নোট বাতিলের অভিজ্ঞতা ভাল হয়নি অনেক দেশেই

আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০১৬, ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



হঠাৎ করে নোট বাতিল করে দেশবাসীর ঘুম কেড়ে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৫০০ এবং হাজারের নোটের গরমা গরম তর্ক চলছেই। সরকারের ঘোষিত কারণ, এরফলে অর্থনীতি থেকে কালো টাকার বাড়বাড়ন্ত কমবে। আর প্রতিযুক্তি হিসেবে মানুষের হয়রানি নিয়েও বাজার গরম হচ্ছে। সেই দুই গরমে মালুমই হচ্ছে না শীত পড়েছে বলে। এমন নয় এই প্রথম কোনও দেশে নোট বাতিল হল। এর আগেও নানা দেশে নোট বাতিল হয়েছে। তার প্রভাব হয়েছে সুদূরপ্রসারি। কোথাও নোট বাতিলের ফলে উপকৃত হয়েছে দেশ। আবার কোথাও চির মন্দার গ্রাসে নিমজ্জিত হয়েছে অর্থনীতি। জেনে নেওয়া যাক কোন দেশে নোট বাতিলের কেমন প্রভাব পড়েছে।
❏ নাইজেরিয়া- ১৯৮৪ সালে মুহাম্মাদু বুহারি সরকার নাইজেরিয়ায় পুরনো নোট বাতিল করে নতুন নোট আনে। সেই থেকে আকণ্ঠ ঋণে ডুবে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি। মন্দাও চলছে সমানে। নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পর থেকেই অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে।
❏ ঘানা- ১৯৮২ সালে কর ফাঁকি আটকাতে ৫০ সিডেস নোট বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্ত ভালভাবে নেয়নি ঘানার জনগন। তারা হঠাৎ করে জমি, বাড়ি, পোশাক–আশাক কিনতে শুরু করে। ব্যাঙ্কে টাকা না রাখায় এরফলে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে।
❏ পাকিস্তান- ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে পাকিস্তানেও চালু হচ্ছে নতুন নোট। দেড় বছর আগে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই সেখানকার জনগন নোট বদলের সময় পাচ্ছেন।
❏ জিম্বাবোয়ে- ভাবা যায়, একটা দেশে চলছে স্থানীয় মুদ্রায় হাজার কোটি ডলারের নোট। হ্যাঁ, জিম্বাবোয়েতে এমনটাই চলছিল। পরে ডিমনিটাইজেশনের পর এই নোট গুলোর মূল্য দাঁড়ায় মাত্র ০.৫ ডলার।
❏ উত্তর কোরিয়া- ২০১০ সালে এই দেশে পুরনো নোট বাতিলের পর মানুষ খাদ্য এবং বাসস্থান হারায়। ভারতেই মতই কালো বাজারি রুখতে আগের সমস্ত নোট বাতিল করা হয়েছিল সে দেশে।
❏ সোভিয়েত ইউনিয়ন- কালো বাজারি রুখতে পূর্বতন সোভিয়েত সরকার আগের বড় অঙ্কের সব নোট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। মানুষ সেই সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নেয়নি। পরিশেষে, দেশ টুকরো টুকরো হয়ে যায় ডিমনিটাইজেশনের সিদ্ধান্তে।
❏ অস্ট্রেলিয়া- এই দেশেই প্রথম পলিমার নোট বার হয়। জাল টাকার রমরমা রুখতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে তার কোনও বিরূপ প্রভাব পড়েনি অর্থনীতিতে।
❏ মায়ানমার- ১৯৮৭ সালে মিলিটারি জুন্টারা ৮০ শতাংশ নোট বাতিল করে দেয়। কালো বাজারি রুখতেই এই সিদ্ধান্ত। অর্থনীতি অচল হয়ে যায়। বিক্ষোভে পথে নামেন মান্ষু। অনেকের মৃত্যু হয়।- আজকাল