নির্বাচনের হাওয়া বইছে রাণীনগরের ৩টি স্থগিত ভোট কেন্দ্র এলাকায়

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

রাণীনগর প্রতিনিধি
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ১নম্বর খট্টেশ্বর রাণীনগর ইউনিয়নের তিনটি স্থগিত ভোট কেন্দ্রে চলছে পুনরায় ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি। ভোট কেন্দ্র তিনটি হলো, আল-আমিন দাখিল মাদ্রাসা, সিম্বা ইউনাইটেড উচ্চবিদ্যালয় ও লোহাচূড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গত ২৫ সেপ্টেম্বরে নির্বাচন কমিশন তফশিল ঘোষণা করার পর থেকে আবার এই ৩টি কেন্দ্রে নতুন করে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনের হাওয়া। আবারও চেয়ারম্যান প্রার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা প্রার্থীরা নেমেছেন নির্বাচনের মাঠে। নতুন করে এই এলাকার ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভোটের জন্য।
১ নম্বর কেন্দ্র আল-আমিন দাখিল মাদ্রাসায় ভোটার রয়েছে উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের দুই হাজার ৮শ ৯১ জন ভোটার। ৭ নম্বর কেন্দ্র সিম্বা ইউনাইটেড উচ্চবিদ্যালয়ে ভোটার রয়েছে সোনাকানিয়া (সিংড়াডাঙ্গা) ও সিম্বা গ্রামের ১ হাজার ৫শ ৪৪ জন এবং ৯ নম্বর লোহাচূড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট প্রদান করবেন ১ হাজার ৭শ ৭৯ জন ভোটার।
গত ২৮ মে অনুষ্ঠিত এই ইউপি নির্বাচনে এই ইউনিয়নে চেয়াম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এরা হলেন, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি’র মো. ফরহাদ হোসেন মন্ডল, নৌকা প্রতীক নিয়ে আ’লীগের মো. আসাদুজ্জামান পিন্টু, আনারস প্রতিক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মো. আনজীর হোসেন, মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গোলাম মোস্তফা ও ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম মাসুদ রানা বিষু।
এই ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ৩ হাজার ২শ ৮৪ ভোট পেয়ে মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গোলাম মোস্তফা এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রার্থী আ’লীগের আসাদুজ্জামান পিন্টু নৌকা প্রতিকে ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ২শ ৪২।
তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ৩টি কেন্দ্রে পুনরায় ভোটের মাঠে একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীরা থাকছেন না এবং ভোটে অংশগ্রহণও করছেন না বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, জানি না এবারও এই ৩টি কেন্দ্রে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে কিনা। এখনো সরকার দলের পক্ষ থেকে আমার কর্মীসহ আমার ওপর বিভিন্ন রকমের হুমকি-ধামকি প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ দলবল নির্বিশেষে ও এলাকায় শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে এই ৩টি কেন্দ্রে যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সরকার দলীয় প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান পিন্টু বলেন, অবশ্যই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। কোনো প্রকার অরাজকতা মেনে নেয়া হবে না। ভোটাররা যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই ভোট প্রদান করবে। সরকার দলের পক্ষ থেকে কখনো কোন প্রার্থীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করার কোন প্রশ্নই আসে না।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবর এই ৩টি কেন্দ্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দেশে প্রথম দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ৫ম ধাপে গত ২৮ মে রাণীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জেলার অন্য কোন উপজেলার কোন কেন্দ্রে কোন প্রকার সহিংসতা ছাড়াই সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু রাণীনগর উপজেলার ৮টি ইউপিতে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে এই ৩টি ভোট কেন্দ্রে কতিপয় দুর্বৃত্তরা জোরপূর্বক ভোট প্রদান ও ভোট কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই কেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেন।
আমাগী ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দেশের সকল স্থগিত ভোট কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাণীনগর উপজেলার ১ নম্বর খট্টেশ্বর রাণীনগর ইউনিয়নের আল-আমিন দাখিল মাদ্রাসা, সিম্বা ইউনাইটেড উচ্চবিদ্যালয় ও লোহাচূড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ