নুসরাত হত্যার রায় : ভয়ঙ্কর অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

আপডেট: অক্টোবর ৩০, ২০১৯, ১:০১ পূর্বাহ্ণ

ড. মো. হাসিবুল আলম প্রধান


গত ২৪ অক্টোবর যেদিন নুসরাত হত্যা মামলার রায় হবে তার আগের রাতে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে আমাদের বড় মেয়ে হা-মীম প্রমিতি প্রধানকে ভর্তি করার জন্য কন্যাসহ আমি ও আমার স্ত্রী দিনাজপুরে এসেছিলাম। সারা রাত ভীষণ এক উৎকন্ঠতার মধ্যে কেটেছে। গভীর রাত পর্যন্ত ফেইসবুকে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্নজনের নানা মন্তব্য পড়ছিলাম, আর মন থেকে প্রার্থনা করছিলাম ঘাতকদের সকলের বিরুদ্ধে যেন ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়। কারণ ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ওপর পর্যায়ক্রমে যে অন্যায় ও নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে তা দেশের অন্যান্য মানুষের ন্যায় আমাদের পরিবারের সদস্যদেরকেও গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। রাতে বার বার মনে হয়েছে, এ কোন বর্বর সময় যখন একটি মেয়ের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। বৃষ্টি সিক্ত সকালে মেয়ের ভর্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও চোখ রাখছিলাম ফেইসবুকে মামলার রায় জানার জন্য। দুপুরে যখন জানতে পারলাম নুসরাত হত্যার দায়ে প্রধান আসামী সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামীকেই ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য মাননীয় আদালত আদেশ দিয়েছে, তখন নিজের ভেতর দারুণ এক স্বস্তি বোধ করছিলাম। সেইসাথে ভাবছিলাম দ্রুততম সময়ে রায় হওয়া মামলাগুলোর অন্যতম এই মামলার রায় অপরাধ হ্রাসে বিশেষ করে সমাজের গভীরতর ব্যাধি নারীর প্রতি যৌন হয়রানি ও প্রকট নির্যাতন প্রতিরোধে নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নুসরাত হত্যার ছয় মাসতেরোদিনের মাথায় এই মামলায় আসামীদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করায় খবরটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। রায়ের পর্যবেক্ষণে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো.মামুনুর রশিদ বলেন, নারীত্বের মর্যাদা রক্ষায় নুসরাতের আত্মত্যাগ তাঁকে এরই মধ্যে অমরত্ব দিয়েছে। এই অমরত্ব চিরকালের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। পাশাপাশি আসামীদের ঔদ্ধত্য যুগে যুগে মানবতাকে লজ্জিত করবে। তাই দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তিই আসামীদের প্রাপ্য। রায় পড়ার শুরুতে বিচারক নুসরাত হত্যার ঘটনায় গাফিলাতির অভিযোগ এনে সোনাগাজী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে তিরস্কার করেন এবং ভবিষ্যতে যেন আর এ ধরনের কর্মকাণ্ড না ঘটে তার জন্য সবাইকে সতর্ক করে দেন। এসময় আদালত গণমাধ্যমের প্রশংসা করে বলেন, গণমাধ্যমের কারণেই এই ভয়াভহ হত্যাকাণ্ডের খবর দেশবাসী জানতে পারে।
নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল সমাজের মর্মমূলও। নারীর ওপর নানা স্তরে নানা পদ্ধতিতে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। কিন্তু নুসরাতের উপর যে পৈশাচিক ও বর্বর আক্রমণ করা হয়েছিল তা বোধকরি পূর্বেকার সকল নারী নিপীড়নের ঘটনাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। এ ঘটনায় লজ্জিত হয়েছিলো মানবতা, যন্ত্রণায় কেঁদে উঠেছিল লাখ লাখ মানুষের হৃদয়। যারা নুসরাতের পোড়া বীভৎস শরীর বিভিন্ন চ্যানেলের খবরে দেখেছেন তারা নির্বাক হয়েছিলেন, যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠেছিলেন বার বার। কী করে দিনের আলোয় নুসরাতের মত একটি নিষ্পাপ মেয়েকে এমন নির্মম ও নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয় তা মানুষের কল্পনাশক্তির বাইরে। এমন নৃশংস হামলায় নুসরাতের বাঁচার কথা নয়, তাইতো মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নুসরাত। কী দোষ ছিল নুসরাতের? সে ছিল প্রতিবাদী এবং আপোসহীন। গত ২৬ মার্চ ২০১৯ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের ওপর যৌন নিপীড়ন চালায়। নুসরাত তার প্রতিবাদ করে এবং পরিবারের অভিভাবক আইনগত ব্যবস্থা নেয়। এরই প্রেক্ষিতে ২৭ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় গ্রেফতার করা হয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে। নুসরাতের উপর ওই মামলা তুলে নেয়ার প্রবল চাপ ছিল। কিন্তু নুসরাত আপোস করার মতো মেয়ে নয়। সে কঠোর অবস্থান নেয়। নুসরাত মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার সাইক্লোন সেন্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরাসিন ঢেলে তাকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকায় নিয়ে এসে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া হয়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশও দেন। কিন্তু সে অবস্থা ছিল না নুসরাতের। অনেক কষ্ট পেয়ে ১০৮ ঘণ্টা লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ১০ এপ্রিল ২০১৯ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যায়। এই মৃত্যুর কোনো সান্ত্বনা হয় না। নুসরাতের পরিবারকে কী বলে সান্ত্বনা দেবে মানুষ!
নুসরাত হত্যায় ফুঁসে উঠে সমগ্র দেশ, প্রতিবাদের বিস্তৃতি ঘটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। নুসরাতের ওপর বর্বরোচিত ঘটনার নিন্দা জানায় সারা দেশের মানুষ, নানাভাবেই এর প্রতিবাদ জানানো হয়, চাওয়া হয় নুসরাতের হত্যার ন্যায় বিচার। নুসরাতের উপর অন্যায় আচরণ ও তার নির্মম হত্যাকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত দেশবাসীর একটাই দাবি ছিল অপরাধীদের ফাঁসি দিতে হবে। দাবি ছিল মূল অপরাধী সিরাজ উদদৌলা হলেও, শুধু তার নয়, বিচার করতে হবে যারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়েছে তাদের সবার। এমনকি অপরাধীর মুক্তির দাবিতে যারা সভা করে সর্মথন জানিয়েছে ও প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। দাবি জানানো হয় ফুলগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে নুসরাত থানায় গেলে ওসি আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় ১৫ এপ্রিল ২০১৯ ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা হলে গত ১৬ জুন হাইকোর্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। নুসরাত হত্যায় যারা জড়িত তারা ভয়ঙ্কর জঘন্য অপরাধ করেছেন, ভয়ঙ্কর অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই মানুষ স্বস্তি বোধ করবে এবং সমাজে অপরাধ হ্রাাস পাবে এমনটিই প্রত্যাশা ছিল দেশের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের।
৮এপ্রিল ২০১৯ সোনাগাজী থানায় নুসরাত হত্যা চেষ্টায় মামলা হওয়ার ২দিন পর ১০ এপ্রিল অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ঢাকায় মারা যায় নুসরাত। নুসরাত হত্যার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ এপ্রিল ফুলগাজী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয় এবং অপরাধের মামলার ভার দেয়া হয় পুলিশের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। ২০১৯ সালের মে মাসে ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ২০ জুন ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা এবং ২৭ জুন মামলার বিচার শুরু হয়। ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ ২৪ অক্টোবর নির্ধারিত হয়। আগুনে ঝলসানো শরীর নিয়ে নুসরাত যখন সীমাহীন যন্ত্রণায় কাতর, তখনও তিনি দৃঢ় কন্ঠে উচ্চারণ করছিলেন তার পরিণতি যাই হোক না কেন, দায়ী অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীরা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়। জীবন সায়াহ্নে দেওয়া এই বক্তব্যকে আইনি ভাষায় বলা হয় ‘ডাইং ডিক্লারেশন’। নুসরাতের সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটলো অবশেষে রায়ে। রায় ঘোষণার পর সত্য উদঘাটনের মধ্য দিয়ে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নুসরাত হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) সাধুবাদ জানান। রায়ের পরে নুসরাতের বাবা একেএম মুসা কান্না সংবরণ করতে পারেননি। তিনি বলেন, সাড়ে ছয় মাস ধরে আমাদের পরিবারেরর সদস্যরা কাঁদছি। এই কটা মাস এই দিনটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। সব আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে, এ রায়ে নুসরাতের আত্মা শান্তি পাবে। মামলার রায়ে নুসরাতের বড়ভাই ও মামলার বাদি মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, আমরা সুবিচার পেয়েছি। তবে রায় দ্রুত কার্যকর হলে বেশি স্বস্তি পাব। অল্প সময়ের মধ্যে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। অপরাধের নৃশংশতার ধরণ, সাধারণ মানুষের দাবি, মিডিয়ার তৎপরতা আর সরকারের আন্তরিকতার কারণেই খুব দ্রুত সময়ে নুসরাত হত্যার বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলত শাস্তি প্রদান করা হয়েছে যা বাংলাদেশের আইনের ইতিহাসে মাইল ফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। আমাদের দাবি উচ্চ আদালতও যেন একইভাবে অতি স্বল্পসময়ে এই মামলায় ন্যায় বিচার নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এই রায় থেকে অনকেই অনেক ম্যাসেজ পাবেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে আবারো প্রমাণিত হলো অপরাধীদের হাতের চেয়ে আইনের হাত অনেক লম্বা। এই রায় আমাদের মতো অপরাধপ্রবণসমাজে অপরাধ হ্রাসে সহায়ক হবে বলে একজন অপরাধ বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ হিসেবে মনে করি। কারণ শাস্তি প্রদানের অন্যতম প্রধান একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণভাবে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তির মধ্যে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার করা যাতে তারা অপরাধ করতে নিবৃত্ত হয়। ভয়ঙ্কর অপরাধ সংঘঠিত হলে আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি, কারণ এটি যেন সবার জন্য এমন দৃষ্টান্ত হয় যে এ অপরাধ করলে তারও অনুরূপ শাস্তি হবে। এই রায়ের পর যে কোন শ্রেণিপেশার মানুষ অপরাধ করার আগে দশবার ভাববে। শুধু তাই নয়, এই রায় অনেক ভিকটিমকে বিশেষ করে যেসব নারী ও শিশু যৌন নিপীড়ন ও সহিংসতার শিকার তাদেরকে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে অনুপ্রাণিত করবে। নুসরাত হত্যা মামলায় যেভাবে সংক্ষিপ্ত সময়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়েছে, অন্য সব চাঞ্চল্যকর মামলায় এরকম নজির স্থাপিত হলে আমাদের সমাজ অনেকখানি বদলাবে, অপরাধ হ্রাস পাবে, নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে এই রায়ের পাশাপাশি নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে মাননীয় উচ্চ আদালত যেসব নির্দেশনা প্রদান করেছেন তা মানা হচ্ছে কিনা তা কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। দেশের প্রতিটি শিক্ষালয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শিক্ষার্থী-শিক্ষক সবার সম্মিলিত প্রয়াসে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার যাতে করে যৌন হয়রানির মতো অনৈতিক আচরণ করার কোনো ধরনের সাহস কেউ না পায়।
নুসরাত সাহসী, সে তাঁর সাথে সংঘটিত অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। সে জানতো রাষ্ট্র ও সমাজের প্রচলিত ব্যবস্থায় এ এক কঠিন লড়াই। অপরাধীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এ লড়াই সে চালিয়েছে। অপরাধীদের হুমকির মুখে মামলা প্রত্যাহার করলে নুসরাত হয়তো বেঁচে যেত, কিন্তু নারীর মর্যাদা রক্ষায় সে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে আত্মত্যাগের ইতিহাস রচনা করেছে। নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় যে কোনো শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই শোকগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। যে কারণে নুসরাতকে নৃশংসভাবে হত্যার পর বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিল দেশবাসী। দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী নুসরাতের পরিবার ন্যায় বিচার পেয়েছে। কিন্তু নুসরাতকে হারানোর বেদনায় যে দগদগে ক্ষত নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের হৃদয়ে তৈরি হয়েছে, সেই ক্ষত কি কোনোদিন শুকাবে? সেই ক্ষত কোনোদিন শুকাবে না। তবে নুসরাত হত্যার রায়ের মধ্য দিয়ে যদি আমাদের সমােেজ অপরাধ হ্রাস পায়, বিশেষ করে নারীর প্রতি যে নির্যাতন ও সহিংসতা তা প্রতিরোধে নুসরাতের মত সাহস সঞ্চারিত করে আমরা যদি সকলে এগিয়ে আসতে পারি তাহলে নুসরাতের আত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে।
লেখক : প্রফেসর, আইন বিভাগ ও পরিচালক, শহীদ সুখরঞ্জন ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।