নীলপরীদের আস্তানায়

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

কাজল বিনতে শাহিদা


ছোট্ট মেয়ে আবিরা বয়স মাত্র সাত। জাহানাবাদ ক্যান্টলমেন্ট ইংলিশ স্কুলে কেজি শ্রেণিতে পড়ে।ওর অজানাকে জানার ইচ্ছা এতবেশী যে ওর আম্মু’ই মাঝেমাঝে বিরক্ত হয়ে যায়। হাটতে চলতে সবসময় ওর মুখে কেন কথাটি যেন লেগে থাকে। ওর প্রশ্ন গুলো এতবেশী বিদঘুটে যে তার উত্তর দেওয়াটাই মুসকিল।
একদিন ওর আম্মুকে প্রশ্ন করল আম্মু ইট কেন লাল হয়? তারপর আপেল খেতে মিষ্টি হয় কেন?, আকাশে বড় বড় বিমান চলে কীভাবে? আম্মু আমরা চোখে দেখতে পাই কী করে? এমন সব প্রশ্ন করে দিনরাত আম্মুর মাথাটা ঝালাপালা করে দেয় আবিরা, ছাড় দেয় না বাড়িতে আসা মেহমান দের ও। বুধবার সন্ধায় আবিরা পড়তে বসল নয়টাই পড়া শেষ করে টুকটাক এটা সেটা নিয়ে খেলছিল। আম্মু ছোট ভাইটাকে খাওয়াচ্ছে, ঠিক এইসময় আব্বু একটা ছড়ার বই হাতে বাসায় ঢুকল। আবিরা দৌড়ে বইটা হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করল। পড়তে পড়তে নীলপরী নামক একটা ছড়া পড়ে ফেললো আবিরা, অমনি ওর নীলপরীদের সম্পর্কে জানার আগ্রহটা মাথা চাপা দিল। কিন্তু কি আর করা রাত যেহেতু অনেক হয়ে গেছে তাই ঘুমাতে যেতে হল। তবুও অজানাটাকে না জানা পর্যন্ত চোখে ঘুম ও আসছে না। এদিকে অনেক রাত করে ঘুমালে সকালে ঠিকসময় উঠতে পারবে না, আর ঠিকসময় না উঠতে পারলে স্কুলে যাওয়া হবে না। তখন আম্মু খুব বকুনি দেবেন। তারপর ও আম্মু যখন ছোট ভাইটাকে ঘুম পাড়াচ্ছিলেন তখন পাশ থেকে আবিরা প্রশ্ন তুলল আম্মু নীলপরী মানে কী? আম্মু নীলপরী মানে নী রংয়ের পরী। আম্মু নীলপরীরা কীকরে? ওদের পাখা নাড়িয়ে বাতাসে ভেসে উড়ে বেড়ায় আর ওদের হাতের যাদুর কাঠি দিয়ে যাদু দেখায়। আবিরার জানার আগ্রহটা আরো বেড়ে গেল আম্মু নীলপরীরা আমাদের সাথে থাকেনা কেন ওরা ওতো দেখতে মানুষের মত তাহলে আমাদের সাথে থাকেনা কেন আম্মু বলনা। ওরা দেখতে আমাদের মত হলেও ওদের ক্ষমতা আমাদের থেকে অনেক বেশী, ওদের টাকা পয়সা, সোনা গহনা, হীরা মুক্তা সব আছে লোভী মানুষ যদি ওদের সব ছিনিয়ে নেয় এই জন্য ওরা আমাদের সাথে থাকে না। তবে দলবেধে ওরা আমাদের দেশে ঘুরতে আসে ওরা অনেক ভালো….আম্মু বলতেই থাকলেন এতক্ষনে অজানা ঘুমের দেশে হারিয়ে গেছে আবিরা। দুচোখ জোড়া অচেনা সব স্বপ্ন, দুইটা নীলপরী এসে ওকে ঘুম থেকে জাগালো,নীলপরী দের পিঠে দুইটা করে ডানা হাতে একটা যাদুর কাঠি আর কি চমৎকার দেখতে তারা। যাদুর কাঠি নাড়িয়ে পরী দুটো ওদের সাজে সাজিয়ে দিল আবিরাকে। তারপর পরী দুইটা তাদের মাঝখানে আবিরাকে রেখে যাদুর কাঠি নাড়িয়ে ডানায় ভর দিয়ে ভেসে চলল বাতাসে। আম্মুর বলা কথা গুলো সব যেন মিলে যাচ্ছে। অবাক হয়ে আবিরা পরীদের সাথে ভেসে চলল যেতে যেতে একসময় পৌছে গেল নীলপরীদের আস্থানায়। আস্তানার চারপাশে ছড়ানো ছিল সোনা, হীরা, মানিক, মুক্তা ,টাকা আর অদ্ভুত সব দৃশ্য আবিরা দেখে হতবাক হয়ে গেল। সকাল আটটা বাজতেই ডাক পড়ল আম্মুর, ইস ভেঙে দিলে তো স্বপ্নটা। খেতে খেতে স্বপ্নের কথা আম্মুকে খুলে বলল আবিরা।