নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে চেষ্টার আশ্বাসে, রাবিতে আন্দোলন স্থগিত

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২১, ১০:০৭ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক:


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নিয়োগে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের দেয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যৌথভাবে কাজ করবে এমন আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে চাকরি প্রত্যাশি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাবি উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে মহানগর ও স্থানীয় আ. লীগ নেতা ও ছাত্রলীগের যৌথ আলোচনা শেষে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এদিন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্যদ্বয় অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও চৌধুরী মো. জাকারিয়া, রেজিস্টার আবদুস সালাম, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, মতিহার থানার আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সাবেক সহ-সভাপতি ইলিয়াস হোসেন ও সাদিকুল ইসলাম স্বপনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আলোচনায় বসেন। আলোচনায় মহানগর আওয়ামী লীগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংসদ সদস্য যৌথভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।
রাবি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শেষে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আন্দোলনে অংশ নেয়া চাকরিপ্রত্যাশীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ছিল। তারা ছিল ওই সময়ের ত্যাগী ছাত্রনেতা। তারা তাদের প্রত্যাশার জায়গা থেকেই আন্দোলন করছে। এর আগে একজন প্রতিবন্ধীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি প্রতিবন্ধীদের ক্রিকেট টিমের অধিনায়ক ছিল। সেটি মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করা হয়েছে। এখানে একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আন্দোলনরতরা প্রশ্ন তুলছেন, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কেন নিয়োগ দেয়া হলো!
তিনি আরও বলেন, নিয়োগের বিষয়ে যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে আমরা এমপি এবং মেয়রের সহযোগিতায় সেটি প্রত্যাহারের ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে কথা বলবো। এবং এটি প্রত্যাহার হলেই নিয়োগের দুয়ার আবার খুলে যাবে। যারা আবেদন করেছে তাদের এখানে রিজিক থাকলে নিয়োগ হবে। আমাদের আলোচনার পর আন্দোলনকারীরা আমাদের ওপর আস্থা রেখে আন্দোলন স্থগিত করেছেন।
চাকরি প্রত্যাশী রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, রাজশাহী মহানগরের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আমাদের অভিভাবক। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করি। ভবিষ্যতেও করবো। তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন চলমান বিষয়টি দ্রুত সমাধান করবেন। তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রেখে আমরা আমাদের চলমান আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ববৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান নেতারা আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যে নিষেধাজ্ঞা আছে তা তুলে নেয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী চাকরির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অনেকের পরীক্ষা শেষ হয়েছে, ভাইভা বাকি রয়েছে। সেগুলো সম্পূর্ণ করেই নিয়োগ দেয়া হবে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সুপারিশ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। সোমবার দুপুরে রেজিস্ট্রার দফতরের অ্যাডহকে একজন প্রতিবন্ধীর চাকরি নিশ্চিত হলে সন্ধ্যার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হন আন্দোলনরতরা। কিছুক্ষণ অবস্থানের পরে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ছয়জনের একটি দল উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন। উপাচার্য তাদের চাকরি নিশ্চিতের বিষয়ে আশ্বস্ত না করলে বাইরে এসে রাত নয়টায় উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতাকর্মীরা।
প্রায় ১২ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সকাল আটটায় উপাচার্য ভবনের তালা খুলে দেয়া হয়। এদিন সকাল নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। দুপুরে রাবি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা বসেন তারা। এক শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনা বিবেচনায় ও উপাচার্য বুধবার আলোচনার আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন স্থগিত করে।