নিজের পছন্দের ক্রিসমাস গাছের ছায়াতলে এন্ড্রু কিশোরকে সমাহিত করতে চলছে প্রস্তুতি

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০২০, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


নগরীর এই কবরস্থানে সমাহিত করা হবে এন্ড্রু কিশোরকে-সোনার দেশ

নিজের পছন্দের জায়গায় এন্ড্রু কিশোরকে সমাহিত করতে চলছে প্রস্তুতি। নগরীর সিএন্ডবি মোড় থেকে দক্ষিণে সার্কিট হাউজের বিপরীত দিকে অবস্থিত খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের গোরস্থানের ক্রিসমাস গাছের ছায়াতলে সমাহিত করা হবে শিল্পীকে।
সাদা কাফনে সুগন্ধী মেখে হিমঘরে শুয়ে আছেন এন্ড্রু কিশোর। সবাইকে কাঁদিয়ে ৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬ টা ৫৫ মিনিটে না ফেরার দেশে চলে গেছেন বাংলা গানের মহারাজ। মৃত্যুর পরোয়ানা যেন আগেই অনুভব করেছিলেন এ শিল্পী। তাইতো মৃত্যুর পর কী কী করতে হবে সব পরিকল্পনা নিজেই করে গেছেন তিনি। এখন চলছে তারই বাস্তবায়ন।

 

মৃত্যুর কয়েক দিন আগে এন্ড্রু কিশোর তার দুই সন্তানের খোঁজ নিয়েছিলেন। সে সময় বলেছিলেন, হঠাৎ চলে গেলেও ছেলে-মেয়েদের শেষ দেখার জন্য যেন অপেক্ষা করা হয়। হায়রে বাবা! মৃত্যুর পরও ছেলে- মেয়েদের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি।
মৃত্যুর পর যেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে নেয়া হয় তার মরদেহ, সেই ইচ্ছাও প্রকাশ করে গেছেন শেকোড় সন্ধানী এ শিল্পী।
রাজশাহীতে এলেই ছুটে যেতেন কবরস্থানে। মা ও বাবার জন্য করতেন প্রার্থনা। সেই সময় নিজের সমাধির স্থানটিও দেখিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই সমাধি হবেন এন্ড্রু কিশোর।

এদিকে, বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে গত বৃহস্পতিবার দেশে ছুটে এসেছেন এন্ড্রু কিশোরের ছেলে সপ্তক। রাজশাহীতে এসেই ছুটে গেছেন হাসপাতালে বাবাকে দেখতে। কফিনে মোড়ানো বাবাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
শনিবার (১১ জুলাই) সপ্তক ছুটে গিয়েছিলেন স্থানীয় গির্জায়। সেখানে একটি কাঠের কফিন বানিয়ে রাখা হয়েছে। যে কফিনে শেষ বিদায় নেবেন প্রিয় এই শিল্পী। বাবার কফিন ছুঁয়ে দেখছিলেন সপ্তক। ছুটে গিয়েছিলেন সমাধি স্থলেও। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও এন্ড্রু কিশোরের শিষ্য মোমিন বিশ্বাস।

বাবার স্মৃতিমাখা শহরের বাতাসে মিলেছে যেন এন্ড্রু কিশোরের ছেলে সপ্তকের বাবা হারানোর দীর্ঘশ্বাস। তার বাবা কোথায় ঘুরতেন, কোথায় বসতেন, কোথায় আড্ডা দিতে পছন্দ করতেন ঘুরে ঘুরে দেখছেন সপ্তক। ছুটে গেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারেও।
শহিদ মিনারের পাশে সবুজ ঘাসের ওপর বসতে পছন্দ করতেন এন্ড্রু কিশোর। ছাত্র জীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবলিশ চত্বরে প্রচুর আড্ডা জমিয়ে ছিলেন তিনি। সপ্তক ঘুরে ঘুরে বাবার সেসব স্মৃতিবিজড়িত জায়গাগুলো দেখেছেন। চোখের পানি লুকিয়ে এভাবেই নিজের কথাগুলো জানান সপ্তক।
এখন অপেক্ষা সপ্তকের বোন এন্ড্রু সঙ্গার জন্য। সঙ্গার দেশে ফেরার ফ্ল্যাইট চূড়ান্ত হয়েছে। শনিবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহর থেকে দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৪ জুলাই রাজশাহীতে বাবার কাছে এসে পৌঁছবেন। তিনি দেশে ফিরলে ১৫ জুলাই সমাহিত করা হবে এন্ড্রু কিশোরকে।

 

জানা গেছে, ১৫ জুলাই সকালে প্রথমেই রাজশাহী শহরের স্থানীয় চার্চে নেয়া হবে এন্ড্রু কিশোরের মরদেহ। সেখানে প্রার্থনা শেষ করে শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তাকে নিয়ে যাওয়া হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহিদ মিনারে। এদিন বেলা ১১টা থেকে ১ ঘণ্টা ভক্ত ও শুভাকাক্সক্ষীদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহিদ মিনারে রাখা হবে মরদেহ।

এরপর রাজশাহীর সার্কিট হাউস ও কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে খ্রীস্টিয়ান কবরস্থানে শায়িত হবেন তিনি। কবরস্থানে ঢুকেই বাম পাশের একটি স্থান তার পছন্দ। জায়গাটি তিনি আগেই দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। সে অনুযায়ী সমাধির স্থান প্রস্তুত হচ্ছে। এই কবরস্থানেই সমাহিত হয়েছেন শিল্পীর বাবা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ এবং মা মিনু বাড়ৈ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ