নেওয়াজ শরিফের আশংকা শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান টিকবে তো?

আপডেট: আগস্ট ২৮, ২০১৭, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

পাকিস্তানের সময়টা একদম ভাল যাচ্ছে না। যাবেই বা কেমন করে! ‘ তোমারে বধিবে যে গোকূলে বাড়িছে সে’Ñ সেই বৃদ্ধির ষোলকলা পূর্ণ হয়ে গেছে বোধকরি। কড়ায়-গ-ায় এখন হিসেবের দাবি উঠেছে। মানুষকে আর ধর্মের নামে সন্তুষ্ট করা যাচ্ছে না। বিদ্রোহ পাকিস্তানের দিক দিকে চারিদিকে। মোল্লাতন্ত্র দিয়ে খুনখারাবি করে আর মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখা যাচ্ছে না। তারই সতর্ক বার্তা শোনা গেল সম্প্রতি দেশটির সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত নেওয়াজ শরিফের মুখ থেকে। বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি ২৩ বছর বছর ধরে বাঙালি জাতির স্বাধিকারের প্রত্যাশাকে যেভাবে দমন-পীড়ন ও গণহত্যার মধ্য দিয়ে স্তব্ধ করতে চেয়েছিলÑ বাঙালি জাতির সেই শোষণ-বঞ্চনার সত্য-ভাষণই নেওয়াজ শরিফের স্বীকারোক্তি থেকে বেরিয়ে আসলো। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর পাকিস্তানের কয়েকবারের প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে বেরিয়ে আসা স্বীকারোক্তিই প্রমাণ করলো যে, পাকিস্তান এমনই একটি দেশ যাদের সাথে সভ্য জাতিগোষ্ঠি শান্তিপূর্ণ উপায়ে বসবাস করতে পারে না।  সত্য স্বীকতারোক্তির জন্য নেওয়াজ শরিফ ধন্যবাদ পেতেই পারে।
শুক্রবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টকে একহাত নিয়ে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ মন্তব্য করেন যে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যদি শ্রদ্ধা দেখানো না হয়, তাহলে ১৯৭১ সালের মতো আরো একটি বিভাজনের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।
নওয়াজ ও তার রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) বিচার বিভাগবিরোধী কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না বলে লাহোরের হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারির একদিন পর বিস্ফোরক এই মন্তব্য এল সাবেক পাক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে।
পরিবারের সদস্য ও তার বিরুদ্ধে পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে তদন্ত সংশ্লিষ্ট দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও সমালোচনা করেন নওয়াজ শরিফ।
পাক সেনাবাহিনী সবসময় দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাকিস্তানের ৭০ বছরের ইতিহাসের ৩৩ বছরেরও বেশি সময় শাসন করেছে সেনাবাহিনী। দেশটিতে পরোক্ষ সামরিক শাসনের ধারা সব সময়ই ছিল। জনগণের আশা- আকাক্সক্ষা কখনই সে দেশের রাজনীতিতে জায়গা করে নিতে পারেনি। সেনাবাহিনীর আশির্বাদ ছাড়া বা কর্তৃত্ব ছাড়া কোনো সরকার ব্যবস্থাই সচল হতে পারে না। অনেকটা পুতুল সরকারের মত।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র-শঠতা, হত্যা-গুম একটি অব্যাহত ধারা। এই ধারার বিপরীতে কখনো সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি মাথাচাড়া দিতে পারে নি। জন্মের পর থেকেই দেশটির সেনাবাহিনীর প্রথম প্রতিপক্ষই ছিল সে দেশের জনগণ। এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে জনগণকেই গিলে সাবাড় করতে চাইছেÑ একাত্তরে যেমন বাঙালি জাতিসত্ত্বাকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। এখন পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের  মানুষ পাকিস্তানের ভয়ঙ্কর শোষণ-নিপীড়ন থেকে বেরিয়ে আসসে চাইছে। তারই স্ফূলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ছে দিকে দিকে। পাকিস্তান শাসিত কাশ্মির, বেলুচিস্তান, সীমান্ত প্রদেশ ও সিন্ধু ইতোমধ্যেই স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। ওই অঞ্চলের মানুষের ওপর নেমে এসেছে নির্মম নির্যাতনÑ এমন কী নারীদের ওপর ধর্ষণের মত ঘটনাও ঘটাচ্ছে সেনাবাহিনী। এই পরিস্থিতিতে নেওয়াজ শরিফের আশংকার মতই জনমনে একটি প্রশ্ন দানা বেধেছে যে, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান টিকবে তো?

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ