নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি : ইনসাব

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৪, ৮:১৯ অপরাহ্ণ


সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) এর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ২২/১, তোপখানা রোড, ঢাকায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নেতৃবৃন্দ নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানান।

নির্মাণ সংগঠনের কার্যকরী সভাাপতি মিজানুর রহমান বাবুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, টিইউসি’র দপ্তর সম্পাদক সাহিদা পারভীন শিখা, সলিডারিটি সেন্টারের প্রোগ্রাম অফিসার এড. নজরুল ইসলাম, ইনসাব কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ-সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলী হোসেন, অর্থ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রেজা, শ্রম ও দর কষাকষি সম্পাদক জালাল আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান আজিজ, প্রচার সম্পাদক মো. শরীফ মিয়া, ক্রিয়া সম্পাদক আমান উল্লøাহ আমান, কার্যকরি সদস্য হুমায়ুন কবির সহ বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্পখাত হল নির্মাণ খাত। এ খাতে দেশে প্রায় ৩৫ লক্ষের উর্ধ্বে নির্মাণ শ্রমিক কাজ করছে। প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও রয়েছে আমাদের দেশের সমপরিমান শ্রমিক। কিন্তু তাদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা আজও নিশ্চিত করা হয় নাই। কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে প্রতিনিয়তই শ্রমিকরা মৃত্যুবরণ করছে। আহত হয়ে পঙ্গু অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে অসংখ্য শ্রমিক। দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত হলে নেই পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা।

শ্রমিকদের কর্মস্থল নিরাপদ ও নিরাপত্তা দেখবার করার জন্য কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর আছে। তাদের কার্যক্রমও যথেষ্ট নয়। শ্রমিকদের কর্মস্থল নিরাপদ করার জন্য ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ এখন’ই দরকার। শ্রমিকদের কর্মস্থলে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্ব হতে রক্ষার জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র, আইন ও গৃহায়ন – তথ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি প্লান এবং আইনের বিধিবিধান সংস্কার করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, মালিক ও শ্রমিক ত্রি-পক্ষীয় আঞ্চলিক পর্যায়ে সেইফটি কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাই শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য পেনশন স্কীম, বাসস্থান, রেশনিং ব্যবস্থা, বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে আলাদা ইউনিট গঠন, শ্রমিকদের সন্তানের শিক্ষার জন্য জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনস্ত সকল কলেজ ও বিশি^বদ্যিালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রীদের বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে আর্থিক সহযোগিতা ও ফাউন্ডেশনের বোর্ড সভা ১ মাস অন্তর অন্তর করার জন্য দাবী জানাই। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করে নির্মাণ শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের কর্মস্থলে মানসম্মত কর্মপরিবেশ ও আইএলও কনভেনশন ১২১ মোতাবেক দুর্ঘটনায় আহত-নিহত শ্রমিকের তাদের এক জীবনের সম-পরিমান ক্ষতিপূরণ শ্রম আইনে অন্তর্ভূক্ত করে ১টি শ্রমিকবান্ধব গণতান্ত্রিক ও যুগোপযোগী শ্রম আইন প্রণয়নের দাবি জানানা।