নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেয়ের বিয়ে দিলেন আ’লীগ নেতা

আপডেট: মার্চ ২২, ২০২০, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি


রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশে সভা-সমাবেশসহ সবধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা না মেনে মেয়ের বিয়ে দিলেন উপজেলার কাঁকনহাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর।
গত শুক্রবার পৌর সদরের নিজ বাড়িতে প্রায় এক হাজার লোকের উপস্থিতিতে মেয়ে বিদায় অনুষ্ঠান করেন এই আ’লীগ নেতা। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র ও পৌর আ’লীগের সভাপতি আবদুল মজিদ। ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সেদিনই ঢাকা থেকে এলাকায় ফেরেন মেয়র। পরিষদের কাউন্সিলর ও নেতাকর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানে হাজির হন তিনি।
এলাকাবাসী জানান, চারদিকে করোনা প্রতিরোধে প্রচারণা চললেও কাঁকনহাটে এমন প্রচারণা শুরু হয়নি। শুক্রবার জুমার নামাজে অংশ নিয়ে মেয়র কিছু কথা বলেছেন মাত্র। এর পরপরই তিনি আ’লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে দলবল নিয়ে উপস্থিত হন। স্থানীয়দের শঙ্কা, এই আয়োজনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীরাও অংশ নিতে পারেন। এতে এলাকায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা। তাদের অভিযোগ জেনেও এই আয়োজন বন্ধের উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় পুলিশ।
জানা গেছে, আ’লীগ নেতা হুমায়ুন কবীরের বড় মেয়ে সায়মা খাতুন সুমির সঙ্গে উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের প্রসাদপাড়া এলাকার জয়েন উদ্দিনের সরকারের ছেলে মিজানুর রহমানের বিয়ে হয়। আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ওই বিয়েতে অতিথি ছিলেন। গরু জবাই করে প্রায় দুই হাজার লোকের আপ্যায়নের ব্যবস্থা ছিলো। কিন্তু মাঝপথে উপজেলা প্রশাসন টের পেলে আয়োজন সীমিত হয়। তারপরও সেখানে অংশ নেন প্রায় হাজারখানেক অতিথি। নির্বিঘ্নে শুক্রবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। শনিবার বরের বাড়ি বৌভাতের আয়োজন। সেখানেও বিপুল লোকের আপ্যায়নের প্রস্তুতি ছিলো। তবে পুলিশের চাপে সেই আয়োজনও সীমিত করে বরপক্ষ।
বিয়ষটি স্বীকার করেছেন আ’লীগ নেতা হুমায়ুন কবীর। তিনি দাবি করেন, গত ফেব্রুয়ারিতে দুই পক্ষের সম্মতি বিয়ের দিন ধার্য হয়। সপ্তাহ দুয়েক আগে অতিথিদের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে দেন। বিয়ের সব আয়োজনও সম্পন্ন হয়। এরই মাঝে গত বৃহস্পতিবার করোনা পরিস্থিতির কারণে সব আয়োজন নিষিদ্ধ হবার খবর পান। কিন্তু তার আর কিছুই করার ছিলোনা। আ’লীগ নেতা হুমায়ুন কবীরের বাড়ি কাঁকনহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানকার পৌর কাউন্সিলর সাদেকুল ইসলাম সেলিমও উপস্থিত ছিলেন বিয়েতে। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি জেনে বুঝেই এই আয়োজন করা হয়েছিলো। তিনি খাবার পরিবেশন তদারকি করছিলেন।
এই আয়োজনে মেয়রসহ গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান এই কাউন্সিলর। এই আয়োজনের কথা জানতেন পুলিশের পরিদর্শক ও কাঁকনহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ শিশির কুমার। তিনি স্বীকার করেন, আগে থেকেই এই আয়োজনের বিষয়টি তিনি জানতেন। কিন্তু সব আয়োজন সম্পন্ন হওয়ায় বিয়ে বন্ধ করতে পারেন নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, তিনি দুপুরের দিকে এই আয়োজনের খবর পেয়েছিলেন। কিন্তু ওই সময় সেটি বন্ধের পরিস্থিতি ছিলোনা। তবে আয়োজন সীমিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। পরে ঘরোয়া পরিবেশে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
জেনেও পুলিশ এই আয়োজন বন্ধের ব্যবস্থা না নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, কাঁকনহাটের এই অনুষ্ঠানের খবর তিনি জানতেন না। তিনি যোগ করেন, গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩০৮ জন প্রবাসী রাজশাহী ফিরেছেন। তাদের আমরা নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। সেটা আমরা নিশ্চিতও করছি। এরপরও মানুষ নির্দেশনা না মানলে সেটি দুঃখজনক। জেনেশুনেই তিনি ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন পৌর মেয়র আবদুল মজিদ। তিনি দাবি করেন, তিনি ঢাকায় ছিলেন। ওই দিন সকালে তিনি এলাকায় ফিরেছেন। জুমার নামাজ শেষে তিনি বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় বেশি সময় অবস্থান করেন নি। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এমন আয়োজন ঠিক হয়নি বলেও স্বীকার করেন মেয়র। একই সঙ্গে আগামী দু-একদিনের মধ্যে পৌর এলাকায় করোনাভাইরাস সচেতনতায় কার্যক্রম শুরু করার কথা জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ