নিবার্চন কমিশন এবং গণতন্ত্র

আপডেট: December 6, 2016, 11:59 pm

শাহ মো. জিয়াউদ্দিন
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন মুখ্য আলোচনা হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও অন্যান্য কমিশনারের নিয়োগের বিষয়টি। ২০ দলীয় জোট নেত্রী নির্বাচন কমিশনের সদস্যবৃন্দের নিয়োগের বিষয়ে ১৩ টি নির্দেশনা সংবলিত একটি প্রস্তাবনা সংবাদ সম্মেলনে পেশ করেন। তার এই নির্দেশনার সাথে কথিত কিছু বুদ্বিজীবীও একমত হয়েছেন আবার কিছু কথিত সুশীল এই বিষয়টিকেই উল্টিয়ে পাল্টিয়ে কথার মারপ্যাচে নিরপেক্ষতার নামে টক শো গুলোতে একই কথা ভিন্ন ঢঙে বলছেন। ২০ দল নেত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষে প্রস্তাব দিয়েছেন, দেশের সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সার্চ কমিটি গঠন করার। এই সার্চ কমিটির সদস্যরাই খুঁজবেন নিরপেক্ষ ব্যক্তি আর এই নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে নির্বাচন কমিশন। প্রস্তাবটির মধ্যে অনেক যৌক্তকতা আছে। তবে দেশে নিরপেক্ষ ব্যক্তি কারা? প্রকৃত নিরপেক্ষ ব্যক্তি যারা তারা কি বেগম খালেদা জিয়ার দেয়া প্রস্তাবনায় গঠিত সার্চ কমিটির দূরবীনে ধরা পড়বে? যারা দেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলিতে নীশিকথক হয়ে আসেন তাদেরকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বলা হয় আর এরাই নাকি নিরপেক্ষ। দয়া করে একটু এদের নিশীকথনগুলি শুনবেন তাহলে বুঝবেন, প্রকৃতার্থে এরা কোন দিনই নিরপেক্ষ নন। খাঁটি নিরপেক্ষ মানুষ সব সময় প্রচার বিমুখ। তাই এদের এই ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমে দেখা যায় না। ফলে এই সার্চ কমিটি দূরবীণ দিয়েও কোন দিন প্রকৃত নিরপেক্ষ ব্যক্তি খুঁজে পাবে না। অতীতের কথা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন দেশে পাগল আর শিশু ছাড়া কোন নিরপেক্ষ মানুষ নাই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দ্বারা নির্বাচন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন নাকি নির্বাচন কমিশনকেই স্বচ্ছ ও জবাবদিহি করার মতো আইনি প্রক্রিয়ায় আনা দরকার? নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটিকে অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার মতো আইনি স্বাধীনতা দিতে হবে। নিরপেক্ষ আর দলপুষ্ঠ যে কোন ব্যক্তি কমিশনের দায়িত্ব পালন করুন না কেন তিনি কি তার জন্য নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে কিছু করতে পারবেন না। নির্বাহী বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন এই দুটির মধ্যে সম্পৃক্ততা কতটুকু আছে? দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি  বিভাগ অন্য বিভাগকে কতটুকু প্রভাবিত করে বা নিয়ন্ত্রিত করে তা নির্ধারণ করা উচিত। কমিশন যদি স্বাধীনভাবে প্রভাবমুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করতে না পারে তাহলে সার্চ কমিটি খোঁজে যতই নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনে আনুক না কেন তাতে কোন সুখকর ফল হবে না। কোন দেশের গণতন্ত্র কি সে দেশের নির্বাচন কমিশন এনে দিতে পারবে? নির্বাচন কমিশন কি গণতন্ত্রের রক্ষা কবচ? গণতান্ত্রিক দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন শুধু মাত্র নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন দ্বারা সম্ভব? না এর জন্য আইনি কাঠামোর দরকার। সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা জরুরি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন কি ঘটেছে? শুনেছি ্ওই দেশে  নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। তারপরও কেন সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি? আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের দেয়া প্রদত্ত ভোটের মধ্যে হিলারী ক্লিনটন পেয়েছেন ৫ কোটি ৯৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৫ ভোট, অপরদিকে ট্রাম্প পেয়েছেন ৫ কোটি ৯৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮০৬ ভোট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আপামর জনতা কাকে সমর্থন দিল? প্রকৃত গণতন্ত্রের অর্থে সাধারণ ভোটারদের ভোটে হিলারী নির্বাচিত। বাস্তবে ট্রাম্প নির্বাচিত হলো প্রেসিডেন্ট। কারণ দেশটি রয়েছে মোট ৫৩৮ টি ইলেক্টরাল ভোট। এই ভোটের ২৭৯ টি পেয়েছেন ট্রাম্প আর হিলারী পেয়েছেন ২২৮ টি। দেশটির আইনে বলা আছে, ইলেক্টোরাল ভোট যিনি বেশি পাবেন তিনিই নির্বাচিত হবেন। এটা কি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। অথচ বাংলাদেশের সকল গণমাধ্যম ফলাও করে মার্কিন নির্বাচনকে প্রচার করেছে এবং কথিত টকশো ব্যক্তিত্ব নিশীকথনে এসে আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থাকে অনুসরণ করতে বাংলাদেশের সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন। আমেরিকার এই নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র প্রকৃত গণতন্ত্রের অর্থবহন করে না। ইলেক্টোরাল ভোট পুঁজিবাদের স্বার্থে কাজ করে। তাই প্রায়ই সকল আমেরিকার নির্বাচনে দেখা যায়, যে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পুঁজিবাদের বেশি আজ্ঞাবহ তিনিই ইলেক্টরাল ভোটে বিজয় হয়ে থাকেন। সম্প্রতি  আমেরিকার নির্বাচনের পর দেশটির পঞ্চাশটি অঙ্গ রাজ্যের শহর জুড়ে ছিল ট্রাম্প বিরোধী মিছিল আর বিক্ষোভে উত্তাল। এই উত্তাল বিক্ষোভ বা সমগ্র জনগণের ঘৃণা-বিদ্বেষ শাসক শ্রেণির কাছে কি গুরুত্ব পেয়েছে? আমেরিকার নির্বাচন কমিশনতো নিরপেক্ষভাবেই দায়িত্ব পালন করল- তারপর কেন নির্বাচনোত্তর সহিংস পরিস্থিতি দেশটিতে। সরকার প্রধান নির্বাচনে আমেরিকার কাঠামোগত যে ব্যবস্থা রয়েছে তাতে সার্বজনিন গণতান্ত্রিক মতামতের প্রতিফলন ঘটে না। অপরদিকে সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবার দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়, দেশটিতে কমিউনিস্ট পার্টির একদলীয় শাসন চলছে ৫৭ বছর ধরে। এই শাসনের ফলে দেশটিতে জনগণের মতামত প্রকাশের কোন ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়নি। জনগণের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে কিউবার সরকার বরাবরই কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। ফিদেল কাষ্ট্রো ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত কিউবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এবং ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কিউবার রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। জনগণের সমর্থন পেয়েই  তিনি সরকার প্রধান হয়েছেন। কোন রাষ্ট্রের সরকার পরিচালনায় একদলীয় ব্যবস্থা থাকলেও জনগণ স্বাধীনভাবে গণতান্ত্রিক পরিবেশে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে যদি সাংবিধানিকভাবে সেই প্রক্রিয়া চালু  থাকে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, ১৯৯১ সালে যখন সোভিয়েত  ইউনিয়নে সমাজতন্ত্রের পতন হয়। সারা ইউরোপের দেশগুলিতে একে একে কমিউনিস্ট সরকারের পতন হতে থাকে। তখনও কিন্তু কিউবায় সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা অটুট ছিল ফিদেল কাষ্ট্রোর নেতৃত্বে। কারণ ১৯৯১ সালে কিউবার সরকার  নাগরিকদের মতামত নিয়েছিলেন পার্টির কার্যক্রমের উপর। দেশের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ রাজনৈতিক কাঠোমো এবং অর্থনৈতিক নীতি  বিষয়ক বিতর্কে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে মতামত দেয় আর বাকি নাগরিকরা পরোক্ষ পদ্ধতিতে তাদের মত প্রদান করে। ফলে ১৯৯১ সালের কংগ্রেসে কিউবান কমিউনিস্ট পার্টিকে একমাত্র “শ্রমিক শ্রেণির পার্টি” হিসাবে উল্লেখ না করে “ কিউবান জাতির পার্টি ” হিসাবে অভিহিত করা হয়। ট্রাম্প ফিদেল সর্ম্পকে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। কারণ, ট্রাম্প সংখ্যালঘু পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষাকারী ইলেক্ট্ররাল ভোটে নির্বাচিত। আর ফিদেল ছিল কিউবার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতের ভিত্তিতে সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান। গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে যতই তর্ক আর বিশ্লেষণ দেয়া হোক না কেন, যদি রাষ্ট্রের গণতন্ত্রে সাংবিধানিকভাবে সর্ব শ্রেণির  জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকে, তাহলে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে যতই কমিশন গনঠন করা হোক না কেন, তাতে জনগণের প্রকৃত চাহিদা বা মতামতের প্রতিফলন ঘটবে না। দেশের প্রথম সেনা শাসক মে. জে. জিয়া বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিদার। সেই সময় কি কোন স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন হয়েছে? মত প্রকাশের কি স্বাধীনতা ছিল? তিনি নিজেইতো সেনা ছাউনিতে বসে জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। আর জনগণের সামনে বহুদলীয় গণতন্ত্রের তত্ত্ব হাজির করলেন, দেশে কি তখন প্রকৃত গণতন্ত্র ছিল? নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে কতটুকু গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তা বাংলাদেশের নিকট অতীতের দিকে নজর দিলেই বুঝা যায়। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুল আজিজ। তিনি সেই সময় দেশের গণমাধ্যমগুলিতে কবিতার ছন্দে ছন্দে বলেছিলেন, সীতা জ্ঞান, সীতা ধ্যান ইত্যাদি ইত্যাদি এই কথার অর্থ ছিল? তিনি নির্বাচন করবেন একমাত্র তার ধ্যান জ্ঞান হচ্ছে স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন কেন্দ্রীক। আজিজ সাহেবের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনারা একটি ভোটার লিস্ট করেছিলেন। তাদের তৈরি করা ভোটার লিস্টে দেশের মোট ভোটার ছিল সেই সময়ের ১৮ বা তদ্দুর্ধ বয়সের জনসংখ্যার চেয়ে প্রায় এক কোটি পঞ্চাশ  লাখ বেশি। তা থেকে বুঝা যায়, কমিশন গণতন্ত্র রক্ষায় কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারে। ভোটার লিস্টের বিষয়কে কেন্দ্র করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী আন্দোলন শুরু করেন সেই সময়। তাঁর দাবি ছিল একটি স্বচ্ছ ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করার। এই পদ্ধতিতে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করলে কোন ব্যক্তি একাধিকবার ভোটার তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ করতে পারবে না, আর দেশের প্রকৃত ভোটার সংখ্যা জানা যাবে। তৎকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন দেড় কোটি ভূয়া ভোটার নিয়েই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনড় অবস্থান নেয়। সেই সময়ে কমিশনের অনড় অবস্থান নেয়াটা কি কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে ছিল নাকি নির্বাহী বিভাগের নির্দেশে তিনি যেনতেন অবস্থায় একটি নির্বাচন সম্পন্ন করতে চেষ্টা করেছিলেন? ওই সময় আব্দুল আজিজ সাহেবের অনড়তার ফলে শুরু হয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন। এই  আন্দোলন এতটাই ব্যাপকতা পেয়েছিল যে, সরকারের ভীত নড়ে গিয়েছিল। তবে আন্দোলনের সুযোগটা কাজে লাগায় কথিত সুশীল বেষ্টিত সামরিক বেসামরিক আমলারা। অগণতান্ত্রিক ওয়ান ইলিভেনের তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে। এদের ক্ষমতার মোহটা ছিল প্রকট। তাই নানা প্রক্রিয়ায় নিজেদেরকে ক্ষমতার আসনে অধিষ্ঠিত করে রাখার প্রচেষ্টাও তারা করে। তাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। আর ক্ষমতা এসে তত্ত্বাবাধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের কাছে দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজাকার আলবদর আল শামসদের বিচার শুরু করে। স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধীরা সাজা পায়। ৭১ এর নরঘাতকদের বিচারের বিষয়টিরও প্রতিফলন ঘটে রাজনীতিতে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ২০১৪ সালের নির্বাচন তত্ত্বাবধায়কের সরকারের অধীন হতে হবে বলে দাবি তোলে। এই জোটের অন্যতম শরীক দল হলো যুদ্ধাপরাধী জামাত। এই দাবিতে ২০ দল হরতাল বিক্ষোভ অবরোধের নামে দেশজুড়ে তা-ব এবং নৃশংসতা চালায়। প্রায় হাজার খানেক সাধারণ মানুষ মারা যায় সেই সময় আন্দোলনের কবলে পড়ে। আন্দোলনকারী পিকেটারের ছোড়া পেট্রল বোমায় প্রায় শতাধিক  নিরীহ মানুষ জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না হওয়ায় ২০ দলীয় জোট ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিরোধ করতে মাঠে নামে। ২০ দলীয় জোটের কর্মীরা নির্বাচন প্রতিহত করতে ভোট কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। কয়েকজন  প্রিজাইডিং অফিসারও তখন মারা যায়। দেশের অনেক স্থানে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে হরতালকারী পিকেটারদের ধরে পুলিশে দেয়। এ ধরনের আন্দোলনের মাধ্যমে কি গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে আসবে? বর্তমানে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ হওয়ার জন্য ২০ দলীয় জোট নেত্রী তার দাবিটা সকল রাজনৈতিক দলে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি থেকে কি ২০ দলীয় জোট সরে দাঁড়াচ্ছে? তারও একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা ২০ দলের দেয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা আনতে হলে কমিশনের রুলস অব বিজনেস বা আইগত দায়দায়িত্ব বিষয়টির সংস্কার করা প্রয়োজন। আইনি সংস্কারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। কমিশনের কাঠামোগত ব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা না আসলে ব্যক্তির নিরপেক্ষতায় অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না।
লেখক কলামিস্ট