‘নিরাপত্তার জন্য হাত কেটে নেওয়া জরুরি’, অপরাধীর চরম শাস্তির পথেই হাঁটছে নয়া তালিবান সরকার

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, ৮:১৩ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


তারা ক্ষমতায় এসে বলেছিল, আগের মতো আর নেই। অনেক বেশি উদার এখন তারা। কিন্তু সেসবই যে কথার কথা, তা আবারও প্রমাণ করল তালিবান। জানিয়ে দিল, শরিয়া আইন মেনে কড়া শাস্তির পথেই হাঁটবে নতুন সরকার। হাত কেটে নেওয়ার মতো শাস্তিই দেওয়া হবে। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে। এতে বিদেশি রাষ্ট্র বা মানবাধিকার সংগঠনের মতামত শুনতে তারা রাজি নয়।

তালিবানের হয়ে এই ঘোষণা করলেন মোল্লা নুরউদ্দিন তুরাবি। তালিবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এপি-কে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেছেন, অপরাধীদের কঠোর শাস্তির পথেই হাঁটবে তালিবান। তবে আগের মতো হয়তো প্রকাশ্যে নয়। নয়ের দশকে প্রথম শাসনকালে কাবুলের স্টেডিয়াম বা ইদগাহ্ মসজিদে হাত, পা কেটে নেওয়া হত অপরাধীর। খুন করা হত। দাঁড়িয়ে দেখতেন হাজার হাজার আফগান।

এই নিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তালিবান সরকারকে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তুরাবির যুক্তি, ‘স্টেডিয়ামে কঠোর শাস্তি দেওয়া নিয়ে আমাদের সমালোচনা করেছে সকলে। আমরা কিন্তু ওদের শাস্তি বা আইন নিয়ে কখনও কথা বলিনি। আমাদের আইন কী হবে, তা অন্য কেউ বলে দেবে না। আমরা ইসলামের পথে হাঁটব। কোরানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে আইন।’
তুরাবি তালিবানের আগের জমানায় বিচার মন্ত্রী ছিলেন। সোভিয়েত বাহিনীর সঙ্গে আটের দশকে যুদ্ধে একটি চোখ এবং একটি পা হারিয়েছিলেন। নীতি-পুলিশি করার জন্য বারবার সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সাংবাদিক বৈঠক থেকে এক নারী।

সাংবাদিককে বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন। একজন পুরুষ তার প্রতিবাদ করায় মারধর করেছিলেন। সরকারি দপ্তরে কারও মুখে দাড়ি বা মাথায় আগড়ি না থাকলে তুরাবির লোকজনরা হেনস্থা করত। মারধর করত। নয়ের দশকে গাড়িতে গান চললে, ক্যাসেট ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিতেন তুরাবি।

তবে তিনি আবারও দাবি করলেন, আগের থেকে বদলে গিয়েছে তালিবান। টিভি, ভিডিও, ছবি, মোবাইল ফোনে অনুমোদন দেবে নতুন সরকার। কারণ ‘এগুলো মানুষের প্রয়োজনীয়তা। আমরা তাই গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’
তথ্যসূত্র: আজকাল

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ