নিয়ামতপুরের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২১টি অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০১৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

নিয়ামতপুর প্রতিনিধি
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সাংশৈল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২১টি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংশৈল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইচ্ছেমতো পরিচালনা করে আসছেন।
এলাকার গণমান্য ব্যক্তি, অবিভাবক এমনকি স্কুলের অন্য শিক্ষকদেরও কোনো তোয়াক্কা করেন না। বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতে সঠিকভাবে পালন করেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, আমরা অতিষ্ট হয়ে গেছে। প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম কোন কিছুর নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্কুল চালান। সম্প্রতি সাংসদ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অবিভাবকদের না জানিয়ে টাকার বিনিময়ে কিছু স্বার্থানেষী মহলকে খুশি করার জন্য গোপনে নতুন করে কমিটি গঠন ও পাশ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও সাংসদের হস্তক্ষেপে তার সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আবার ছাতড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষককে সাংগৈল বিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয়ে প্রশিক্ষণে পাঠিয়েছেন। অনেকের অভিযোগ ওই শিক্ষিকার সঙ্গে মনিরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সাংশৈল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২১টি দুর্ণীতি ও অনিয়মের অভিযোগ লিখিত আকারে পাওয়া গেছে। অনিয়মিতবাবে টাকার বিনিময়ে গোপনে কমিটি গঠন, আমবাগানের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের এফডিআর এর ৫০ হাজার টাকা গোপনে উত্তোলন ও আত্মসাৎ, নিজ বিদ্যালয়ের নামে ছাতড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষককে প্রশিক্ষণে পাঠানো, ৫ বছর যাবত সহকারী লাইব্রেরিয়ানকে নিয়োগে টালবাহানা, সময়ের মধ্যে নবম ও দশম শ্রেণির নবায়নের কাজ না করা, জমির খাজনা খারিজের কাজ না করা, শিক্ষক সমন্বয় না করা ও সহকারী শিক্ষকদের বিভিন্ন রকম হুমকিসহ কু-আচারণ করা, বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম নিদিষ্ট সময়ের পরে কাজ করা, নবম ও দশম শ্রেণির স্বীকৃতির কাজে ১ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য সাংসদ মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ না করা ও ইচ্ছাকৃতভাবে অনিহা প্রকাশ করা, বিদ্যালয়ে রেজুলেশন না করে বিদ্যালয়ের নিমগাছ বিক্রয় করা, শিক্ষক নিয়োগ খরচ বাবদ অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ, টিউশন ফি এর টাকা গোপনে উত্তোলন ও আত্মসাৎ, আক্তার নামের সহকারী গ্রন্থাগারিক এর সার্টিফিকেট ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে জাল সার্টিফিকেট প্রদান, অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং ক্লাস না করা, সুযোগ পেয়েও ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যালয়ের মাঠ সোজাকরণে ব্যর্থ, বিজ্ঞান শিক্ষককে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে নিয়োগ প্রদান করে ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা, বিদ্যালয়ের পিয়নের কথামতো বিদ্যালয় পরিচালনা করা, বিদ্যালয়ের জমির টাকা আত্মসাৎ করা, বিদ্যালয়টি এমপিও হওয়ার পর শিক্ষকগণ খুশি হয়ে সাংসদকে ১ লাখ টাকা প্রদান করার নাম করে সেই টাকা আত্মসাৎ করা। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধের কারণে বিদ্যালয়ে তার বিরুদ্ধে মির্টি করে রেজুলেশনের মাধ্যমে ১৮ হাজার টাকা জরিমানাও প্রদান করেন এবং ওয়াদা করেন ভবিষ্যতে আর কোন অন্যায় কাজ করবেন না। তারপরেও একই কাজ বার বার করছেন তিনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম সার্বিকভাবে আপাদমস্তক দুর্ণীতি পরায়ন শিক্ষক।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বলেন, এসব বিষয়ে মিমাংসা হয়ে গেছে। আর কোন সমস্যা নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ