২০১৬ সালের ১০ মার্চ উচ্চ আদালত তার বরখাস্ত আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন।
এরপর গত মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়।
পরে রোববার সকালে দায়িত্ব নিতে নগর ভবনে যান মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গিয়ে দেখেন তার কক্ষটি তালাবদ্ধ। এরপর তিনি প্রথমে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরে সচিবের কক্ষে গিয়ে বসে থাকেন। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুপুরে নগর ভবনে ভাঙচুর চালান বুলবুলের সমর্থকরা।
এরপর দুপুর ২টার দিকে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শরীফ উদ্দীন ও সচিব মাহাবুবুর রহমান পুলিশের সহযোগিতায় মেয়রের অফিস কক্ষের দুটি তালা ভাঙেন। এরপর সদ্য বহিষ্কৃত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল তার চেয়ারে গিয়ে বসেন। এরপরই মন্ত্রণালয় থেকে তার বরখাস্তের আদেশ ফ্যাক্সযোগে রাসিকে আসে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা রোববারই ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়, মেয়র বুলবুলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহিত হয়েছে। তাই মেয়র বুলবুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। একই কারণ দেখিয়ে ২০১৫ সালেও বুলবুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।