নিয়ামতপুরে সামান্য ঘটনায় ছেলে মেয়ে আটক, সালিশের নামে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা

আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২১, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা:


নওগ^ার নিয়ামতপুরে সামান্য ঘটনাকে বিতর্কিত করে ছেলে মেয়েকে আটকের ঘটনা ঘটে। রোববার (১৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের আশনদী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের আশনদী গ্রামের শফিকুল ইসলামের বাড়িতে উপজেলা চন্দননগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতির ছেলে রাশেদুজ্জামান জীবনকে গ্রামের কিছু উৎসুক লোকজন আটক করে সারা রাত শফিকুলের বাড়িতে আটকে রাখে। সোমবার সকালে বিষয়টি নিয়ে মিমাংসার জন্য ভাবিচা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওবাইদুল হক তাঁর বাড়ির সামনের বৈঠকখানায় ছেলে-মেয়ে, মেয়ের বাবা-মা ও কিছু উৎসুক ব্যক্তিদের তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে সালিশের নামে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন।
মেয়ের দাদী এ প্রতিবেদককে বলেন, রোববার রাতে ইফতারের কিছু পরে আমার ছেলের ভায়রার ছেলে চন্দননগর গ্রামের ইসরাফিলের ছেলে শান্ত ও তার বন্ধু চন্দননগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান তোতার ছেলে রাশেদুজ্জামান জীবন (পরে নাম জানা যায়) আমাদের বাড়িতে আসে। তখন আমার ছেলে ও ছেলে বৌ বিয়ের খাওয়ার জন্য মহাদেবপুরে বেড়াতে যায়। বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকার কারণে তাদের থাকতে বারণ করলে তারা চলে যাওয়ার জন্য বাড়ির বাইরে যেতে লাগলে গ্রামের কিছু মানুষ আমাদের বাড়িতে এসে তাদের আটক করে। আমি পরে জানতে পারি আমার ছেলের ভায়রার ছেলে ও বন্ধুর সাথে আরেক বন্ধু মটরসাইকেল নিয়ে এসেছিল। সে বাইরে অবস্থান করছিল। তাঁর এলোমেলো কথার কারণে গ্রামের মানুষ আমাদের বাড়ি এসে তাদের আটক করে। তাদের সারারাত আটকে রেখে সকালে চেয়ারম্যানের বাসায় নিয়ে যায় মিমাংসার জন্য।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওবাইদুল হকের সংগে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে এ প্রতিবেদককে বলেন। তিনি আরো বলেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদে আছি। তাদের বলেছি তারা যদি সালিশ করতে চায় তাহলে তারা যেন পরিষদে আসে।
অথচ খবর নিয়ে জানা যায় সে সময় ছেলে-মেয়ে এবং কিছু উৎসুক জনতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওবাইদুল হকের বৈঠকখানায় অবস্থান করছেন গেটের বাইরে তালা মেরে। আরো জানা যায়, সে সময় চেয়ারম্যান পরিষদে ছিলেন না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ