নির্বিচার বালির ব্যবহাওে জাতিসংঘের উদ্বেগ বাংলাদেশ কি সতর্ক?

আপডেট: মে ১৮, ২০২২, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটি গত তিন দশক ধরে ব্যাপকভাইে আলোচিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপি। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে মানুষ ও প্রকৃতিকে সুরক্ষা দিতে জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংগঠন বিভিন্নমুখি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসডিজির মূল থিমও তাই। টেকসই উন্নয়নের উদ্দেশ্য হল- প্রতিবেশ ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করেই উন্নয়ন।
জলবায়ু পরিবর্তন ও এর অভিঘাত মানব সভ্যতাইকেই কঠিন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। বিজ্ঞানীরা সততই সতর্ক করছেন এবং পদক্ষেপ সমূহ সুচারুরূপে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু মানুষের দ্বারাই আবার পদক্ষেপ সমূহ উপেক্ষিত হচ্ছে এবং প্রকৃতির সাথে নির্দয় আচরণ অব্যাহত আছে। জাতিসংঘ মানব সভ্যতার বিবেক হিসেবে সতর্ক বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু লোভাতুর মানুষ তা অগ্রাহ্য করছে এবং সভ্যতার ঝুঁকি বাড়িয়েই চলেছে।
সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বায়ুদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নানা সমস্যায় যখন পৃথিবী জর্জরিত তখন আরেক সংকট ঘিরে বাড়ছে জাতিসংঘের উদ্বেগ। যদি সতর্ক না হওয়া যায়, তাহলে অচিরেই বালির অভাবে ভুগতে হবে সভ্যতাকে! জাতিসংঘের পরিবেশ সংক্রান্ত দপ্তর ইউএনইপি সম্প্রতি এভাবেই সতর্ক করেছে বিশ্বকে।
কেন বালি এত গুরুত্বপূর্ণ? আসলে বালিই পৃথিবীতে সবথেকে বেশি ব্যবহৃত পদার্থ। সে গৃহনির্মাণ থেকে দেওয়াল, এমনকী কাচ প্রস্তুতি- সবক্ষেত্রেই বালি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ক্রমশ বাড়তে থাকা বালির ব্যবহার, নদীতল এবং সৈকত থেকে বালি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পরিবেশ সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। ক্রমশই বালির ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এভাবে চললে আগামী দিনে বালির অভাবে বড়সড় সমস্যায় পড়তে হবে মানব সভ্যতাকে। বড়সড় ঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিবেশকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বালির। আর সেদিকে তাকিয়েই জাতিসংঘের উদ্বেগ।
ইউএনইপি সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দীর্ঘত নদী মেকং নদীতট থেকে যেভাবে বালি চুরি হচ্ছে তার ফলে ইতোমধ্যেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। ডুবে যাচ্ছে সংলগ্ন বদ্বীপ। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কায় প্রচুর পরিমাণে বালি তুলে নেয়ার ফলে নদীর স্রোতের অভিমুখ পালটে গিয়েছে! যার ফলে সমুদ্রের জল ঢুকে পড়ছে দ্বীপরাষ্ট্রের ভিতর দিকে, যা ডেকে আনছে কুমিরকে। সেক্ষেত্রে বাংলাশের পরিস্থিতিও সুবিধাজনক নয়। নদী সমূহ থেকে দেদারসে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে শুধু তাই নয়- বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে সরকারের দেয়া শর্তও দেদারসে লঙ্ঘিত হচ্ছে। যে প্রবণতাকে ‘চুরি’ আখ্যায়িত করা হচ্ছে। অপরিকল্পিত উপায়ে বালু উত্তোলনের ফলে বলা হচ্ছে নদীতীর দুর্বল হচ্ছে এবং ভাঙ্গন-প্রবণতা অনেক ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের সংস্থা ‘ন্যাশনাল ওশিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ তথা নোয়া জানাচ্ছে, শিলার ক্ষয় থেকে বালির জন্ম হতে হাজার হাজার, বলতে গেলে লক্ষ লক্ষ বছর লাগে। ফলে এভাবে বালি চুরি হতে থাকলে নতুন বালি গঠিত হওয়ার সময় পাওয়া যাবে না। আর তার ফলেই সৃষ্টি হবে বালির অভাবের। এখন থেকেই সতর্ক না হলে যার ফলে বড়সড় সমস্যার মুখে পড়তে হবে সভ্যতাকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ