নিরাপদ আম উৎপাদন বিষয়ক কর্মশালায় অংশিজন নিরাপদ আম উৎপাদন এবং এর সঠিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে

আপডেট: মে ২৭, ২০২২, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে নিরাপদ উপায়ে আম উৎপাদন, সংগ্রহ, পাকানো, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় অংশিজনেরা বলেছেন, নিরাপদ আম উৎপাদন এবং এর সঠিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। তবেই আমের মান ও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাইউম সরকার, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খুরশীদ ইকবাল রেজভী, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ।

কর্মশালায় আম উৎপাদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলীম উদ্দীন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কাইউম সরকার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। গরিব মানুষের এখন মাছ কেনার সামর্থ আছে। তবে সময় এসেছে এখন খাদ্যের মান নিশ্চিত করার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত খাদ্যের মান রক্ষায় সমকক্ষ হতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুরশীদ ইকবাল রেজভী বলেন, আম পাড়ার সময় বেধে দেয়া একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এ ক্ষেত্রে আমের নিরাপদতা রক্ষা করা অধিক ক্ষেত্রেই সম্ভব হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ বলেন, আমের নিরাপদ আম উৎপাদনের ওপর এর বহির্বাণিজ্য নির্ভর করে। এর জন্য বিশ্বস্ততার সাথে আম উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আম অর্থকরি ফসল। এর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আমচাষে বৈজ্ঞানিক উপায়ে রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবেÑ এটা বিশ্ব্যব্যাপি স্বীকৃত পন্থা। তবে চাষি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার এ ব্যাপারে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। তবে চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেকার সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে।

সভাপতির ভাষণে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল রাজশাহীর আমে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, এটা প্রমাণিত যে, অভিযোগ সঠিক নয়।

তিনি বলেন, সরকার আমের নিরাপদতা নিশ্চিত করার জন্য যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তাতে আমচাষি, ব্যবসায়ী এবং ক্রেতারাও উপকৃত হচ্ছেন এবং আম উৎপাদন. সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে শৃঙ্খলা ফিওে এসেছে। ক্রেতাদের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসন আম পাড়ার ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে। এই মুহূর্তে ঢাকায় হিমসাগর আম বিক্রি হবে না। বিক্রি হচ্ছে গোপাল ভোগ। চাষিরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম পাড়ছেন এবং ব্যবসায়ীরা তা বাজারজাত করছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্যকর্তৃপক্ষকে উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। বিভাগীয় সদরে খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে আধুনিক ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করা হবে। শুধু তাই নয়Ñ ভ্রাম্যমান ল্যাবরেটরি হবে- যা তৃণমূল পর্যন্ত সেবা দিতে পারবে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালার স্বাগত বক্তব্য দেন, জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. লোকমান হোসেন।

এছাড়াও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আয়োজনে কর্মশালায় জেলার কৃষি উদ্যোক্তা, গণমাধ্যমকর্মী, আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।