নিয়ামতপুরে সামাজিক মাছধরা উৎসব

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০২১, ৯:৩১ অপরাহ্ণ

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:


চলমান শুকনো মৌসুমে শুরু থেকেই নওগাঁর নিয়ামতপুরে খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুর-ডোবার পানি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। সেই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেগঞ্জে মাছ ধরার ধুম পড়েছে। প্রতিটি গ্রামগঞ্জেই এখন মাছ ধরার উৎসব চলছে। ভোর হতে না হতেই শুরু হয় মাছ ধরার পালা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে আবালবৃদ্ধবণিতা সকলেই মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠে। সকলেই উড়াইন্যা জাল, ঠ্যালা জাল, উইন্যা, পলো প্রভৃতি নিয়ে এবং শিশু-কিশোররা খালি হাতেই খালে-বিলে নেমে পড়ে। যেখানে হাঁটু পানি সেখানে সেচের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মৎস্য শিকারিরা খালে-বিলে নামছে। দুপুর পর্যন্ত চলে মাছ ধরার এই প্রক্রিয়া। পরে নিজেদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত মাছ হাটবাজারে বিক্রি করে দেয়।

পুরো শীত মৌসুমেই গ্রামগঞ্জে মাছ ধরার এই চিত্র চোখে পড়ে। আর মাছ ধরায় সামিল হতে পেরে শিশু-কিশোরদের মধ্যে আনন্দ আর আনন্দ। কাদা-পানিতে সারা শরীর মাখামাখি করে তারা মাছ ধরার আনন্দে বিভোর থাকে। কৈ, শিং, মাগুর প্রভৃৃতি দেশি জাতের জিয়ল মাছই ধরা পড়ে বেশি। তাছাড়া টেংরা, পুঁটি, খইলসা, শোল, টাকি, বোয়াল, চিকরা, বাইন, কাতলা, সিলভার কার্প প্রভৃতি মাছ তো রয়েছেই। বর্ষাকালে ফিশারিসহ বিভিন্ন জলমহালের মাছ ভেসে গিয়ে ডোবা-পুকুর, খাল-বিল এবং নিচু জমিতে আশ্রয় নেয়। পরে শুকনো মৌসুমে সেইসব মাছ ধরা পড়ে। বর্তমানে গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যাচ্ছে এবং অন্যান্য সময়ের তুলনায় দামও এখন অনেক কম। এদিকে উপজেলার শিবনদী ও হরিপুর বিলসহ বিভিন্ন খালে-বিলে অহরহ ছোট ছোট জাল ও চাই (ফাঁদ) দিয়ে ছোট-বড় কই, শিং, মাগুর, ভেদি, বায়লা, পাবদা, চিংড়িসহ দেশি মাছ শিকার দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন না হওয়ায় ওই সব মাছের প্রজাতি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলায় কয়েকদিন ধরে পলো দিয়ে মাছ শিকারের উৎসব চলছে। শিবনদী ও হরিপুর বিলে মাছ শিকারিরা সকাল থেকে মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। হাতে কাজ কম থাকায় এলাকার লোকজন দলবদ্ধ হয়ে মাছ শিকার করছে।
চককেশব এলাকার মামুন বলেন, এই মৌসুমে খাল-বিল, নদী-নালার পানি কমে যায়। এলাকার তরুণরা একজোট হয়ে মাছ ধরতে চলে যায় বিভিন্ন খালে-বিলে। একত্র হয়ে মাছ ধরতে যেমন মজা লাগে তেমনি এটি একটি ঐতিহ্য। দিন দিন দলবদ্ধ হয়ে মাছ ধরার ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে।

হরিপুর বিল এলাকার হারেছ বলেন, সারা বছরই মাছ ধরি। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে পলো দিয়ে মাছ ধরার মজাই আলাদা। দলবদ্ধ হয়ে মিলিতভাবে মাছ ধরার উৎসব কখনো ভুলবো না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদের চমৎকার একটি গ্রামীণ ঐতিহ্য হলো মাছ ধরা উৎসব। দলবেঁধে মাছ ধরাটা গ্রাম বাংলার সহজাত সম্প্রতিকে ধারণ করে।