নিয়ামতপুরে কবিরাজের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু!

আপডেট: October 22, 2020, 4:29 pm

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:


নওগাঁর নিয়ামতপুরে কুকুর কামড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। কবিরাজের ভুল চিকিৎসায় মৃতু হয়েছে দাবী মৃতের বাবার।
জানা যায়, উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের দারাজপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন মন্ডলের একমাত্র ছেলে দুই সন্তানের পিতা মো. পলাম মন্ডল (২৭) কুকুর কামড়ে জলাতস্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যে সাড়ে ৬টায় নিজ বাড়িতে মারা যায়।
মৃত পলাশের বাবা জয়নাল আবেদীন মন্ডলের দাবী স্থানীয় কবিরাজ রাজাপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত ২৩ জুলাই আমার একমাত্র ছেলে পলাশকে দারাজপুর কেজির মোড়ে পাগলা কুকুরে কামড় দেয়। আমরা পরদিন নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিনের জন্য যোগাযোগ করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভ্যাকসিন নেই বলে জানান। পুনরায় পরের দিন আবারও যোগাযোগ করে ব্যর্থ হওয়ায় রাজাপুরের কবিরাজ আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ২ হাজার টাকার বিনিময়ে ২৮ দিনের ব্যবধানে ৫টি ভ্যাকসিন আমার ছেলে পলাশের শরীরে প্রদান করা হয়। পলাশের তেমন কোনো সমস্যা মনে হচিছল না। হঠাৎ ১৩ অক্টোবর থেকে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এরপর সমস্যা বেশি হলে ১৭ অক্টোবর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পলাশের জলাতঙ্ক রোগ হয়েছে বলে জানান। আর কোনো চিকিৎসা না থাকায় পলাশকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসলে গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মারা যায়।
তিনি আরো বলেন, কবিরাজের দেওয়া ভ্যাকসিন কোনা কাজে আসে নাই। তাঁর ভুল চিকিৎসায় শুধুমাত্র কাল ক্ষেপণ হয়েছে। কবিরাজের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় আমার একমাত্র ছেলেকে হারালাম। আমি এই কবিরাজের বিচার চাই। যেন আরো কোন পিতাকে সন্তানহারা না হতে হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাওসার আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি জানি কবিরাজ আনোয়ার হোসেন পলাশকে কুকুর কামড়ানোর ভ্যাকসিন প্রদান করেন। পলাশকে যখন কুকুর কামড় দেয় আমি নিজেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিনের জন্য যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু পাওয়া যায় নাই।
এ বিষয়ে কবিরাজ আনোয়ার হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগকরা হলে তিনি জানান, সে সময় দুটি কুকুর কামড়ানো রোগী আমার কাছে এসেছিলো। তাদের ভ্যাকসিন দিয়েছিলাম। কিন্তু পলাশকে আমি কোনো ভ্যাকসিন প্রদান করি নাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ