নির্বাচন কমিশনের সংলাপ || সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইতিবাচক

আপডেট: আগস্ট ৭, ২০১৭, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংলাপের আয়োজন করেছিল যেখানে সুশীল সমাজ কিছু প্রস্তাব রেখেছে। এসব প্রস্তাবে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনী আইন সংস্কার এবং না ভোটের বিধান চালুর কথা  বলা হয়েছে। আবার এর বিপক্ষেও মতামত এসেছে।  নির্বাচন কমিশনকে আরও  সক্রিয় এবং শক্তিশালী করার মতামতও দেওয়া হয়েছে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে।
এছাড়া নাগরিক সমাজ নির্বাচন কমিশনকে এককভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। বলা যায় এতে দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। ইভিএম নিয়ে বিতর্ক হলে তা নিয়ে বেশি সময় ব্যয় না করার পরামর্শও দিয়েছে নাগরিক সমাজ। এ বিষয়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। কমিশনকে জনগণের ও রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জনের মাধ্যমে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিষয়টিকে ইতিবাচক বলে মনে করি আমরা।
নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশনের সামর্থ্য বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এটি বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকেই। সংলাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন কমিশনের দৃঢ় ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সাহসের ওপর।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসির ধারাবাহিক সংলাপের এই প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি, নারী সমাজের প্রতিনিধি ও নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও সংলাপ করবে কমিশন। ফলে আমন্ত্রিতদের মত গ্রহণ এবং বিচার বিশ্লেষণ সাপেক্ষে, ইসি যদি একটি গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারে, তা হবে দেশ ও মানুষের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নাগরিক সমাজের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে সব বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে এমন নয়। আমরা মনে করি বিভিন্ন বিষয়ে মতভিন্নতা থাকলেও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের সামনে যেসব মতামত এসেছে তা থেকে সঠিক বিষয়গুলো বেছে নেবে। সবার আস্থা অর্জনে নির্বাচন কমিশন আন্তরিকভাবে প্রয়াস চালাবে। একটি অবাধ গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন করবে এমনটিই প্রত্যাশা আমাদের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ