নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি গঠন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২২, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটিতে সাংবিধানিক সংস্থাগুলোর প্রধানদের পাশাপাশি বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে সার্চ কমিটি গঠিত হয়েছে। নাগরিক প্রতিনিধি হিসেবে সার্চ কমিটিতে আছেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ ছুহুল হোসাইন ও লেখক-অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক। শনিবার রাষ্ট্রপতির ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠনের কথা প্রকাশ করা হয়।
আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি ওবায়দুল হাসান গঠিত সার্চ কমিটির সভাপতি থাকছেন। তিনি আগের দুই বার সার্চ কমিটির সদস্য ছিলেন। সার্চ কমিটিতে হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে থাকছেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান। মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক মুসলিম চৌধুরী এবং পিএসসি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন এই সার্চ কমিটিতে থাকছেন। এখন অপেক্ষা এই সার্চ কমিটি জাতির সামনে কাঙিক্ষত নির্বাচন কমিশন উপস্থাপন করবেন।
সার্চ কমিটি প্রকাশের পরপরই কমিটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিএনপি প্রতিক্রিয়ায় সার্চ কমিটির ব্যাপারে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো সার্চ কমিটির কাছে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য ও সক্ষম নির্বাচন কমিশন প্রত্যাশা করেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও এর বাইরে নয়। দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ায় একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের প্রত্যাশা তারাও করেছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কমিটি গঠন আপাত দৃষ্টিতে ভালো হয়েছে। তবে তাদের কর্মফলে জানা সম্ভব হবে যে দেশের মানুষের প্রত্যাশার কতটুকু পূরণ হল। সার্চ কমিটি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কেমন ব্যক্তিকে সার্চ করে বের করবেন, তার উপর নির্ভর করবে কমিটির গ্রহণযোগ্যতা। যদিও সব রাজনৈতিক দলগুলোর সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত নির্বাচন কমিশন সমান গ্রহণযোগ্যতা পাবে- এমন প্রত্যাশা করা যায় না। তবে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বচন সম্পন্ন করার জন্য একটি সক্ষম নির্বাচন কমিশন দেশের মানুষের প্রত্যাশা।
জাতীয় রাজনীতির মধ্যেকার দৈন্যতার ফলে নির্বাচন কমিশনের মত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দাঁড়াতে পারছে না। এই না পারাটার জন্য দেশের একক কোনো রাজনৈতিক দলকে দায়ি করা যায় না। এ দায় জাতীয় রাজনীতিকেই বহন করতে হবে। একক কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কোনোভাবে শক্তিশালীরূপে প্রতিষ্ঠা করা কিংবা এর প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। জাতীয় রাজনীতির মধ্যেকার বিরোধ-বিপর্যস্থতা, আস্থা ও বিশ্বাসের তিব্র সঙ্কটের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু কোথাও এক জায়গায় থামতে হয়- নতুন করে গন্তব্য ঠিক করতে হয়। অনেক অনৈক্যের মধ্যে ঐক্যকে অনুসন্ধান করতে হয়। নতুবা কাক্সিক্ষত ফলাফল শুধু দোষারোপের রাজনীতির মধ্যে দিয়ে পাওয়া সম্ভব নয়।
দেশের মানুষের মত আমাদেরও প্রত্যাশা নতুন সার্চ কমিটির কাছে, তারা দেশের মানুষের প্রত্যাশার সাথে মিলিয়ে তাদের কর্মফল যোগ করবেন। যাতে করে আমরা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন পেতে পারে। যে নির্বাচন কমিশন কাজের দক্ষতায়, দৃঢ়তায়, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতায় নিজেদেরকে আলাদা করেই চিনাবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ