নেদারল্যান্ডসের জন্য অপেক্ষা আর্জেন্টিনার

আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২২, ১০:২৮ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


আর্জেন্টিনার সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিন। তাই হয়তো রক্ষণ দুর্গটা কঠিন করে রেখেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু পাসিং ফুটবলের কাছে একসময় হার মানতে হয়েছে। বিশেষ করে লিওনেল মেসির কাছে। তার পায়ে বল থাকা মানে জাদুকরি নৈপুণ্যের ছোঁয়া। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে দারুণ কারিকুরি করে অনিন্দ্য সুন্দর গোলে আলবিসেলেস্তেরা এগিয়ে গেলো। এরপর আলভারেজ ব্যবধান দ্বিগুণ করে উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে দেন। যদিও সকারুরা একটি গোল শোধ দিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে শেষটায় দারুণ করে দেখাতে পারেনি।

দাপট দেখিয়ে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে লাখো-কোটি সমর্থকদের স্বপ্ন আরও প্রসারিত করেছে। এমন ম্যাচের পর দলের বড় তারকা মেসি নির্ভার হতেই পারেন। তবে এই ম্যাচ জিততে যে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়েছে, তা ম্যাচ শেষের কথাতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদের জন্য কঠিন দিন গেছে। এমনিতে আমরা বিশ্রামের জন্য বেশি সময় পাইনি। ঠিকমতো রিকভারি করতে পারিনি। এই ম্যাচে শরীরের ওপর অনেক ধকলও গেছে। তবে আমরা খুশি। ম্যাচ জিতেছি। এখন পরবর্তী ধাপের জন্য অপেক্ষা।’

এই ম্যাচে মেসি রেকর্ড মাইলফলক ছুঁয়েছেন। বিশেষ করে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে ১০০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলকে পা দিয়ে নিজেকে অনন্য জায়গায় নিয়ে গেছেন। এমন খবরটি মেসি আবার ম্যাচের দিনই জানতে পেরেছিলেন, ‘আমি ম্যাচের দিন তা জানতে পেরেছি। পুরো সময়টা উপভোগ করেছি। আমরা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছি। একধাপ এগিয়ে গেছি।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাসিং ফুটবলের পসরা মেলেও কিছুতেই রক্ষণদুর্গ ভেদ করা যাচ্ছিল না। সেই সময় মেসি হলেন ত্রাণকর্তা। শেষের দিকে সকারুরা এক গোলও পেলো। আর তাদের আরও একটি প্রচেষ্টা গোলকিপার মার্টিনেজ যেভাবে রুখে দিয়ে দলকে বাঁচিয়েছেন, তাতে করে প্রশংসা পেতেই পারেন। খোদ মেসি তার প্রশংসা করে বলেছেন, ‘আমরা ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণ করেছি। শুরুতে ম্যাচের লিড নিয়েছিলাম। এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ হয়েছে। তারা আমাদের মার্কিং করে খেলেছে। ম্যাচটা শেষের দিকে কিছুটা কঠিন করে ফেলেছিল। মার্টিনেজ (দিবু) দারুণ গোল বাঁচিয়েছেন। এছাড়া বড় রকমের সমস্যায় আমাদের পড়তে হয়নি। আসলে এটাই বিশ্বকাপ। দিনকে দিন এটা আসলে কঠিন হয়ে পড়ছে।’

সমর্থকরা কী চান তা ভালোই জানেন মেসি। চাপটা বেশ উপভোগ করেন। যেভাবে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমর্থকরা নেচে-গেয়ে তাদের অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন, তা সত্যি দেখার মতোই। অভিভূত। মেসি তাই চাইছেন—শেষ পর্যন্ত জয় দিয়ে রাঙাতে। বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত যেন এই উৎসব টিকে থাকে, ‘আমরা এখানে এসেছি আসলে সমর্থকরা কী চায়, এটার স্বাদ কেমন, প্রত্যাশা পূরণে। আমাদের এক থাকতে হবে। যেন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়।’- বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ