নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন

আপডেট: ডিসেম্বর ১২, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নির্বাচন কমিশন কঠোর হবে!

প্রার্থীদের তর সইছে না! নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করে অনেক প্রার্থীই নির্বাচন কমিশনের কারিণ দর্শাও নোটিশের মুখে পড়েওেছন। এদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ নেতা থেকে নবীন এবং এমপি- মন্ত্রীরাও রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের কারণ দর্শাও নোটিশের পরেও যে প্রার্থীরা নিজেদের লাগাম টেনে ধরছেন, তা হচ্ছে না। সামনের দিনগুলোতে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা আরো বাড়তে পারে বলেই আশংকা করা হচ্ছে। নির্বাচনি মাঠে প্রার্থীরা সহিষ্ণুতা হারিয়ে বসছেন।

১৮ ডিসেম্বর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। মূলত তার পর থেকেই নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে। প্রার্থীরা নির্বাচনি আচরণ বিধি মেনে মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। কিন্তু প্রার্থীদের অনেকেই মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগে থেকেই নানা উপায়ে নির্বাচনি মাঠে নেমে পড়েছেন। সোনার দেশ পত্রিকার সংবাদ অনুযায়ী কোনো প্রার্থীর পক্ষে লিফলেট- পোস্টার ছাপিয়েও কর্মিরা প্রচারণা করছেন- এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযেঙাগ মাধ্যমে জোর প্রচারণাও অব্যাহত আছে।

সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দলীয় প্রার্থীদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দল থেকেও উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। তবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে অস্বস্তির মধ্যে আছেন। কেননা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাদের সাথেই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছোটখাটো মারামারি এবং নিজেরা বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন। রোববার (১০ ডিসেম্বর) নাটোর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম এবং নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে সভায় উত্তেজনাও তৈরি হয়।

নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রাথীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশংকা করা হচ্ছে। যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের নেত্রী নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিযোগিতা করার একটা সুযোগ দিয়েছেন। এই সুযোগের অপব্যবহারটা যেন কেউ না করেন। এখানে জোরজবরদস্তি করবেন, নৌকার সঙ্গে মল্লযুদ্ধ করবেন, সেটা হবে না। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভায় এ কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ের এই পরিস্থিতি আপাত চ্যালেঞ্জিং বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যদিকে দলীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দলীয়ভাবেই শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে এখন থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে। পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না গেলে নির্বাচনে অনাকাক্সিক্ষত বিশৃঙ্খলার সাথে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।