নিয়ামতপুরে ‘জ্বিনগত’ রোগে ৯ জনের মৃত্যু ।। আরো ৯জন আক্রান্ত

আপডেট: জুন ১৮, ২০১৭, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

এম আর রকি নওগাঁ


নিয়মতপুরে জ্বিনগত রোগে আক্রান্ত কয়েকজন-সোনার দেশ

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার পারইল ইউনিয়নের একটি গ্রাম কৃষ্ণশাইল। এ গ্রাম এখন ‘মৃত্যু গ্রাম’ নামে বেশি পরিচিত । গত দু বছরে এখানে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে । আর এই রোগে আরো ৯ জন দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন।
চিকিৎসকদের ভাষায় এই রোগে নাম Huntington’s Disease  বা জ্বিনগত সমস্যা। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, এ রোগের প্রতিষেধক এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি।
জানা গেছে, নিয়ামতপুর উপজেলার কৃষ্ণশাইল গ্রামের ঈমান আলী। তার একমাত্র মেয়ে রহিমন খাতুন। রহিমনকে বিয়ে দিয়ে জামাই-মেয়েকে বাড়িতেই রেখে দেন ঈমান। হঠাৎ একদিন অজানা এক রোগ পেয়ে বসে তাকে। বয়স তখন তার ৬৮ বছর। ধীরে ধীরে তার হাত-পা পঙ্গু হয়ে যায়। দীর্ঘ ৪ বছর পর সেই রোগে ভোগার পর তিনি মারা যান। একইভাবে রহিমনও ৬২ বছর বয়সে সেই অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ ৫ বছর ভোগার পর তিনিও মারা যান। রহিমনের চার ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে তিন ছেলে ও এক মেয়ে ইতোমধ্যে এই অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। রহিমনের নয়জন নাতি নাতনি এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
মৃতরা হলেন- রহিমন খাতুনের তিন ছেলে মো. আমির (৬২), সমির (৫৮) সিরাজুল ইসলাম (৫২) এবং এক মেয়ে নেকজান বিবি(৫০)। নেকজান বিবির ছেলে আজিজুল ইসলাম(৩৭), সিরাজুল ইসলামের মেয়ে তারামন বিবি(২৫)। আক্রান্তরা হলেন- মোসলেমা বিবি, লাইলী, মজিদুল, শাবান, শবিফুন বিবি, শরীফুল, সপ্নাসহ ৯জন।
মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম জানান, যাদের বয়স ৬০-৬৫ তারাই এই রোগে আক্রান্ত হতো। কিন্তু এখন ২০-২৫ বছরের তরুণরাও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। আক্রান্তরা বছর দুই-একের মধ্যেই মারা যাচ্ছে। যোগান বিবি জানান, এই রোগে আক্রান্ত এই বংশের লোকদের সমাজে চলতে নানান সমস্যায় পড়তে হয়। ঢাকাতে চিকিৎসা নিয়েও আক্রান্তরা ভালো হয়নি। আক্রান্ত শরিফুন বিবি জানান, দুই বছর আগেও ভালো ছিলেন তিনি। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় এখন তার চলাফেরা করতে সমস্যা হয়। শরীরে ব্যথা নিয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে। তিনি পরিবারের অন্যদের এ রোগে হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। রহিমনের ছেলে গিয়াস উদ্দিন জানান, তার মা রহিমনের গর্ভে জন্ম নেয়া ৭ ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিন ছেলে ও এক মেয়ে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তিনি বর্তমানে ভালো আছেন। রাজশাহী, ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়েছে। চিকিৎসায় হাজার হাজার টাকা খরচ হলেও এখন পর্যন্ত কেউ ভালো হয়নি। তিনিসহ বাকিরাও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। সোহেল রানা জানান, এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগ মুহূর্তে তার চোখের পাতা, হাত-পায়ের আঙ্গুল লাফাতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। আক্রান্তরা বছর’ দুয়েকের মধ্যে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে যান। কিছুই করতে পারেন না।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা খানম জানান, চিকিৎসকদের ভাষায় এই রোগটিকে Huntington’s Disease  বাংলায় জ্বিনগত বা বংশগত রোগ বলা হয়। অনেক হাসপাতালে চিকিৎসা করা হলেও এখন পর্যন্ত এই রোগের প্রতিষেধক তৈরি না হওয়ায় আক্রান্তদের ভালো হবার সম্ভাবনা নেই। তিনি আরো বলেন, তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে- নিজ বংশের মধ্যে বিয়ে হলে সাধারণত এই রোগ হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ