নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য তহবিল আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০২০, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস মহামারিতে লকডাউনের মধ্যে দেশের প্রতিটি মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। স্কুলের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিল্পপতি সকলেই ক্ষতির সম্মুখিন। এরমধ্যে নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি সঙ্কটের মধ্যে আছেন। করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় মোট পাঁচটি প্যাকেজে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৫ এপ্রিল গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি। আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা ও মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি-এ চারটি কার্যক্রম নিয়ে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব ও উত্তরণের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মপরিকল্পনার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের আওতায় এ টাকা দেয়া হবে।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য খাতেও ধাপে ধাপে প্রণোদনার ঘোষণা দিচ্ছেন। শ্রমজীবী মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত পেশাজীবী, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোমবার (২১ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে। এই তহবিল থেকে ঋণ নিলে সুদ হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক, প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে কৃষি এবং বিভিন্ন আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্থানীয় উদ্যোক্তা ও পেশাজীবী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই তহবিল থেকে ঋণ পাবেন।
তথ্যমতে, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (এমএফআই) গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ করবে। কেবল ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সমিতিভুক্ত সদস্যরাই গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত উপকারভোগিরা যাতে ঋণ সুবিধা পেতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
করোনাভাইরাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এই ঋণ সংশ্লিষ্টদের জন্য সহায়ক হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই ঋণের সুদ হার আরো কম হলে এই প্রণোদনার উদ্দেশ্য অধিক সাফল্য লাভ করতো। সুদ হার ৪-৫ শতাংশের মধ্যে রাখলেই ভাল হতো। যে শ্রেণি-মানুষের জন্য এই ঋণ সুবিধা তাদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ৯ শতাংশ সুদহার বেশ কঠিন হয়ে যাবে। তদুপরি যাদের জন্য এই ঋণ সুবিধা তাদের তালিকা যথার্থভাবে যাতে হয় সে দিকেও নজরদারির প্রয়োজন আছে। সরকারের এই উদ্যোগ করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবে- এই প্রত্যাশাই রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ