নিবন্ধন ছাড়াই মিলছে টিকা , কেন্দ্রগুলোতে প্রচুর ভিড়

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২২, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


করোনা প্রতিরোধে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোনো ধরনের নিবন্ধন ছাড়াই টিকা দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে টিকা ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হকের এ ঘোষণার পর রাজশাহীর টিকাকেন্দ্রগুলোতে টিকাপ্রার্থীদের সমাগম বেড়েছে। বাড়তি ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ভিড় সামলাতে বিশেষ ব্যবস্থাপনা না থাকায় দুর্ভোগও বেড়েছে টিকা গ্রহণেচ্ছুদের।

শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের কোভিড-১৯ টিকাদান কেন্দ্র ঘুরে ও আরও ৫ টি কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টিকা প্রার্থীরা আনন্দচিত্তে টিকা গ্রহণ করছেন। কিন্তু কেন্দ্রগুলোর প্রতিটি বুথেই লম্বা লাইন। স্বাস্থ্যকর্মী ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীদের চেষ্টার পরও টিকা নিতে আসা মানুষের বাড়তে থাকা ভিড় সামলাতে কার্যত তেমন কোনো ব্যবস্থাপনা ছিলো না। নিশ্চিত হয় নি সামাজিক দূরত্ব কিংবা বাধ্যতামূলক মাস্কের ব্যবহার। মাস্ক ছাড়াই টিকা কেন্দ্রে গায়ে গা লাগিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। আর বাড়তি লোকের উপস্থিতিতে লাইন ভেঙে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হতেও দেখা গেছে। রামেক হাসপাতাল টিকাকেন্দ্রের নয়টি টিকাদান বুথে একই চিত্র দেখা গেছে।

টিকা নিতে দীর্ঘ লাইনে বাচ্চা কোলে দাঁড়িয়ে ছিলেন নগরীর ভাটাপাড়ার রুমা আক্তার। তিনি জানান, প্রতিটি বুথের সামনেই মানুষের প্রচুর ভিড়। এখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাটা অসম্ভব ব্যাপার। একজন আরেকজনের গায়ে গা লাগিয়েই লাইনে দাঁড়িয়েছি। কারণ ফাঁকা থাকলেই সেখানে কেউ না কেউ ঢুকে পড়ছে। ওয়েবসাইট থেকে নামানো টিকার কার্ড স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে জমা দিয়েছি। সেই কার্ড দেখে স্বাস্থ্যকর্মীরা একে একে নাম ধরে টিকা দিচ্ছেন। মানুষের চাপ এতো যে কিছুক্ষণ পরপর লাইন ঠিক করলেও তা পরক্ষণেই বিশৃঙ্খল হয়ে উঠছে।

নাম না প্রকাশ করে এক নার্স জানান, আজকে প্রচুর ভিড়। আমরা ভিড় সামলাতে বারবার আনসার সদস্যদের সাহায্য চাইলে তারা এসে লাউডস্পিকারে সকলকে দূরে সরতে অনুরোধ করছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ হয়তো ঠিক থাকছে। তারপর আবার জটলা বাঁধছে। ভিড়ের মধ্যে বয়স্ক ও যারা বাচ্চা নিয়ে এসেছেন তাদের সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু মানুষতো কথা শুনছে না। যার কারণে কিছুটা দুর্ভোগ থাকছেই ।

এদিকে, নিবন্ধন ছাড়া সকল টিকাকেন্দ্রেই টিকা প্রদান করা হচ্ছে বলা হলেও ১২ বছরের উপরে বেশকিছু শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ (রামেক) হাসপাতালের কেন্দ্র থেকে ঘুরে যেতে দেখা গেছে। তারা জানান, জন্মনিবন্ধন কার্ড নিয়েই টিকা দেয়া হবে এমন তথ্যে তারা টিকাকেন্দ্রে এসেছেন। কিন্তু এখানে যারা টিকা দিচ্ছেন তারা বলছেন নিবন্ধন ছাড়া টিকা তারা দিতে পারবেন না। এরআগে সকালে অগ্রণী স্কুলের টিকা কেন্দ্রে গেলে সেখান থেকে রামেক হাসপাতালের কেন্দ্রে যেতে বলে। এখানেও টিকা দেয়া হচ্ছে না। তাই চলে যাচেছন। সামনে ক্যাম্পেইনের দিন টিকা দেবেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, নিবন্ধন ছাড়া টিকা দেয়া হচ্ছে। তবে নিবন্ধন ছাড়া যারা প্রথম ডোজের টিকা নিচ্ছেন তাদের দ্বিতীয় ডোজের আগে নিবন্ধন করতে হবে। আর কোন রকম নিবন্ধন ছাড়াও টিকা দেয়া যাবে। সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি করোনার সার্টিফিকেট পাবেন না।

তিনি আরও জানান, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির ক্যাম্পেইনে রাজশাহীতে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা সরকার নির্ধারণ করেছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। কারণ এরইমধ্যে আমরা অধিকাংশ মানুষকে টিকা দিয়েছি। প্রায় ৯ লক্ষ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে প্রথম ডোজ প্রায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার দেয়া হয়েছে। এখন চিরুনি অভিযান চালিয়ে মানুষ খুঁজে খুঁজে বের করে টিকা প্রদান করা হবে।

তিনি আরও জানান, শনিবার বুথগুলোতে প্রচুর মানুষ হয়েছিলো। প্রত্যেকটা বুথেই লম্বা লাইন ছিলো। আর সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত বা মাস্ক মানুষ পরতে চায় না। এবিষয়ে জোরও করা যায় না। প্রতিটি বুথেই প্রায় পাঁচ জন করে কর্মী নিয়োজিত থাকছে।
আগামী ২৬ তারিখের ক্যাম্পেইন সম্পর্কে জানাতে চাইলে তিনি জানান, ওই ক্যাম্পেইনকে সামনে রেখে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নগরীতে প্রায় ৯০ টি বুথের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এরমধ্যে ১ টি ভ্রাম্যমান বুথ থাকবে।