নিয়ন্ত্রণহীন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর || দেশবাসী কার্যকর সংস্থা হিসেবেই দেখতে চায়

আপডেট: মে ১০, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে। রোববার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত মাদক বিষয়ক এক আলোচনা সভায় দুদক চেয়ারম্যান জানান, গত বছরের জুনে অধিদপ্তর থেকে ১৭ বড় মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা নিয়ে অভিযানে চালিয়ে দেখেন, সবগুলো ঠিকানাই ভুয়া। তিনি সন্দীহান যে, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আসলে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে কিনা। তবে মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য অধিদপ্তরের কাছে নেই, এটা মানতে নারাজ দুদুক চেয়ারম্যান। তিনি এক মাস সময় বেধে দিয়েছেন সঠিক তালিকা পাঠানোর জন্য। দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে দেশের বড় ৩৬৫ জন মাদক ব্যবসায়ীর একটি তালিকা থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে অনেক ক্ষমতাধর লোকজনও আছেন। আমরা তা জানি। আমরা তাদেরকে কোনো ছাড় দেব না। হয় মাদকের ব্যবসা ছাড়বেন, অথবা জেলে যাবেন।”
এটা ঠিক যে, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অনেকটা কাগুজে বাঘের মতই। এই অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য কিন্তু এর সক্ষমতার জায়গাটি খুবই দুর্বল। এই দুর্বলতা শুধু লোকবলের অভাবজনিত বলেই দায় এড়ানো যায় না। লোকবল যা আছে তাদের সক্ষমতা, দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ। দুদক চেয়ারম্যান সে বিষয়টিই বেশি করে দেশবাসীর কাছে প্রকট করে তুলেছেন। ১৭ বড় মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় ঠিকানা ভুল এটা নেহাতই লোকবলের অভাবজনিত হতে পারে না। নিঃসন্দেহে এটা দক্ষতা ও যোগ্যতার অভাব কিংবা নিছক উদাসীনতা বা অপরাধীদের রক্ষা করাও হতে পারে।  প্রকৃত অর্থে এর কারণগুলোও উদঘাটন হওয়া বাঞ্ছনীয়। কেননা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বর্তমান পরিস্থিতি এমনই করেই সহনশীল অবস্থায় থাকলে তরুণ প্রজন্ম যে আরো বেশি করে উচ্ছেন্নে যাবে তা বলাই বাহুল্য। বিষয়টি অধিক গুরুত্বের দাবি রাখে।
সারা দেশে বাড়ছে অবৈধ মাদক ব্যবসা, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাদকসেবির সংখ্যাও। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত ওই আলোচনা সভাতেই এই তথ্য দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে- ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে ইয়াবাসেবীর সংখ্যা ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। জাতিসংঘ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মাদকাসক্তদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ পুরুষ এবং ১৬ শতাংশ নারী। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সভায় জানান, মাদকের ভয়াবহতা রোধে অধিদপ্তর স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা  নেয়া হয়েছে।
মাদকের সাথে দুর্নীতির যেমন যোগ আছে- তেমনি মাদক বর্তমান বিশ্বে জঙ্গিবাদেও অর্থের বড় উৎস হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। মাদকের সাথে সামাজিক অস্থিরতার বড় যোগ আছে। সমাজকে পরিচ্ছন্ন ও অপরাধমুক্ত রাখতে মাদকের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের আর কোনো বিকল্প নেই। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদকের বিরুদ্ধে অবশ্যই সরকারের একটি বিশেষ সংস্থা। এটিকে কার্যকর করা গেলে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। মাদকের ভয়াবহতা রোধে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তাদের পরিকল্পনা এগিয়ে নিবে এটিই সকলের কাম্য।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ