নেপালকে হারিয়ে শেষচারে বাংলাদেশ

আপডেট: মার্চ ২৯, ২০১৭, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



অবিনাশ কর্ন রানআউট হতেই মুমিনুল-নাসিরদের মুখগুলো উজ্জ্বল হয়ে উঠল। কক্সবাজারে ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে নেপালের বিপক্ষে জয়টা যে নিশ্চিত হলো তাতেই। ৮৩ রানের জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই যে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের।
হংকংয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয়টা সহজে এসেছিল। নেপালের বিপক্ষে জয়টা বড় ব্যবধানে হলেও লড়াই কিন্তু ঠিকই করেছে তারা। বাংলাদেশের ২৫৭ রান তাড়া করে শুরুতে ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল নেপাল। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে দিপেন্দ্র সিং-দিলিপ নাথের ৯৮ রানের জুটিটা চোখ রাঙিয়েছিল বাংলাদেশকে।
৪১ রান করা দিলীপকে বোল্ড করে দলকে স্বস্তি এনে দেন রাহাতুল ফেরদৌস। রাহাতুলের তৃতীয় শিকার হয়ে দিপেন্দ্র ফেরেন ৫৬ রানে। তাঁর মাঝের উইকেটটি শারদ বিশ্বকর (২)।
এরপর দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন আটে নামা বিনোদ ভান্দ্রি। তাঁকে ফেরালেন সাইফউদ্দিন। বাংলাদেশের পেসারের বলে বোল্ড হওয়ার আগে বিনোদের রান ৩৩। ৬০ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে নেপাল ৪২.৩ ওভারে অলআউট ১৭৪ রানে। ৪৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফলতম বোলার রাহাতুল। সাইফউদ্দিন ২২ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।
গতকাল সকালে কিন্তু বাংলাদেশকে কাঁপিয়েছিলেন নেপালের বোলাররা। তবে নাসির হোসেনের সেঞ্চুরি আর মুমিনুল হকের ফিফটিতে শেষ পর্যন্ত চ্যালেঞ্জিং স্কোরই পেয়েছে তারা। নেপালের বাঁহাতি পেসার কর্নের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরুতেই বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ! ১৫ রানের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম তিনটি উইকেট তুলে নেন তিনি। নেপালের আরেক বাঁহাতি পেসার মাহবুব আলমের আঘাতে দেখতে দেখতে স্কোর ৪ উইকেটে ৩৩! তখনই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের অধিনায়ক আর সহঅধিনায়কের প্রতিরোধ, পাল্টা লড়াই।
পঞ্চম উইকেটে নাসির-মুমিনুলের ৭৮ রানের জুটি পথ দেখায় বাংলাদেশকে। দারুণ স্বচ্ছন্দে এগোচ্ছিলেন মুমিনুল। কিন্তু হঠাৎই ধৈর্য হারিয়ে ফেললেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সন্দীপ লামিছানকে তুলে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে নেপালি অধিনায়ক জয়েন্দ্র মালার দুর্দান্ত ক্যাচ হন তিনি। সমাপ্তি ঘটে সাতটি চারে সাজানো ৬১ রানের ইনিংসটার। অধিনায়ককে হারিয়ে বাংলাদেশ তখন আবারও চাপে।
এক প্রান্তে আগলে রেখে সেই চাপটা একাই সামাল দিলেন নাসির। নবম উইকেটে আবুল হোসেনের সঙ্গে ৫৫ বলে ৭৬ রানের জুটি গড়ে নেপালের সামনে ছুড়ে দিলেন বড় লক্ষ্যে। ১১৫ বলে নাসির শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১০৯ রানে। ১২ চার আর ২ ছয়ে সাজানো ইনিংসটায় খুঁত অবশ্য একটু আছে। ৩৭ ও ৯০ রানে দুবার জীবন পেয়েছেন তিনি। তবে কুড়িয়ে পাওয়া সুযোগের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করেছেন তিনি। জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডার বড় একটা বার্তাও দিলেন-বিপর্যয়ে দলের ত্রাতা হওয়ার অভ্যাসটায় এখনো মরচে পড়েনি তাঁর। পরে নাসির-মুমিনুলদের চেষ্টা বৃথা যেতে দেন নি বোলাররা। পরশু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই চট্টগ্রামে যেতে চায় বাংলাদেশ। -প্রথম আলো অনলাইনের খবর
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৫৭ (নাসির ১০৯*, মুমিনুল ৬১, আবুল হাসান ২৯, আফিফ ১৪, সাইফউদ্দিন ১৩, সাইফ ৭, নাজমুল ৪, রাহাতুল ৪,নাসুম ১*; অবিনাশ ৩/৪৬, লামিছান ২/৪১)।
নেপাল: ৪২.৩ ওভারে ১৭৪ (দিপেন্দ্র ৫৬, দিলীপ ৪১, বিনোদ ৩৩; রাহাতুল ৪/৪৫, সাইফউদ্দিন ৩/২২, আবুল হাসান ২/৪০)।
ফল: বাংলাদেশ ৮৩ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাসির হোসেন (বাংলাদেশ)।