নিয়ামতপুর ইউএনওর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আপডেট: জুলাই ৮, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

নিয়ামতপুর প্রতিনিধি


নওগাঁর প্রত্যন্ত উপজেলা নিয়ামতপুর। জেলা শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এ বরেন্দ্র এলাকা। এখানে ব্যক্তি উদ্যোগে ই-বুক সমৃদ্ধ ডিজিটাল লাইব্রেরি করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মো. মাহফুজুল আলম। উপজেলাবাসীর দৃষ্টি কাড়তে উপজেলা গেট সংলগ্ন প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে গত ২০ জুন ডিজিটাল লাইব্রেরি উদ্বোধন করা হয়।
এই লাইব্রেরিতে রয়েছে চারটি ‘ই-বুক রিডার’ ডিভাইস ও তিনটি ডেক্সটপ। প্রায় ১৪ হাজার স্ক্যান করা পিডিএফ বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে এখানে। উদ্বোধনের পর থেকেই ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে লাইব্রেরিতে। পাঠক আসছেন এবং পড়ছেন। তাদের কাছ থেকে পজিটিভ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। ছুটির দিন ব্যাতীত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ লাইব্রেরি খোলা থাকে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর আগে পাবলিক পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সয়ে মাস্টার্স করার সময় কোর্সের একটা অংশ হিসেবে একটি উদ্ভাবনী পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হয়েছিল আবু সালেহ মো. মাহফুজুল আলমকে। সেখানেই আশা ব্যক্ত করেছিলেন কোনো উপজেলায় যদি নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পান তাহলে সে উপজেলায় একটি ডিজিটাল লাইব্রেরি স্থাপন করবেন। আর তখন থেকেই বই সংগ্রহ শুরু। নিয়ামতপুর উপজেলায় দায়িত্ব ভার গ্রহণের আগেই প্রায় ১২ হাজার স্ক্যান করা পিডিএফ বই সংগ্রহ করা হয়। যেখানে রয়েছে সব রকমের বাংলা বই। শিশুতোষ, কিশোর উপযোগী, গল্প, কবিতা, ছড়া, উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক, ধর্ম বিষয়ক ও বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তির জীবনী এই লাইব্রেরির সংগ্রহে রয়েছে।
মূলত নওগাঁয় যে লাইব্রেরিগুলো রয়েছে সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় জায়গা সংকট। বই রাখার প্রয়োজনীয় সেলফ ও আলমিরার অভাবে বইগুলোও নষ্ট হয়ে যায়। সংরক্ষণ করাও কষ্টকর। এ কারণেই এ পরিকল্পনা নিয়ে ডিজিটাল লাইব্রেরি করা হয়। মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে স্কুলগুলোতে এ বিষয়ে তথ্য দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়ায় বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে অবগত হয়েছে।
বিভিন্ন ওয়েবসাইটে দেশি এবং বিদেশি লাইব্রেরির রয়েছে। যেখানে ইন্টারনেটের সংযোগ দিয়ে বইগুলো পড়তে হয়। তবে এ ডিজিটাল লাইব্রেরিটি সম্পন্ন অফলাইন। ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন নেই। ডিভাইসে বইগুলো পিডিএফ আকারে সংরক্ষণ করা আছে। যেখানে পাঠক তাদের পছন্দমতো নাম দিয়ে বই খুঁজে পড়তে পারবে।
লাইব্রেরিতে পড়তে আসা সেলিম উদ্দিন নামে এক পাঠক বলেন, ‘ই-বুক রিডার’ এ প্রায় সাড়ে চার হাজার পিডিএফ আকারে বই সংরক্ষণ আছে। আর আমি ইচ্ছে করলেই এতোগুলো বই কিনে পড়তে পারতাম না। সংরক্ষণ করাও কষ্টকর হতো। এখন হাতের তালুতে ডিভাইসটি নিয়ে পড়তে পারছি। এ উদ্যোগটি খুবই প্রশংসনীয়, মহৎ এবং যুগোপযোগী। নিয়ামতপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নোমান বলে, কলেজ এখন ছুটি। তাই বাড়িতে বসে না থেকে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে বেশ সময় নিয়ে ডিজিটাল লাইব্রেরিতে এসে মনোযোগ দিয়ে পড়ছি। বেশ ভালো লাগছে। পড়াশুনার পরিবেশ মনোরম ও সুন্দর। শ্যামলী খালকো ও জয়ন্তী রানী বলেন, উপজেলায় কম্পিউটার শিখতে আসছি। নতুন এ লাইব্রেরিতে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে বই পড়ার বিষয়টি জানতে পারি। ডিভাইসে যে বইগুলো সংরক্ষণ আছে তা হয়তো টাকা দিয়ে কিনে পড়া সম্ভব হতো না। কিছু সময় ধরে পড়ার পর বেশ ভালো লাগছে। আর এখান থেকে জ্ঞান অর্জন করাটাও সহজ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মো. মাহফুজুল আলম বলেন, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল যে প্রচেষ্টা তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ পরিকল্পনাটি গ্রহণ করা হয়। ডিজিটাল লাইব্রেরির সুবিধাটা হচ্ছে যেখানে প্রচুর বইয়ের সেলফ থাকবে না। স্বল্প পরিসর জায়গায় এ লাইব্রেরি করা সম্ভব। সবকিছু গোছানো। ডিভাইসের সার্চ অপশন ব্যবহার করে পাঠক তার পছন্দের বই বের করে সহজেই পড়তে পারবে।
তিনি আরো বলেন, সাধারণ ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে পিডিএফ বই পড়লে আলোতে চোখের উপর চাপ পড়ে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু ‘ই-বুক রিডার’ বই পড়ার জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি। কোনো রকম ব্যাক লাইট ছাড়াই কাগজের বইয়ের মতো পড়া সম্ভব। আগামীতে এটি আরো বৃদ্ধি পাবে। অফিসের এক কর্মচারীকে লাইব্রেরি দেখভাল করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
গত ২০ জুন এ ডিজিটাল সেন্টার ও ডিজিটাল লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ