নিজ ভূমে পরবাসী

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

এভারিস্ট হেমব্রম



আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মেহনতি মানুষের উদ্দেশে লিখেছিলেন-
‘‘ হাতুড়ি শাবল গাইতি চালায়ে ভাঙ্গিল
যারা পাহাড়, পাহাড় কাটা সে পথের
দু‘পাশে পড়িয়া যাদের হাড়, তোমারে
সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি
তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল
ধুলি, তারাই মানুষ , তারাই দেবতা, গাহি
তাহাদের গান তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা
ফেলে আসা নব উত্থান।”
কবি কাজী নজরুল ইসলামের লাইন কটি পড়তে যেমন ভালো লাগে শুনতেও তেমন ভালো লাগে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের ইতিহাস এমনভাবে কোথাও লেখা হয়নি আর লেখা হবে কিনা জানি না। আদিবাসী সম্পর্কে অনেকে গবেষণা করে তত্ত্ববহুল জ্ঞান প্রদান ও বই লিখছে। কিন্তু আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আদিবাসীদের তেমন কোন প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
আমরা দেশবাসী ৯ নভেম্বর,২০১৬ এর পর থেকেই সংবাদ মাধ্যম ও টেলিভিশনে গাইবান্ধা জেলার সাহেবগঞ্জ উপজেলার বাগদা ফার্ম এলাকার সান্তালদের উপর নানা ধরনের নির্যাতনের খবর পাচ্ছি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদের খবরও আমাদের অজানা নয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র হচ্ছে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এ ঘটনা নিত্যদিনের। নানা কৌশলে আদিবাসীদের ভূমিগ্রাস ও নারী নির্যাতন চলমান যা গণমাধ্যমে খুব সামান্যই স্থান পায়। বিভিন্ন সময়ে ক্ষেত্র বিশেষে আদিবাসীদের নানাভাবে উপস্থাপন করা হয়। বলা হয়, এরা অশিক্ষিত পিছিয়ে পড়া অতিদরিদ্র ইত্যাদি। কিন্তু ইতিহাস অন্যকথা বলে। এক গবেষণায় (টনি বি¬ রির্পোট জানুয়ারি ১৯৯৭) উল্লেখ আছে বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মত উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্র ও সমতলভূমি এবং বৃহত্তর চলনবিলে বিভিন্ন আদিবাসী জনজাতির মানুষ খ্রীষ্টপূর্ব ৭০০ অব্দ পূর্ব থেকে বসবাস করে আসছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী এই সকল আদিবাসী জনজাতির সংখ্যা এই অঞ্চলে কমপক্ষে পঁয়তালি¬শ (৪৫) এবং এদের জনসংখ্যা প্রায় চলি¬শ লক্ষাধিক (৪০,০০,০০০)। যা সরকারি পরিসংখ্যানের সাথে মেলে না। এই আদিবাসীরা তাদের ভাষা ও সংস্কৃতিসহ উল্লি¬খিত সময়কাল থেকে এ অঞ্চলে বসবাস করে আসছে এবং জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রে তারা অদ্যবধি নিজেদের স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য বজায় রেখে চলেছে। যতদূর জানা যায়, মূলতঃ জীবিকার অšে¦ষণনেই আাদবাসীদের আগমন ঘটেছিল এ অঞ্চলে। এখানকার বনাঞ্চলাবৃত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উর্বর ভূমি এবং ফলমূল ও পশুসম্পদ আদিবাসীদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছিল। সম্মোহিত করেছিল আদিবাসীদের সহজ-সরল প্রকৃতিপ্রিয় মনকে। তারা খুঁজে পেয়েছিল নিজেদের প্রিয় আবাস ভূমি। তাই স্মরণাতীতকাল থেকেই আদিবাসীরা এ অঞ্চলের বনভূমি রক্ষার সাথে তাদের স্থায়ী আবাস ভূমি হিসেবে গড়ে তুলেছিল। উল্লি¬খিত সময়কাল থেকেই আদিবাসীরা এ অঞ্চলের আবাদযোগ্য ভূমি এবং বনভূমির উপর তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। এ অঞ্চলের ভূমি এবং বনভূমির উপর আদিবাসীদের অধিকার হলো অর্জিত অধিকার, কোন প্রকার প্রদত্ত অধিকার নয়। এ অধিকার আদিবাসীরা অর্জন করেছিল তাদের শ্রম, ঘাম, আত্মত্যাগ ও দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এভাবে ভূমির উপর অর্জিত স্বত্ব এবং অধিকার নিয়ে শতাব্দির পর শতাব্দি এই অঞ্চলে বসবাস করে আসছে তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে। এই ভূমি, অরণ্য এবং প্রকৃতিকে কেন্দ্র করেই তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি সব কিছুই গড়ে উঠেছে এবং বিকশিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, বর্তমান সভ্যতার বিকাশে এবং বর্তমান অর্থনীতির ক্ষেত্রে আদিবাসীদের শ্রমের অবদান অনস্বীকার্য। আরো অনস্বীকার্য তাদের হাজার বছরের অর্জিত ভূমি অধিকার। পূর্বে থেকে বসবাসরত আদিবাসীদের সূত্র ধরে এবং ১৮৫৫ – ৫৭ খ্রীঃ সান্তাল বিদ্রোহ ও মুন্ডা বিদ্রোহের পরবর্তীতে অভাবের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই প্রচ- খরার কারণে ওই অঞ্চলে মহার্দুভিক্ষ দেখা দেয়। অভাবের তাড়নায় ও খাদ্যের অšে¦ষণে তারা পার্শ্ববর্তী বরেন্দ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বরেন্দ্র অঞ্চল এ সময় ছিল জঙ্গলাপূর্ণ বিরান জনবিরল স্থান। আদিবাসী সান্তাল জনজাতিও এ অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে এসে বসবাস ও জীবনযাপন শুরু করে। এ সময় থেকেই বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আন্তর্জাতিক সীমানা রেখা বরাবর সবকটি জেলা এবং চলনবিলের উঁচু ঢিবিগুলোর কিছু কিছু স্থানে উল্লি¬খিত আদিবাসী জনজাতি সমূহ বসবাস শুরু করে। তখন এ অঞ্চল আাদবাসীদের বসবাসের ও জীবন ধারণের জন্য খুবই উপযোগী ছিল। ১৮৫৯-৬০ সালে বৃটিশ সরকারের রেভিনিউ সার্ভের প্রতিবেদনে বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রায় পুরো উত্তরাংশ পতিত জমি, জঙ্গল ও বন্যাচ্ছাদিত এলাকা এবং দক্ষিণাংশকে চাষাধীন বলে উল্লে¬খ করা হয়েছে। বৃটিশ কর্মচারী সাইমন ১৮৮৬ সালের বর্ণনায় বরেন্দ্র অঞ্চলকে প্রধানত কৃষিবর্হিভুত, খরা-পীড়িত উঁচু-নিচু কাঁটাবন হিসেবে দেখিয়েছেন। ১৯২০ সালের দিকে নেলসনের সার্ভে রির্পোটে দেখা যায়, বরেন্দ্র অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত সমতল ভূমির প্রায় সব বন ও তৃণলতা, গাছপালা পরিষ্কার করে ফসলের খেত করা হয়েছে। প্রথমতঃ এই কাজটার সূত্রপাত করেছিল আদিবাসীরা তাদের নিজেদের প্রয়োজনে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে। কিন্তু সম্পত্তি বাড়ানোর আকাঙক্ষা নিয়ে জমিদার, ভূ-স্বামী ও জোতদারগণ অন্যান্য মজুর শ্রেণির মানুষকে এই কাজটি করতে বাধ্য করে। এখানে বিষয়টি পরিষ্কার যে, মূলত আদিবাসীদের অমানুষিক পরিশ্রম ও ঘামের বিনিময়েই ফসলের জঙ্গলাকীর্ণ বরেন্দ্রভূমি পর্যায়ক্রমে ফসলের জমিতে পরিণত হয়েছিল। সমগ্র বরেন্দ্র অঞ্চলে এ সময় গড়ে উঠেছিল ছোট বড় পুকুর আর মহুয়া গাছে আবৃত ছড়ানো- ছিটানো ছোট-বড় অসংখ্য আদিবাসী পল্লী। কিন্তু জমিদার, ভূ-স্বামী ও জোতদার শ্রেণির লোলুপ দৃষ্টি থেকে নিস্তার পায়নি আদিবাসীদের কষ্টার্জিত বরেন্দ্র অঞ্চলের এই জমিজমা। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আদিবাসীদের বসবাস শুরু থেকে দীর্ঘপথ পরিক্রমণের বিভিন্ন সন্ধিক্ষণে বিভিন্নভাবে আদিবাসীরা তাদের ভূমি অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিশেষভাবে বলা যায় যে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভাগ, তৎপরবর্তীতে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, তেভাগা আন্দোলন, নাচোলের সান্তাল (আদিবাসী কৃষক) বিদ্রোহ, পাক-ভারত যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ এই সকল ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলির সময় বিভিন্ন ধরনের নির্মম অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে অধিকাংশ আদিবাসী পরিবার তাদের শেষ ভিটাটুকু হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়েছে। এখন প্রায় প্রতিদিনই সংবাদপত্রে দেখি যে, বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আদিবাসীদের সম্পত্তি আতœসাত, পূর্ব পুরুষের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ, আদিবাসীদের কবরস্থান রাতারাতি দখল করে চাষাবাদ, আদিবাসীদের মন্দিরের স্থান দখল ইত্যাদি নানান ঘটনা। তাই এই কথা বলা যায় যে, বর্তমানে আদিবাসীদের ভূমি, খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, সংস্কৃতিসহ বিভিন্নমূখি সমস্যার মধ্যে ভূমি সমস্যাই হচ্ছে অন্যতম প্রধান সমস্যা। ১৯৪৭ এর ভারত বিভাগের পর এই সমস্যাটি পর্যায়ক্রমে গভীর ও জটিল হয়ে উঠেছে। আদিবাসীদের জমি জাল হয়েছে ব্যাপকভাবে। অবৈধ ও বে-আইনি রেকর্ডের মাধ্যমে আদিবাসীদের বহু জমি জোরপূর্বক দখল নিয়েছে অ-আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকেরা। এমনকি কয়েক পিঁড়ির বসতভিটা থেকেও আদিবাসীদের উচ্ছেদ করার ঘটনা বহু ঘটেছে। আর এর ফলে আদিবাসীদের বর্তমান অবস্থা পর্যায়ক্রমে অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে উঠেছে। একদিকে আদিবাসীরা যেমন তাদের জাতিগত সাংবিধানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত রয়েছে, অন্যদিকে তাদের ভূমিসত্ত্বাধিকার রক্ষার জন্যেও বাংলাদেশে যথেষ্ঠ আইন প্রণীত হয়নি। যে যৎসামান্য আইন আদিবাসীদের সম্পত্তি রক্ষার জন্য আছে (এস.এ.এন্ড,অ্যাক্ট-১৯৫০ ধারা ৯৭) তাও সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় না। এর সঠিক ব্যাখার অভাবে আদিবাসীরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। এ সকল ঘটনার ফলশ্রুতিতে আমরা দেখি যে , ১৯৪৭ এর ভারত বিভাগের পূর্ব পর্যন্ত এদেশে আদিবাসীদের মধ্যে ভূমিহীনদের সংখ্যা ছিল ২০ ভাগের মধ্যে। কিন্তু এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ। দেশের অত্র অঞ্চলে আদিবাসীরা তাদের ভূমি রক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায় দুইটি ঐতিহাসিক ঘটনার পর। এক. ১৯৫০ সালে নাচোলের সান্তাল বিদ্রোহের সময় সরকারি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে কেবল চাপাঁইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় পঁচিশ হাজার আদিবাসী দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। ফিরে  এসে তাদের অনেকেই জমিতো দূরের কথা বসতভিটা পর্যন্ত ফিরে পায়নি। দুই. ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বরেন্দ্র অঞ্চলের অধিকাংশ আদিবাসী দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। স্বাধীনতার পরও এমন ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়াও প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ঘটনাক্রমে লক্ষ্য করা যায় যে, আদিবাসীরা তাদের পৈত্রিক আবাদি জমি, বসতভিটা ও ‘দেবোত্তর’ জমি (যেখানে মন্দির, গীর্জা, কবরস্থান, শ্মশান রয়েছে) থেকে বিভিন্নভাবে উচ্ছেদ হচ্ছে। উপরোল্লি¬খিত ঘটনাক্রম থেকে এবং অভিজ্ঞতার আলোকে একথা বলা যায় যে, প্রধানত নিম্নে বর্ণিত কারণ সমূহের জন্য আদিবাসীরা তাদের ভূমি অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ঐতিহ্যগত ভাবেই আদিবাসীদের মধ্যে বৈষয়িক জ্ঞান আত্মকেদ্রিক নয়। এর কারণ হলো, আদিবাসীরা চিরাচরিতভাবে বিশ্বাস করে যে, জমি হলো সৃষ্টি কর্তার দান। সৃষ্টিকর্তাই হলো এর মালিক। তিনি এ ভূমির মধ্য দিয়েই মানুষকে লালন-পালন করে থাকেন। জমিজমাকে ব্যবহার ও রক্ষা করার দায়িত্ব মানুষেরই। এই বিশ্বাসের কারণে অনেক আদিবাসীই ভূমির উপর তাদের মালিকানা সুদৃঢ় করতে দলিলপত্র সংরক্ষণে সচেষ্ট হয়নি। এছাড়া আদিবাসীরা শিক্ষাদীক্ষার ক্ষেত্রে অনগ্রসর বলে আইনগতভাবে ভূমির উপর তাদের বহু বছরের অধিকার বা মালিকানা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে অথচ যুক্তি দেখানো হয় আদিবাসীরা অসচেতনতা ও শিক্ষার অভাবে জমি হারিয়েছে। কিন্তু যদি বলা হয়, আদিবাসীদের দরিদ্রতার জন্য দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠি অর্থাৎ ভূমি দস্যু, জালিয়াতি চক্র ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দায়ী ?
আমি শ্রদ্ধাভাজন লে. জে মাহাবুবুর রহমান সাবেক সেনা প্রধান-কে কৃতজ্ঞচিক্তে সালাম জানাই। তিনি তাঁর লেখায় (বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৯ নেেভম্বর , ২০১৬) সান্তাল জাতি সর্ম্পকে যে অভিজ্ঞতা ও অনূভূতি ব্যক্ত করেছেন আমি একজন সান্তাল হয়েও সে রকম অনুভূতি প্রকাশ করতে পারবো না। তিনি দিনাজপুরের মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসীদের স্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লে¬খ করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চের ভোরে দিনাজপুরের সার্কিট হাউসে যারা পাকিস্তানি সেনাদের বিতাড়িত করে মুক্ত করেছিলেন সেদিন তাদের মধ্যে আমিও ছিলাম। মনে পড়ে সার্কিট হাউসের দোতলা সিঁড়ি থেকে নিচ পর্যন্ত ছপ ছপ রক্ত জমাট বেঁধে ছিল। হানাদার বাহিনী বাঙালিদের হত্যা করে লাশ নিয়ে সৈয়দপুরের দিকে পালিয়ে যায়। বৃহত্তর দিনাজপুর জেলায় বহু আদিবাসী যুবক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী অনেক আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র কুচক্রি মহল কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে তারা আর ফেরৎ পায়নি। যার ফলে আজও দিনাজপুরের আদিবাসীরা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাচ্ছে না। এখানে উল্লেখ্য যে অনেক আদিবাসী নারী সীমান্তবর্তী মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প ও শরণার্থী শিবিরগুলোতে মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের সেবা প্রদান করেছিল যা আজ শুধুই ইতিহাস। পরিশেষে এই টুকু বলতে চাই, আদিবাসীদের আস্থা ও বিশ্বাস এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠি যদি বাংলাদেশের যৎসামান্য আদিবাসীদের শিক্ষা, নিরাপত্তা, ভূমি রক্ষা, সংস্কৃতির উন্নয়ন ও সংরক্ষণের বিষয়গুলোতে সহায়তা করতে এগিয়ে না আসেন তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যাবে, এদেশের আদিবাসীদের দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর এবং নিচিহ্ন হওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার। অতএব, আসুন এদেশে বসবাসরত সমস্ত জাতিসমূহকে নিয়ে একটি সুখী, সমৃদ্ধি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ গড়াতে আত্মপ্রত্যয়ী হই।
(লেখক : উন্নয়ন সংগঠক , গবেষক ও লেখক)