নির্যাতনের শিকার ৪১৪৪ নারী ও মেয়ে || সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদ

আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০১৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


গত জানুয়ারি থেকে নভেম্ববর পর্যন্ত ১১ মাসে রাজশাহীতে নয়টি থানায় মোট ৪৩৭ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে প্রতি বছর নারী নির্যাতন বিরোধী সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও মানবাধিকার দিবস পালন করে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখা বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি এলাকার মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগারে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা উঠে আসে।
সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কল্পনা রায়। ধারণাপত্র পাঠ করেন, সাধারণ সম্পাদক অঞ্জনা সরকার। বর্তমান নারী নির্যাতনের আইন নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন, প্রাক্তন সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান খান, রিপোর্টার সুব্রত দাস, ফটোসাংবাদিক জাবেদ অপু, ফটোসাংবাদিক সামাদ খান প্রমূখ। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, লিগ্যাল এইড সম্পাদক শিখা রায়, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা পাঠাগার সম্পাদক সেলিনা বানু। পরিচালনায় ছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলিমা খাতুন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নারী ও কন্যাদের উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, দলগতধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা নিত্যদিনের খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এ দশ মাসে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধিসহ মোট চার হাজার একশ ৪৪জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮৭৫ জন তার মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে মোট ১৩৪ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩১ জনকে। এছাড়াও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১৪০ জনকে। উত্ত্যক্ত ও যৌন নিপীড়ণের শিকার হয়েছে ৩৩১ জন তার মধ্যে উত্ত্যক্ত করা হয়েছে ২৪০ জনকে। উত্তক্তের কারণে আত্মহত্যা করেছে ৮ জন, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নির্যাতন করা হয়েছে ১২ জনকে, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৭১ জন।
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও নির্মূলে ১৪টি সুপারিশ পেশ করা হয়।