নিত্যপণ্যের দাম কি নিয়ন্ত্রণহীনই থাকবে? দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে

আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০২১, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

কোন অজুহাত পেলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়। এতে করে ঘরে-বাইরে খাবারের খরচ জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। মহামারিকালে মানুষের আয় কমেছে। অনেক লোক কাজ হারিয়েছে। নতুন করে দরিদ্র হয়েছে অনেক মানুষ। এই অবস্থায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে মানুষ টিকবে কী করে সেটা একটা প্রশ্ন। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ কর কমানো, আমদানি বাড়ানো, টিসিবির বিক্রি বাড়ানো, বাজার মনিটর করার আগাম ব্যবস্থা নেবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো আগাম ব্যবস্থা নিতে কতটুকু সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে?
ট্রাক সেলে বাজার সামলানোর চেষ্টায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ ট্রাক সেলের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের বাজার সামাল দিতে চেষ্টা করছে। সারা দেশে ৪৫০টি ট্রাকে ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে নিজস্ব ডিলারের মাধ্যমে। ভোজ্য তেল, চিনি, মসুর ডাল ও পেঁয়াজ এ চার পণ্য বিক্রি হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকগুলোয়।
জানা গেছে, টিসিবির ট্রাকগুলো থেকে ক্রেতারা প্রতিকেজি চিনি ও মসুর ডাল ৫৫ টাকায় কিনতে পারছেন। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি ও ২ কেজি ডাল কিনতে পারেন। এছাড়া ১০০ টাকা লিটারে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। একজন ক্রেতা ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ লিটার তেল নিতে পারবেন। আর পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার সুযোগ থাকায় প্রতিদিন প্রচুর ক্রেতা এসব ট্রাকের পেছনে লাইন ধরছেন। স্বল্প আয়ের মানুষের বাইরে এখন মধ্যবিত্ত শ্রেণিও পণ্য কিনতে টিসিবির লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। তবে চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকায় অনেকেই অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সুনজর দিতে হবে।
নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ছেড়ে দেয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি বাজারে দাম কমানোর দায়িত্ব নিতে হবে। রাজশাহীর বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দফায় দফায় বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে। বাজারে শীতকালিন সবজি আসলেও দাম তেমন কমছে না। বাজারে এখন পর্যন্ত আলু ছাড়া সকল কাঁচামালের দামই বেশি।
রাজশাহীর সবজির বাজারে করলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতিপিস ৪০ টাকা, ঢেড়স বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি, গাজর ১০০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ২০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, কচুর লতি ৩০ টাকা, টমেটো ১৫০ টাকা ও পেঁপে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচাবাজারে সরবরাহ কম। তাই দাম বেশি। ভরা মৌসুমেও সবজির দাম কেন কমছে না। এখানে অসাধু ব্যবসায়ীদের কোন সিন্ডিকেট আছে কি না? এ বিষয়ে প্রশাসনের তদারকি বাড়াতে হবে।
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল-ডালসহ প্যাকেটজাত পণ্যের দাম কমাতে কর্তৃপক্ষকে ভূমিকা রাখতে হবে। বাজারে ৫ লিটারের রূপচাঁদা তেল বিক্রি হচ্ছে ৬৯৫ টাকা, তীর ৬৭৫ টাকা, ফ্রেশ ৬৭০ টাকা, বসুন্ধরা ৬৭৫ টাকা, চিনি কেজি প্রতি ৭৮ টাকা, মসুর ডাল ১০০ টাকা, সোনা মুগ ১৪০ টাকা, ছোলা বুট ৭০ টাকা, খেসারি ডাল ৮০ টাকা, কালাই ডাল ১৩০ টাকা ও লবণ ৩০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। চালের মধ্যে আটাশ চাল ৫০ টাকা, মিনিকেট ৬০ টাকা, জিরাশাল ৬০ টাকা, বাসমতি ৬৮ টাকা, পায়জাম ৬০ টাকা, নাজিরশাল ৬৬ টাকা, কাটারিভোগ ৮৫ টাকা, শরনা ৪৮ টাকা, কালজিরা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিনিগুড়া ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, আউশ ৫৫ টাকা ও বালাম ৬৫ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে। এবং সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ