নিবন্ধন ছাড়াই করোনা টিকা টিকা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২২, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বমহামারি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ভ্যক্সিনেশন খুবই কার্যকরী। স্বাস্থ্যবিধির পর ভ্যাক্সিনকেই সংক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভ্যাক্সিন নেয়া ব্যক্তিদের দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকছে। এছাড়া আক্রান্ত হলেও ভ্যক্সিন রোগীর শরীরে করোনার মারাত্মক প্রভাব থেকে রক্ষা করছে। শুরুতে টিকা নিয়ে দেশে বিভিন্ন বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলেও মানুষ এখন তা নিচ্ছেন। এবং ইতিবাচক ফল পাচ্ছেন। শুরু থেকে এই টিকা প্রদান কার্যক্রমে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়। যেটা প্রান্তিক জনগনের কাছে জটিল প্রক্রিয়া হিসেবে গণ হয়েছে। নানা জটিলতায় অনেকে দূর্ভোগের শিকারও হয়েছেন। তবে সম্প্রতি নিবন্ধন ছাড়াই টিকা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যা ইতিবাচক ফল দিবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
জানা যায়, জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, এমন ব্যক্তিরাও করোনার প্রথম ডোজের টিকা নিতে পারবেন। ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তারা সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন। ২৬ ফেব্রুয়ারির এক দিনে এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। সেদিনও টিকা পেতে কোনো ধরনের নিবন্ধন বা কাগজপত্র লাগবে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাতৃ, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক শামসুল হক জানিয়েছেন, ২৬ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যাদের জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্ট নেই, তারা এই তারিখের আগে সরাসরি হাসপাতাল ও টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন। মুঠোফোন নম্বরের মাধ্যমে তাদের তথ্য নথিভুক্ত করে টিকা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এমন ব্যক্তিদের একটি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডই টিকার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে ৩টি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্যরা এসব স্থান নির্ধারণ করবেন। স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র হতে পারে। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩টি করে দল থাকবে। সেদিন নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরেও প্রতি উপজেলায় ৫টি, প্রতি জেলায় ২০টি করে ভ্রাম্যমাণ দল থাকবে।
২৬ ফেব্রুয়ারি টিকা পেতে কোনো রকম নিবন্ধন লাগবে না। জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র কিছুই লাগবে না। তবে যাদের আছে, তারা প্রয়োজনে নিবন্ধন করতে পারবেন। পাশাপাশি আগের নিয়মে নিয়মিত টিকাকেন্দ্রগুলোতে কার্যক্রম চলবেই। তিনি আরও জানান, বর্তমানে পর্যাপ্ত টিকার মজুত আছে। প্রথম ডোজের টিকাকে একটা ধারায় আনতে ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম ডোজের টিকা দান শেষ করা হবে। দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ চলবে। যেহেতু প্রথম ডোজের টিকা কার্যক্রম ২৬ ফেব্রুয়ারির পর শেষ করার কথা বলা হয়েছে সুতরাং এই তারিখের মধ্যে প্রথম ডোজের টিকা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রচারণা করতে হবে। পাশাপাশি টিকা কার্যক্রমে উদ্ভুত সমস্যাগুলো মোকাবিলায় আরও তৎপর থাকতে হবে। প্রস্তুতিগুলোকেও যাচাই করে দেখতে হবে। যেন টিকা প্রদানের সহজ শর্ত নতুন করে জটিলতা তৈরি না করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ