নিয়ামতপুরে তৃতীয় বারের মত বিশেষ বিধি-নিষেধ ২৩ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি

আপডেট: জুন ১৬, ২০২১, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

নিয়ামতপুর প্রতিনিধি:


নওগাঁর নিয়ামতপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬ জন। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন ৪জন। নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়ে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের নিমদীঘি গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে মনসুর আলী (৭০) রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। উপজেলায় ৭ দিনের বিশেষ লকডাউন এবং দ্বিতীয় মেয়াদে আরও ৭ দিনের বিশেষ বিধি-নিষেধ েেশষে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতি রোধে বৃহস্পতিবার ১৭ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত তৃতীয় বারের মত বিশেষ বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বুধবার ১৬ জুন জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ এ ঘোষণা দেন।
সম্প্রতি উদ্বেগজনক হারে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নওগাঁর নিয়ামতপুরে গত ৩ জুন থেকে ৭ দিনের সর্বাত্মক বিশেষ লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। ১০ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় বিশেষ বিধি নিষিধ আরোপ করেছিল উপজেলা প্রশাসন। দ্বিতীয় দফায় বিশেষ বিধি-নিষেধ শেষ দিনে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়া মারীয়া পেরেরা বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী হওয়ায় ১৭ জুন থেকে আগামী ২৩ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত পূর্বের সকল শর্তাবলী দিয়ে বিশেষ বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে দোকান, মার্কেট সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। মাস্ক পরিধান কিংবা স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় হলে উক্ত দোকান বা মার্কেট তাৎক্ষনিক বন্ধ করে দেওয়া হবে। সকল প্রকার দায়ের দোকান বন্ধ থাকবে। হোটেল রেস্তোরা বন্ধ থাকবে তবে মিষ্টির দোকানে পার্সেল আকারে বিক্রি করা যাবে। সকল প্রকার সাপ্তাহিক হাট বন্ধ থাকবে। তবে কাঁচা বাজার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত বেচা কেনা করতে পারবে। অতি জরুরি ছাড়া সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে আসা যাবে না। সকল প্রকার বাস সার্ভিস বন্ধ থাকবে তবে সিএনজি ও অটোসমূহ শুধুমাত্র দুইজন যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলাচল করতে পারবে। এনজিও কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে। জনসমাগম হয় এমন কোন অনুষ্ঠান যেমন রাজনৈতিক ও ধর্মীয অনুষ্ঠান, বিবাহ অনুষ্ঠান, জন্মদিন ও পিকনিক করা যাবে না। মাস্ক পরিধান কিংবা স্বাস্থ্য বিধি পালনে ব্যত্যয় ব্যক্তিকে রাস্তায় পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুম্মার নামাজসহ প্রতি ওয়াক্ত নামাজে সর্বোচ্চ ২০জন মুসল্লি অংশগ্রহন করতে পারবে। কোন বাড়ীতে কোভিড আক্রান্ত রোগী থাকলে উক্তবাড়ী পুরোপুরি লকডাউন করতে হবে এবং ঐ বাড়ির সকল সদস্য লকডাউনে থাকবে। সে ক্ষেত্রে এ ধরণের বাড়ি লাল পতাকা দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে। একই পাড়া/মহল্লায় একাধিক বাড়ীতে সংক্রমন চিহ্নিত হলে উক্ত পাড়া/মহল্লা লকডাউন থাকবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ হয় ১ হাজার ৬শ ৫০ জনের, করোনা সনাক্ত ৩শ ১৫ জনের, সুস্থ ২শ ৮৯ জনের, রির্পোট আসে নাই ৭৯ জনের। নমুনা অনুপাতে এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমনের হার ২০ দশমিক ০৫ শতাংশ।
বিশেষ লকডাউন ৪ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ ৫শ ৪৭ জনের, করোনা শনাক্ত ১শ ১৯ জনের, বির্পোট আসে নাই ৬৬ জনের, কোন সুস্থ হয় নাই, বর্তমানে উপজেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা ১শ ৩৮ জন। নমুনা সংগ্রহ অনুপাতে সংক্রমনের হার ২২ শতাংশ।