নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে রাবিতে সৌর প্লান্ট সাশ্রয় হবে বিদ্যুৎ ব্যয়

আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৭, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্লাসরুম মাল্টিমিডিয়ায় রূপান্তর করা হয়েছে। ছবি, অডিও ও ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে সহজতর হয়ে উঠেছে ক্লাসের পড়াশোনা। কিন্তু প্রাণবন্ত এ ক্লাসের একমাত্র প্রতিবন্ধকতা বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান। মাঝে মাঝে মোমবাতি জ্বালিয়েও পরীক্ষায় বসতে হয় শিক্ষার্থীদের।
তবে উদ্ভুত এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে রাবি প্রশাসন। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট। ইতোমধ্যে গ্রেড-টাইপ সিস্টেমে দুই প্রশাসন ভবন ও উপাচার্যের বাসভবনের ছাদে এ প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে যেমন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের হাত থেকে বাঁচা যাবে, তেমনি বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতর সূত্রে জানা গেছে, সৌর প্লান্ট নির্মাণের জন্য সরকার রাবিতে ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ইলেক্ট্রনিক সোলার পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কোম্পানিটি দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পেয়ে ২৯ লাখ ২৭ হাজার ৯৯৯ টাকায় সম্পন্ন করেছে।
এ প্লান্টটি বর্তমানে ট্রায়ালে চলছে। প্লান্টটি সর্বোচ্চ ৪৩ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। উৎপাদিত এ বিদ্যুৎ রাবি অধীনস্থ পিডিবির (পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড) সঞ্চালন লাইনে সরাসরি যুক্ত করা হবে। সোলার প্যানেলটি বিশ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম বলেও জানায় প্রকৌশল দফতর। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন ও হলের ছাদে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট বসানো হবে। এসব প্লান্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ লোডশেডিং চলাকালীন ভবন ও হলগুলোতে সরবরাহ করা হবে।
এ বিষয়ে রাবির প্রকৌশল দফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এসএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘কাঠ-তেল-গ্যাসসহ প্রাকৃতিক জ্বালানি উৎস্যগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। প্রাকৃতিক জ্বালানির বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিবেশ বান্ধব।’ বাংলাদেশের সৌর বিদ্যুৎ থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব সেটা উৎপাদন করা গেলে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি অনেকাংশে কমানো যাবে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প শুরু হয়েছে। এ প্লান্টের ৪৩ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খুব কম মনে হলেও পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ভবন ও হলগুলোতে এ প্লান্ট বসানো হবে।’
বিষয়টি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ক্লাসরুমগুলোকে ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে রুপান্তর করা হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন আইসিটি ল্যাব। কিন্তু লোডশেডিঙের কারণে এসবের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে আমরা সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি।
প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানের ৪৩ কিলোওয়াটের প্রকল্পটি ট্রায়ালে রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই এটিকে আমরা ব্যবহার করতে পারবো। বরাদ্দের ৮০ লাখ টাকার মধ্যে ২৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে বাকি টাকা দিয়ে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ভবন ও হলগুলো সৌর বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’ খুব শিগগিরই এ প্রকল্পের সুফল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ