নিয়ামতপুরে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

নিয়ামতপুর প্রতিনিধি


নওগাঁর নিয়ামতপুরে জোর করে জমি দখল করে জমির মালিককে উচ্ছেদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমির মালিককে উচ্ছেদের চেষ্টায় নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও জানা যায়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার রসুলপুর ইউপির দামপুরা গ্রামের কিছু অসাধু ব্যক্তি জোরপূর্বক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল করে ব্যবসা করে আসছে। দামপুরা মৌজার ৬০১ নম্বর খতিয়ানের ২৫২১ নম্বর দাগে ৪৬ শতাংশ জমিটি এসএ অর্থাৎ ১৯৬২ সালে জেঠু রায়ের ছেলে প্রেম লালের নামে রেকর্ডভুক্ত। পরবর্তীতে আরএস অর্থাৎ ১৯৭২ সালে রেকর্ডমূলে মালিক গোমস্তাপুরের নফর মোন্নার ছেলে রিয়াজউদ্দিন। রিয়াজউদ্দিনের ছেলে ওবাইদুল হক বর্তমানে রাজশাহীতে অবস্থান করছেন। রিয়াজউদ্দিনের ছেলে ওবাইদুল হকের (রিয়াজউদ্দিন মারা যাওয়ায়) কাছ থেকে দামপুরা গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে আজিমুদ্দিন ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল নিয়ামতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এককালীন দান দলিল করে নেন। দলিল নম্বর ১৮৯৮। ৪৬ শতক জায়গার মধ্যে ১০ শতক নিয়ে আজিমুদ্দিনের বাড়ি রয়েছে। কিন্তু গ্রামে কিছু অসৎ ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জোর করে দখল করে এবং দোকন ঘর নির্মাণ করে প্রকৃত মালিক আজিমুদ্দিন ও তার পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকি প্রদান করছে। জোরপূর্বক দখলকারীরা হলেন, মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে শফিকুল ইসলাম, মৃত আরজত আলীর ছেলে নূর ইসলাম, মৃত তফিজ উদ্দিনের ছেলে সাগর আলী, মৃত আশরাফুল ইসলামের ছেলে মুকুল রহমান, মৃত তাবজুলের ছেলে সেন্টু, সুলতানের ছেলে জামাল শেখ, জয়নাল আবেদীনের ছেলে শহিদুল ইসলাম, মৃত মোহাম্মাদ আলীর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন, মৃত নূর হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন, আশরাফুল দেওয়ানের ছেলে মিজানুর রহমান, আছিমুদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীনের ছেলে আদেনুল ইসলাম, ইসরাইল, মৃত নূর সালামের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, বজলুর রহমানের ছেলে জুয়েল, আমিনুল ইসলামের ছেলে মতিউর রহমান, মৃত সমসের দেওয়ানের ছেলে ওবাইদুল হক, মৃত হামিদুর শাহের ছেলে মোসাব্বেরুল, মমিনুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ হোসেন, লতিফুর রহমানের ছেলে নূর ইসলাম ও মিজানুর রহমানের ছেলে ফারুক হেসেন।
জমির প্রকৃত মালিক আজিমুদ্দিন তার জমিটির দখল বুঝে নিতে গেলেই অবৈধ দখলদাররা আজিমুদ্দিন ও তার পরিবারের উপর হামলা চালায়। সর্বশেষ গত সোমবার আজিমুদ্দিন বাড়ির বাইরে গেলে হঠাৎ অবৈধ দখলদারা আকস্মিক হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আজিমুদ্দিনের পুত্রবধূ রসুলপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য হাসনাহেনা লাকীকেও তাড়া করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হত্যার হুমকি দেন। তিনি বর্তমানে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে আজিমুদ্দিনের ছেলে অসীম বলেন, আমার বাবা আজিমুদ্দিন ২০১৫ সালে খতিয়ান দেখে রিয়াজউদ্দিনের ছেলে ওবাইদুর রহমানের কাছ থেকে ক্রয় করে এককালীন দান দলিল করে। আমরা যতবার দখলের চেষ্টা করি অবৈধ দখলদাররা আমাদের উপর আক্রমণ করে। তিনি আরো বলেন, এলাকার কিছু রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজসেই হচ্ছে এই অপকর্ম। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, রসুলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতানসহ বেশ কিছু নেতার উপস্থিতিতে শালিশ বসে। তারা কোন কাগজপত্র পর্যালোচনা না করেই কিভাবে অবৈধ দখলদারদের আমাদের জমিতে থাকার অনুমতি দিলেন আমাদের তা বোধগোম্য নেই। এ বিষয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। ওই জায়গায় অবৈধ দখলদাররা যাতে যেতে না পারে তার জন্য আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করাও আছে। ২১ জন অবৈধ দখলদারদের মধ্য থেকে মুকুল, ওবাইদুল ও মোশাব্বেরুল আমার নিকট ৩ শত টাকার স্ট্যাম্পে দোকানঘর ভাড়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য হাসনাহেনা লাকী অভিযোগ করে বলেন, আমাকে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। হত্যার হুমকিসহ আমাদের বাড়িটিকে শ্বশ্বান বানিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাও রহস্যজনক। পুলিশ উপস্থিত থেকে অবৈধ দখলদারদের মহামান্য আদালতের আদেশ অমান্য করে পুনরায় ঘর নির্মাণের হুকুম দেন এবং সহযোগিতা করেন।
রসুলপুর-পাড়ইল ভূমি অফিসে সরেজমিনে গেলে ভলিয়মে দামপুরা মৌজার ২৫২১ নম্বর দাগের জমিটি ৬০১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত। মালিক রিয়াজউদ্দিন।
অবৈধ দখলদার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে কোন কাগজ নেই। আমরা এটি ১নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত বলে জেনে দখল করে আছি। আমাদের পক্ষের কোন কাগজপত্র নেই। অপরদিকে তার ভাই আদেনুল ইসলাম ১নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি বললেও তার পক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ