নিয়ামতপুরে কঠোর বিধি নিষেধের ৭ম দিন ছাতড়ায় পুলিশের উপর ব্যবসায়ীদের হামলা, দুই পুলিশ সদস্য আহত, গ্রেফতার ৩

আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২১, ৯:৪১ অপরাহ্ণ

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:


নওগাঁর নিয়ামতপুরে কঠোর বিধিনিষেধের ৭ম দিনে উপজেলার সাধারণ মানুষের চলাচল অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মনে হচ্ছে এই কঠোর বিধি নিষেধ শুধুমাত্র উপজেলা সদরে। তাও বেলা ১২টার পর। উপজেলার আর কোথাও কঠোর বিধি নিষেধ তেমন চোখে পড়ে না। উপজেলার ছাতড়া বাজারে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কিছু ব্যবসায়ী হঠোর বিধিেিনষেধের ৬ষ্ঠ দিনে বুধবার (২৮ জূলাই) বেলা সাড়ে ৫টায় পুলিশের উপর হামলা চালায়। এত পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক মেহেদী হাসান ও কনষ্টেবল মাসুদ রানা আহত হয়। এ ঘটনা পুলিশ বাদী হয়ে ১২ জন সুনির্দিষ্ট ও ২০/২৫জন অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ছাতড়া বাজারের খলিল আনসারীর ছেলে জয়নাল আনসারী (৩০), নাসির উদ্দিনের ছেলে ফারুক হোসেন (৩৪) এবং আব্দুল আজিজের ছেলে জাহিদকে গ্রেফতার করে। ছাতড়া বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশি চেক পোস্ট বসানো হয়েছে, বিজিবি টহলরত অবস্থায় রয়েছে।
কঠোর বিধি নিষেধের ৬ষ্ঠ এবং ৭ম দিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বটতলী, গুজিশহর, রবিয়া, খড়িবাড়ীহাট, বালাতেড়, নিমদীঘি, গাংগোর, বামইন, শিবপুর, টিএলবি বাজার, আড্ডা বাজারসহ উপজেলার প্রতিটি অলিগলির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। সামনের দরজা বন্ধ রেখে পেছনের দরজা দিয়ে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আড্ডা বাজারের হোটেলগুলো সামনে চেয়ার টেবিল দিয়ে ঢেকে রেখে ভেতরে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের ব্যবসা। উপজেলা সদরের তিন মাথার মোড় হতে কয়েক গজ পশ্চিম ও পূর্ব দিকে, মাংশ হাটির মোড় হতে ৫০ থেকে ১০০ গজ পশ্চিমে, চার মাথার মোড় হতে কয়েক গজ দক্ষিনে ভিড় করে রয়েছে অটো ভ্যান, চার্জার ও ভুটভুটি। সেখান থেকে দেদারছে চলছে এই সমস্ত যানবাহন। তিন মাথার মোড়, চার মাথার মোড়ে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করলেও মানুষের চলাচল বন্ধ হয়নি। থানার মেইন গেইটে পুলিশি চেক পোষ্ট বসিয়ে শুধুমাত্র মটরসাইকেল আটকিয়ে কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে।
সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত শুধু মাত্র মুদিখানার দোকান খোলা রাখার কথা থাকলেও এই সুযোগে অন্যান্য দোকানও খোলা রাকছে। এর ফলে উপজেলা সদরে সাধারণ মানুষের ভিড় অনেক বেড়ে গেছে। অথচ ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই কঠোর বিধি নিষেধে সব কিছু বন্ধ থাকায় রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচল একেবারেই ছিল না। সাধারণ মানুষ যতক্ষন না সচেতন হচ্ছে ততক্ষন এ লকডাউন বা বিধি নিষেধ বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাই সরকারের এই কর্মসূচীতে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের শুধুমাত্র কাগজে-কলমে নয় সত্যিকার অর্থে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), অফিসার ইন চার্জ উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত দিন-রাত ফুটে বেড়াচ্ছেন কঠোর বিধি নিষেধ বাস্তবায়নের জন্য। সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে চলেছেন করোনা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়া মারীয়া পেরেরা বলেন, সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার পরেও জনগণের আরো সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করি। সকলে মিলে সচেতন না হলে, এক সাথে সবাই সামিল না হলে, ঈদ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে যাবে।
অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত যে লকডাইন পালনে আমরা দায়িত্ব পালন করছি। জনগণ এর সাথে একাত্বতা প্রকাশ করায় এবং জনগণ একসাথে লকডাউন মেনে চলতেছে। আমাদের বড় বাজার ছাতড়া বাজার। সেখানে পুলিশ আছে সাথে স্বেচ্ছাসেবক আছে সকলে মিলে সরকারের বিধি নিষেধ পালনে কার্যক্রম চলতেছে। গতকাল আনসারী হোটেল খোলা রাখায় পুলিশ তাদের বুঝাতে গেলে তাদের সাথে বাক বিতান্ডা হয়। তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখায়। পুলিশ তাদের বুঝিয়ে চলে আসার সময় পিছন থেকে আনসারীর ছেলে, ভাই, ভাতিজারা পুলিশের উপর হামলায় চালায়। এতে এএসআই মেহেদী হাসান ও কনষ্টেবল মাসুদ রানা নামে আমার দুই সদস্য আহত হয়। আমরা সংবাদ পেলে আরো পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হই। এ ঘটনায় ১২ জন নির্দিষ্ট ও ২০/২৫জন অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।