নোট বাতিলের ধাক্কা লাগবে: অমর্ত্য সেন

আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, শান্তিনিকেতনÍ নোট বাতিলের বিরোধিতা করা মানেই কালো টাকাকে সমর্থন নয়। শুক্রবার শান্তিনিকেতনে বললেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অমর্ত্য বললেন, ‘অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, আপনি দুর্নীতির পক্ষে, না বিপক্ষে? বিপক্ষে মানেই আপনি নোটবন্দীর পক্ষে।’ আসলে কোনও পরিকল্পনা বা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে মনে হয় না। এতে শুধু মিড–ডে মিল নয়, ধানকাটার মরশুমেও অনেক ক্ষতি হয়েছে। পরের শস্য উৎপাদন কি ভয়ানক পরিস্থিতিতে গিয়ে দাঁড়াবে, তা বোঝা যাবে। প্রতীচী (ইন্ডিয়া) ট্রাস্টের সভায় অমর্ত্য বলেন, নোট বাতিল  হয়েছে তড়িঘড়ি, আগাম ব্যবস্থা না নিয়েই। অর্থনীতিতে এর বিপরীতমুখী ফল হতে পারে। পরে তিনি শিক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়নে পরীক্ষাব্যবস্থার ওপর জোর দিলেন। তাঁর মতে, পাস–ফেল তুলে দিতে গিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। পরীক্ষার শেষে প্রগতি নির্ধারণ করা মঙ্গলজনক, তবে পিছিয়েপড়া, অর্থাৎ ফেল করা ছাত্রদের বারবার আটকে রাখার সামাজিক ফল অশুভ। তাই তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে। এদিন শান্তিনিকেতনে ‘শিক্ষার অধিকার আইনের অর্ধদশক লক্ষ্য থেকে কতটা দূর’ শীর্ষক দু দিনের কর্মশালায় অংশ নেন অমর্ত্য। প্রতীচীর উদ্যোগে এই কর্মশালায় এবং পরে এক সংবাদ সম্মেলনে অমর্ত্য পাসফেল থেকে নোট বাতিল সব বিষয়েই মুখ খুলেছেন। পাসফেলের বিরুদ্ধে মতামত উঠে এলেও অমর্ত্য বলেন, প্রতীচীর বক্তব্য আলাদা হলেও আমার ব্যক্তিগত মত, প্রগতি দেখা দরকার। এশিয়ার মধ্যে যে সব দেশ শিক্ষায় এগিয়ে, সেখানে বার্ষিক পরীক্ষায় জোর দেয়া হয়। কারণ প্রগতি নির্ধারণের ব্যবস্থা না থাকলে ‘পড়লেও হবে, না পড়লেও হবে’ গোছের মানসিকতা তৈরি হয়ে যায়। কর্মশালায় ছাত্রদের পাশাপাশি শিক্ষক ও আধিকারিকদেরও মূল্যায়নের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা, পর্যাপ্ত সংখ্যায় বিদ্যালয় পরিদর্শক না থাকা নিয়ে প্রচ্ছন্নভাবে রাজ্য সরকারের সমালোচনাও করা হয়েছে। প্রতীচীর রেজলিউশনে শিক্ষার অধিকার আইন ভাঙার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য, দুই সরকারকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে কেন্দ্রের পাসফেল প্রথা চালু করার পরিকল্পনার কথা এবং রাজ্যের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য জন্মের শংসাপত্র আব্যশিক করার কথা বলা হয়েছে। দুটি ক্ষেত্রেই শিক্ষার অধিকার আইন লঙ্ঘিত বলে অভিযোগ।- আজকাল

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ