নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে রাবি অফিসার সমিতির সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২২, ১১:০৬ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক:


সভাপতি ও সাধারণ সম্পাকের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা ধরণের অপকর্মের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতির একাংশ। এছাড়াও দীর্ঘদিন থেকে নির্বাচন না হওয়ায় কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাকের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা ধরণের অপকর্মের অভিযোগ এনে ড. গোলাম মোস্তফা-কাওসার-চঞ্চল পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান চঞ্চল বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর পর পর কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতা নির্বাচিত হয়। সে হিসেবে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সমিতির সাধারণ সভায় সকল সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে জিয়াউল আলমকে কমিশনার করে সে বছরের ১১ এপ্রিল নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে নির্বাচন কমিশনার সে বছরের ৫ এপ্রিল তিন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে এক মিটিংয়ে প্যানেল ঠিক রেখে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, মহামারীর প্রকোপ কমে গেলে নির্বাচন কমিশনার এক মিটিংয়ে সে বছরের ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে রাবি উপাচার্য তিন পরিষদকে নিয়ে আলোচনার জন্য এক সভার আহ্বান জানালে সে সভায় দুই পরিষদের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও রাহী-রাব্বেল পরিষদ উপস্থিত ছিলো না। সে সভায় উপাচার্য দ্রুত নির্বাচন করে নিতে উপস্থিত দুই পরিষদ এবং নির্বাচন কমিশনকে মৌখিক নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনার আলোচনার জন্য তিন পরিষদকে ডাকলে সেই সভাতেও রাহী-রাব্বেল পরিষদ অনুপস্থিত থাকে এবং নির্বাচন কমিশনার জিয়াউল আলমের অধীনে তারা নির্বাচন করবেন না বলে প্রচার করে।
সংবাদ সম্মেলনে কামরুজ্জামান চঞ্চল বলেন, সমিতির সভাপতি এক বছর দেশের বাইরে থাকার পর দেশে এসে কর্মস্থলে যোগদান করলে সাধারণ কর্মকর্তাবৃন্দ নির্বাচন বিষয়ে তাকে চাপ দেয় এবং তলবী সাধারণ সভার জন্য প্রায় ৪৫০ জন কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একটি আবেদন গত ৭ জুলাই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর জমা দেন। কিন্তু তারা সেই আবেদন আমলে না নিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিশেষ সাধারণ সভার আয়োজন করে অধিকাংশ কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে সভার কার্যক্রম শুরু করে অগঠনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন কমিশনারের নাম ঘোষণা করে।

পরবর্তীতে গত ৫ জুলাই সমিতির সাধারণ সদস্যদের অনুরোধে ততক্ষণাৎ সমিতির সহ-সভাপতিসহ কার্যনির্বাহী কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্যের উপস্থিতিতে তলবী সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় তলবী সভার জন্য স্বাক্ষর সংগ্রহকারী মোক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে সর্বসম্মতিক্রমে সমিতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হওয়ায় রাবির রেজিস্ট্রারকে উদ্ভুত পরিস্থিতির সমাধানসহ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সমিতির গঠনতন্ত্রসহ সভার সিদ্ধান্তের কপি রেজিস্ট্রার মহোদয়ের নিকট জমা দেওয়া হয়। রেজিস্ট্রার রাহী-রাব্বেল পরিষদকে সমঝোতার জন্য অন্য দুই প্যানেলের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিলে তারা সেই প্রস্তাবও প্রত্যাখান করে তাদের ঘোষিত পুতুল নির্বাচন কমিশনারকে দিয়েই গত ৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

সংবাদ সম্মেলনে সামনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে কামরুজ্জামান চঞ্চল বলেন, রাহী-রাব্বেল যেভাবে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বরের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দিয়ে নির্বাচন স্থগিত করেছিল, তেমনি তাদের স্বেচ্ছাচারিতা অটুট রাখার জন্য পুতুল নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে পুনরায় সামনের নির্বাচন নিয়ে আমরা শংকিত। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

অগঠনতান্ত্রিকভাবে ঘোষিত নির্বাচন কমিশনারের অধীনে কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কামরুজ্জামান চঞ্চল বলেন, সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের একনায়কতন্ত্রের মাধ্যমে ঘোষিত নির্বাচন কমিশনকে আমরা প্রত্যাখান করেছি। তবে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা সাধারণ কর্মকর্তাদের সার্বিক স্বার্থের কথা চিন্তা করে এবং তাদের পরামর্শেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি নির্বাচনে অংশগ্রহনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী অযোগ্য নেতৃত্বের হাত থেকে কর্মকর্তাদের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে ড. গোলাম মোস্তফা-কাওসার-চঞ্চল পরিষদের সভাপতি ড. গোলাম মোস্তফা, কোষাধ্যক্ষ গোলাম কাওসার, দপ্তর সম্পাদক রাশেদুল হাসান, ক্রিড়া সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।